বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্যামনগরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু

‘পুষ্টি বৈষম্য দূর করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান’

পত্রদূত ডেস্ক: “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলনকক্ষে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সঠিক পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ে পুষ্টি সচেতনতা পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন।

আলোচনা সভায় পুষ্টিহীনতা দূর করতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পুষ্টিকর খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে পুষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

Ads small one

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে

পত্রদূত রিপোর্ট: বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণ করে দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।
সাতক্ষীরায়ও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আজ সংবাদপত্রের প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাওহিদ, ন্যায়, সত্য, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ইসলামের শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী মানবসমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনা (রা.)-কেও হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর চরিত্রে সততা, আমানতদারি, সংযম ও উত্তম নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। এ কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে অভিহিত করেন।

মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় সংঘাত, হিংসা, অন্যায় ও বৈষম্য তখন সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন।

চল্লিশ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, অন্যায় ও বৈষম্য পরিহার করে ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেন।

মক্কার জীবনে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মদিনার সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সহাবস্থান, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রায় ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা রয়েছে। তাঁল আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে আজকের দিনেও।
মহানবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর ঘটনা। তাঁর সাহাবিদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর পার্থিব জীবনের অবসান তাঁদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকে নফল রোজাও রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ-মাহফিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ১৪৪৮ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও কর্মে রয়েছে মানবতা, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য শিক্ষা।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও চরিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

সংবাদদাতা: ঢাকার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার কৃতী ক্রীড়াবিদ তৌফিকুজ্জামান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এম আব্দুর রউফের ছেলে।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন সহনশীলতাভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় এমটিভি ক্যাটাগরিতে সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তৌফিকুজ্জামান।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন, শারীরিক সক্ষমতা, আত্মনিবেদন ও দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তৌফিকুজ্জামান এ সাফল্য অর্জন করেন।
এর আগে একই প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৫ সালে প্রথম রানারআপ হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। ধারাবাহিক এই সাফল্যে সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৌফিকুজ্জামানের এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তৌফিকুজ্জামান বলেন, এই অর্জন শুধু আমার নয়; এটি আমার পরিবার, কোচ ও সকল শুভাকাঙ্খীর। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আমি নিরলস পরিশ্রম করে যাব।