তালায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর, ছিঁড়ে নেওয়া হলো কানের লতি
তালা প্রতিনিধি: বাড়ির পাশের এক চিলতে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। কিন্তু সেই বিরোধ যে এমন নৃশংস রূপ নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি আমেনা বেগম। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষের হামলায় কানের লতি ছিঁড়ে রক্তাক্ত হয়েছেন এই প্রবাসীর স্ত্রী। আহত হয়েছেন তার জা ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েও। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধুলান্ডা গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ধুলান্ডা গ্রামের প্রবাসী আহাদ শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী হাফিজুর রহমানের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে ওই জমিতে জোরপূর্বক বেড়া দিতে যান হাফিজুর। আহাদ শেখের স্ত্রী আমেনা বেগম (৪০) এতে বাধা দিলে শুরু হয় বাগ্বিত-া। একপর্যায়ে হাফিজুর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল নিয়ে আমেনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
হামলা চলাকালে আমেনার কানে থাকা সোনার দুল ধরে হ্যাঁচকা টান দেওয়া হলে তার কানের লতি দ্বিখ-িত হয়ে যায়। প্রচুর রক্তক্ষরণে নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছোট জা হাসনা হেনা মুন্নি (৩০) ও এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে রিয়া আক্তার মারিয়ামকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
ভুক্তভোগী আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, মারধরের পর অভিযুক্তরা লাঠি নিয়ে তাদের বাড়ির প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। দীর্ঘক্ষণ তাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
আমেনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ও দেবর দুজনেই প্রবাসে। বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই বলে হাফিজুর আমাদের ওপর এই জুলুম করেছে। আমার কানের লতি ছিঁড়ে ফেলেছে, গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা বিচার চাই।”
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধস্তাধস্তির চিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পড়ে আছে মেহগনি গাছের ডাল ও রক্তাক্ত কাপড়। আমেনা বেগমের কানের ক্ষত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। আহত মুন্নির মুখে এবং কিশোরী রিয়ার পায়েও জখম দেখা গেছে।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান মারামারির কথা স্বীকার করলেও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কানের লতি কীভাবে ছিঁড়েছে, সে বিষয়েও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








