সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস: শান্তির জন্য প্রতিদিন বিনিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস: শান্তির জন্য প্রতিদিন বিনিয়োগ

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিজয়ের প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষের জীবনে ফিরে আসে নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার ও স্বস্তি। তাই শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার নাম নয়Ñশান্তি হলো মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার, সমান সুযোগ ও সহযোগিতার পরিবেশ।

 

বিশ্বব্যাপী শান্তি ও অহিংসার আদর্শকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩৬/৬৭নং প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৯৮১ সালে দিবসটির সূচনা হয়। ২০০১ সালে ৫৫/২৮২নং প্রস্তাবের মাধ্যমে ২১ সেপ্টেম্বরকে স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং দিনটিকে বৈশ্বিক যুদ্ধবিরতি ও অহিংসার দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম শান্তি দিবস পালিত হয় ১৯৮২ সালে। শুরুতে দিবসটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালের সিদ্ধান্তে ২১ সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট তারিখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের আহ্বান হলোÑএই দিনে সংঘাতরত পক্ষগুলো যেন অন্তত এক দিনের জন্য শত্রুতা বন্ধ করে এবং শিক্ষা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে শান্তির মূল্যবোধকে এগিয়ে নেয়।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুনÑসবার জন্য, সব জায়গায়, প্রতিদিন।’ এবারের বার্তা বিশেষভাবে তুলে ধরছে শান্তির ‘দৈনন্দিন কারিগরদের’Ñযারা পরিবার, বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, গ্রাম-মহল্লা ও সমাজে বিভেদ কমিয়ে সংলাপ, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলছেন। জাতিসংঘ মতে, শান্তি কেবল কূটনৈতিক সম্মেলনের টেবিলে তৈরি হয় না; মানুষের দৈনন্দিন আচরণ ও স্থানীয় উদ্যোগেও শান্তির ভিত্তি নির্মিত হয়।

‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ কথাটি শুধু অর্থ ব্যয়ের বিষয় নয়। এর অর্থ হলো যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে সংঘাতের মূল কারণগুলো আগে থেকেই মোকাবিলা করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, জলবায়ু সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিনিয়োগ শান্তির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি তৈরি করে। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের বার্তাতেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, মানবাধিকার, কূটনীতি, সংলাপ, আলোচনা ও শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘সবার জন্য’ মানে শান্তি কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা আর্থিক অবস্থার মানুষের একচেটিয়া অধিকার নয়। ‘সব জায়গায়’ মানে একটি অঞ্চলের সংঘাত অন্য অঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। আর ‘প্রতিদিন’ মনে করিয়ে দেয়Ñশান্তি কোনো এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিদিনের চর্চা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংঘাতের ক্ষেত্রে সংলাপ ও মধ্যস্থতা, শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাÑএসবের মাধ্যমে সংস্থাটি শান্তির ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করে। শান্তিরক্ষা মিশনগুলো সংঘাতপূর্ণ দেশে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে।

২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ১১টি সক্রিয় শান্তিরক্ষা মিশন রয়েছে। এগুলো হলোÑপশ্চিম সাহারায়- মিনুরসো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে- মিনুসকা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে- মনুস্কো, গোলানে- আনডফ, সাইপ্রাসে- আনফিসাইপ, লেবাননে- ইউনিফিল, আবেইয়ে- ইউনিসফা, কসোভোতে- ইউনমিক, দক্ষিণ সুদানে- ইউনমিস, ভারত-পাকিস্তান এলাকায়- ইউনমোগিপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে- আনটসো।

কিন্তু জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নানা কাঠামোগত ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো ক্ষমতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংকটে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়। আবার জাতিসংঘের নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী না থাকায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনবল ও সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হয়, ফলে দ্রুত সেনা মোতায়েন সবসময় সম্ভব হয় না। সীমিত ম্যান্ডেট ও শক্তি প্রয়োগের বিধিনিষেধের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক জনগণকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি অর্থায়নের ঘাটতি, লজিস্টিক সংকট এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সম্মতির বিষয়টি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তোলে।

এ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের বিকল্প কোনো কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কূটনীতি, মধ্যস্থতা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সংস্থাটি বড় ধরনের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কম্বোডিয়া, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও পূর্ব তিমুরের মতো দেশে শান্তিরক্ষা মিশন সংঘাত-পরবর্তী স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, শরণার্থীদের সহায়তা, নির্বাচন আয়োজন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের হাজারো শান্তিরক্ষী ঝুঁকি নিয়ে এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে বিশ্বশান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে দৃশ্যমান। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যাত্রা শুরু। ২০২৬ সালের জুনে জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত ২,০৬,৪৭৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ৯টি মিশনে ৪,২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত ছিলেন। একই তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সাল থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন দিয়েছেন এবং ২৮৭ জন আহত হয়েছেন।
নারী শান্তিরক্ষীর অংশগ্রহণও বাংলাদেশের অবদানের গুরুত্বপূর্ণ দিক। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীরা প্রায় ১১ শতাংশ নারী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নারী ও শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ, সুরক্ষা ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদেও আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতি উন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো; শান্তি কেবল রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক কিংবা শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব নয়। পরিবারে সহনশীলতা, সমাজে সম্প্রীতি, মতভেদে সংলাপ, দুর্বল মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান, এসব ছোট ছোট কাজই বৃহত্তর শান্তির ভিত্তি তৈরি করে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ‘শান্তির ঘণ্টা’ প্রতি বছর এই দিবসের প্রতীকী আহ্বানকে সামনে আনে। ২০২৬ সালেও শান্তির ঘণ্টা বাজিয়ে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছেÑশান্তি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

আজকের সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে তাই ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ কোনো আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য একটি বাস্তব কর্মসূচি। অস্ত্রের প্রতিযোগিতার বদলে শিক্ষা, বৈষম্যের বদলে সমতা, ঘৃণার বদলে সংলাপ এবং সংঘাতের বদলে সহযোগিতাকে বেছে নেওয়ার মধ্যেই শান্তির পথ নিহিত। সবার জন্য, সব জায়গায়, প্রতিদিনÑশান্তিতে বিনিয়োগই হতে পারে মানবতার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।

Ads small one

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

ন্যাম ভবন থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ব্রিফ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনটির লোকজন। এসময় শেরেবাংলা নগর থানায় ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে পিবিআই এবং সিআইডি’র ফরেনসিক টিমকে আসতে বলেন।

ব্রিফিংয়ে ইবনে মিজান জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় এই দুজন ওই ফ্ল্যাটে ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামী ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কার আদেশে দলীয় তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং তারা চলতি বছরের ১৭ জুন বিয়ে করেছেন।

বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানালেও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তার এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও বিতর্ক হয় এবং একটি কমিটি থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, বহিষ্কারের পরও ‘খাতা-কলমে’ তিনি জামায়াতের সদস্য। এ বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪০ পূর্বাহ্ণ
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে অবমূল্যায়নের ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশি টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গত এক বছরের হিসাবে টাকার মান বেড়েছে দশমিক ০৬ শতাংশ। আর ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হয়েছে দশমিক ৭৭ শতাংশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে। এই সময়ে এক ডলারের বিপরীতে টাকার দর ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় ওঠে। অর্থাৎ এই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৩৮ টাকা ২০ পয়সা বা ৪৫ দশমিক ০৫ শতাংশ।

তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ৩০ আগস্ট ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় ওঠার পর ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। ফলে ওই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৯৫ পয়সা।

যেভাবে কমেছে টাকার মান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে তা কমে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় নামে। অর্থাৎ এক বছরে ডলারের দাম কমেছিল ১০ পয়সা। বিপরীতে টাকার মান বেড়েছিল দশমিক ১২ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কম থাকা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ওই সময়ে ডলারের চাহিদা ও সংকট তুলনামূলক কম ছিল। ফলে টাকার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছিল।

কিন্তু ২০২১ সাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশে আমদানিও বাড়ে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠে। ওই বছর টাকার মান কমে যায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

এরপর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। একই সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় দেশে ডলারের সংকট আরও তীব্র হয়।

ফলে ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১০৫ টাকা ৮৫ পয়সায়। এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছিল ২০ টাকা ৫ পয়সা বা ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই হারে কমে যায় টাকার মান।

এরপরও টাকার ওপর চাপ অব্যাহত ছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে ১১০ টাকা হয়। ওই বছর ডলারের দাম বাড়ে ৪ টাকা ১৫ পয়সা বা ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম আরও ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় ওঠে। এক বছরে টাকার মান কমে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

২০২৫ সালেও টাকার অবমূল্যায়ন অব্যাহত ছিল। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে ১২২ টাকা ৩৩ পয়সায় দাঁড়ায়। এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এবার উল্টো চিত্র

তবে চলতি বছর এসে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের ধারায় পরিবর্তন এসেছে। গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত হিসাবে টাকার মান কমার পরিবর্তে বেড়েছে দশমিক ০৬ শতাংশ।

এরপর আগস্টের শেষ দিকে ডলারের দর আবার কিছুটা বাড়লেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তা কমে আসে। ৩০ আগস্ট প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, এই সময়ে টাকার মান বেড়েছে দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতিও তুলে ধরা হয়েছে। গত বছরের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে বেশ কয়েকটি দেশের মুদ্রার মান কমেছে।

এ সময়ে ভারতের রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার মুদ্রার মান কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহর মান কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে একই সময়ে মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ও চীনের ইউয়ানের মান বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ করে। পাকিস্তানি রুপির মান বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।

অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে অবমূল্যায়নের পর চলতি সময়ে বাংলাদেশি টাকা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে।

টাকার মান কমলে যে চাপ বাড়ে

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানি ব্যয়ের ওপর। আমদানিকারকদের বেশি টাকা দিয়ে একই পরিমাণ ডলার কিনতে হয়। এতে আমদানি করা জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের খরচ বাড়ে।

এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে। পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ে।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া ঋণের বিপরীতে বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়। ফলে টাকার অবমূল্যায়নের সঙ্গে দেশের বৈদেশিক ঋণের টাকার অঙ্কের দায়ও বাড়ে।

অন্যদিকে টাকার মান শক্তিশালী হলে আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমে এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে টাকার হিসাবে চাপ কমতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে আমদানি, রফতানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।

 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো লিটারে ২০ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো লিটারে ২০ টাকা

দেশের এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন; চার ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। আজ রবিবার (২২০ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে।

এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়৷