বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল জয়ের মাধ্যমে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আগামী জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই কংগ্রেস ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে যাচ্ছে। যদিও ডেমোক্র্যাটদের নীতি পাসের ও তদারকির ক্ষমতা বেড়েছে, তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এখনও প্রচুর নির্বাহী ক্ষমতা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান, তবে একই সময়ে মানুষ ইরানের বিষয়ে আমার পদক্ষেপের গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে।

মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন পেতে ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয়কেই প্রচারণার মূল হাতিয়ার বানায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেন। ১১ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারি বাজেট বিলের মেয়াদ শেষ হলে নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সামরিক তহবিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক জেমস বয়েস জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা উপস্থিত থাকা অবস্থায় অর্থ বন্ধ করাটা কঠিন, কারণ এটি মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার সামিল হবে।

অন্যদিকে, ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশনের মাধ্যমে ট্রাম্পকে থামানো অসম্ভব হতে পারে। এই আইনে সামরিক অভিযান চালাতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন বা যুদ্ধ ঘোষণার নিয়ম রয়েছে। তা না হলে প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমান ডেমোক্র্যাটদের নেই। ইউসিডি ক্লিনটন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্কট লুকাস বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করে আইন প্রস্তাব করতে পারে। যেমন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং সম্প্রতি ইরানকে বার্তা পাঠিয়েছেন।

তবে জেমস বয়েসের মতে, এটি ট্রাম্পের শেষ মেয়াদ হওয়ায় নির্বাচনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় তিনি উল্টো আরও বিশ্বমঞ্চে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়াতে পারেন।

শুল্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বিশ্ববাজারকে তোলপাড় করে প্রায় ৯০টি দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেন। কিন্তু এর পরপরই ট্রাম্প অন্য আইনের অধীনে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করে শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন, যা ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকে এবং বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের দরকার হয়।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই শুল্কনীতিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী করে অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কাটছেন’। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস রফতানিকারকদের কিছুটা সাময়িক স্বস্তি দিতে ছাড় দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি পরিবর্তন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সম্ভব নয়। জেমস বয়েস জানান, শুল্ক মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং আগে আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

তবে চীনকে প্রযুক্তির নাগাল থেকে দূরে রাখতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা একমত। রিমোট অ্যাক্সেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ও প্রযুক্তির রফতানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বজায় রাখবে নতুন কংগ্রেস।

অভিবাসন ও তদন্তের ক্ষমতা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় সব সংসদীয় কমিটির প্রধান হবেন ডেমোক্র্যাটরা, যার ফলে সাক্ষী তলব ও তদন্তের ক্ষমতা তাদের হাতে আসছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসা, জেফরি অ্যাপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তদন্ত হতে পারে। এমনকি ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের চেষ্টাও হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের বিতর্কিত গণ-বিতাড়ন ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন কর বিভাগ (আইআরএস) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যৌথ অভিযান নিয়ে তারা তলব পাঠাতে পারে। নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন অভিবাসনবিরোধী এই কড়াকড়ি ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ হয়ে গেছে। স্কট লুকাস মনে করেন, এই ফলের পর ডেমোক্র্যাট ও দায়িত্বশীল রিপাবলিকানরা স্থানীয় কমিউনিটিগুলোকে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারবেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি