বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস : ভাষায় রূপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস : ভাষায় রূপ

সাকিবুর রহমান বাবলা
মানুষের ভাষা শুধু শব্দের সমষ্টি নয়; ভাষা হলো ভাবনা, অনুভূতি, জ্ঞান, সংস্কৃতি ও অধিকার প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শ্রবণপ্রতিবন্ধী ও বধির মানুষের জন্য সাংকেতিক ভাষা সেই প্রকাশের পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিক ভাষা। তাই এটি কোনো দয়া বা বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা নয়Ñএটি ভাষাগত পরিচয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাংকেতিক ভাষা দিবস পালিত হয়। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতভাবে এ/আরইএস/৭২/১৬১ গ্রহণ করে দিনটি ঘোষণা করে; ২০১৮ সালে প্রথম দিবসটি পালিত হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর বেছে নেওয়া হয়, কারণ ১৯৫১ সালের এই দিনে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব দ্য ডেফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যÑ’বধির ব্যক্তিদের মানবাধিকার ঘোষণা’। এবারের আহ্বান হলো জাতীয় সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বধির মানুষের পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব দ্য ডেফ-এর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ সনদ গ্রহণের ২০ বছর পূর্তিও হচ্ছে। একই প্রতিপাদ্যে ২১–২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বধির সপ্তাহ।

সাংকেতিক ভাষা হাত, আঙুল, মুখের অভিব্যক্তি, শরীরের ভঙ্গি ও স্থানিক গতিবিধির সমন্বয়ে দৃশ্যমানভাবে ব্যবহৃত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ভাষা। এর নিজস্ব ব্যাকরণ, শব্দভা-ার ও বাক্যগঠন রয়েছে এবং এটি কথ্য ভাষার সরাসরি অনুবাদমাত্র নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় সাংকেতিক ভাষা গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৭০ মিলিয়নেরও বেশি বধির মানুষ রয়েছেন এবং তাঁরা ৩০০টিরও বেশি সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ব্যবহৃত ইন্টারন্যাশনাল সাইন তুলনামূলকভাবে সীমিত শব্দভা-ারের একটি পিজিনধর্মী রূপ; এটি কোনো একটি দেশের জাতীয় সাংকেতিক ভাষার বিকল্প নয়।

ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সাংকেতিক ভাষা মানুষের ভাষা অর্জনের স্বাভাবিক সক্ষমতারই একটি প্রকাশ। এটি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা জিনের মাধ্যমে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভাষা নয়; বরং শিশুর সামাজিক পরিবেশ, পরিবার, শিক্ষা ও ভাষাগত সম্প্রদায়ের মধ্যে শেখা ও বিকশিত হয়। তাই বধির শিশুর শৈশবেই সাংকেতিক ভাষায় প্রবেশাধিকার পাওয়া তার জ্ঞানীয়, ভাষাগত, সামাজিক ও শিক্ষাগত বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘও প্রাথমিক পর্যায়ে সাংকেতিক ভাষা ও মানসম্মত সাংকেতিক-ভাষাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করেছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘ভাষা’র সংজ্ঞায় স্পোকেন ল্যাঙ্গুয়েজ-এর পাশাপাশি সাইনেড ল্যাঙ্গুয়েজ-ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ, তথ্যপ্রাপ্তি ও সরকারি যোগাযোগে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের অধিকার সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ শিক্ষা ক্ষেত্রে সাংকেতিক ভাষা শেখার সুযোগ ও উপযুক্ত সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে। আর ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ বধির মানুষের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচয়, বিশেষত সাংকেতিক ভাষা ও ডেফ কালচার-এর স্বীকৃতি ও সমর্থনের কথা বলে।

অতএব, সাংকেতিক ভাষার অধিকার মানে শুধু যোগাযোগের সুবিধা নয়; এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিচার, কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রাপ্তি, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার সরাসরি যুক্ত। ‘আমাদের বাদ দিয়ে আমাদের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নয়’Ñএই নীতিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ২(১৬) ধারায় বাংলা ইশারা ভাষাকে শ্রবণপ্রতিবন্ধী ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত, অন্যান্য ভাষার মতো গতিশীল ও পরিবর্তনশীল ভাষা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই আইনের ১৬ ধারায় শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলা ইশারা ভাষাকে প্রথম ভাষা হিসেবে গ্রহণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে আইন স্বীকৃতি দেওয়ার পরও বাস্তব প্রয়োগই বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ শিক্ষক ও দোভাষী, হাসপাতাল ও আদালতে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা, সরকারি তথ্য ও গণমাধ্যমে সাংকেতিক ভাষার প্রবেশগম্যতা এবং প্রশিক্ষিত দোভাষীর পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।
শ্রবণহানি ও বধিরতার বিষয়টি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৪৩০ মিলিয়ন মানুষ এমন মাত্রার শ্রবণহানিতে রয়েছেন যার জন্য পুনর্বাসন প্রয়োজন; ২০৫০ সালের মধ্যে কোনো না কোনো মাত্রার শ্রবণহানি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২.৫ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে শ্রবণহানি এবং বধির সাংকেতিক-ভাষী জনগোষ্ঠী একই পরিসংখ্যানগত শ্রেণি নয়Ñএই পার্থক্যটিও বোঝা জরুরি।

সুতরাং ২৩ সেপ্টেম্বরের তাৎপর্য কেবল একটি দিবস পালন নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়Ñভাষার অধিকার থেকেই জ্ঞানার্জনের অধিকার, আর জ্ঞান ও যোগাযোগের অধিকার থেকেই পূর্ণ মানবিক অংশগ্রহণের পথ তৈরি হয়। জাতীয় সাংকেতিক ভাষার স্বীকৃতি, প্রাথমিক বয়সে ভাষা শেখার সুযোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য, বিচার ও সরকারি সেবায় কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই ‘মানবাধিকার সবার জন্য’Ñএই নীতির বাস্তব অর্থ প্রতিষ্ঠিত হবে।

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।