মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ ও মাছের ঘের দখলচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ ও মাছের ঘের দখলচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম’র মাছের ঘের বারবার জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে এবং খাস জমি থেকে দুইটি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে শ্রীউলা ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মো. আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন কৃষক ও ভূমিহীন হিসেবে ২০২৫ সাল থেকে লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজার সরকারি ১নং খতিয়ানের ২৫২৫ দাগে আমার ভাইসহ দুই একর জমি ইজারা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। কিন্তু দখলে থাকা অবস্থায় বিবাদীরা একাধিকবার মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যেগুলো ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১১ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তার দখলীয় মাছের ঘেরে লাঙ্গলদাড়িয়া কতিপয় ব্যক্তির নেতৃত্বে অবৈধভাবে প্রবেশ করে খাসজমিতে বসবাসরত দুইটি ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। একই সঙ্গে তার মাছের ঘের দখলের অপচেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় মানববন্ধন শ্রীউল ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও সহ: সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল করিম সরদার এবং মরিয়ম বিবি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কৌশলে খাস জমি ও মাছের ঘের দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ভূমিদস্যুতা, জবরদখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এসময় মানববন্ধনে কোহিনুর, ইয়াসিন আলী, মতিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান, ডা.রিপন, কাজল, আবু সাঈদসহ এলাকা শতাধিক ভুক্তভোগে উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

শফিকুলের বিদেশ যাওয়ার ঋণই শোধ হয়নি, পরিবারের সামনে এখন শুধুই অন্ধকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
শফিকুলের বিদেশ যাওয়ার ঋণই শোধ হয়নি, পরিবারের সামনে এখন শুধুই অন্ধকার

পত্রদূত রিপোর্ট: দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে কোনো রকমে চলছিল সংসার। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী আর দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সেই পরিবারে ছিল না স্বচ্ছলতার ছোঁয়া। তবুও বুকভরা স্বপ্ন ছিল শফিকুল ইসলামের-দুই মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করবেন, মাথার ওপর জমে থাকা ঋণের বোঝা নামাবেন, আর পরিবারের মুখে ফোটাবেন হাসি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই মাত্র দুই মাস আগে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল। কিন্তু নির্মম এক ইসরায়েলি ড্রোন হামলা মুহূর্তেই শেষ করে দিল তার সব স্বপ্ন, সব আশা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর একমাত্র ছেলে শফিকুল ইসলাম। সংসারের অভাব দূর করতে এনজিও, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গত ৩ মার্চ লেবাননে যান তিনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

স্বজনরা জানান, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের জেবদিন এলাকায় ফলের বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শফিকুল। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়। ভয়াবহ সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল শফিকুলের। ফোনে স্ত্রী রুমা খাতুনকে বলেছিলেন, মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে খেয়াল রেখো। ওদের যেন কোনো কষ্ট না হয়। আর কিছুদিন কষ্ট করলেই সব ঋণ শোধ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই কথাই হয়ে রইল শেষ কথা।

এখন শফিকুলের বাড়িতে গেলে শুধু কান্নার শব্দ শোনা যায়। স্বামী হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী রুমা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাথর হয়ে গেছেন বাবা আফসার আলী। বুকফাটা আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন মা আজেয়া খাতুন। ছোট দুই মেয়েও বুঝে গেছে-তাদের বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না।
বড় মেয়ে তামান্না আক্তার মৌ বাবার কথা মনে করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আব্বু বলছিলেন আমাকে অনেক পড়াশোনা করাবেন। এখন আমাদের কে দেখবে? তামান্না আক্তার মৌ ভালুকা চাঁদপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী।

ছোট মেয়ে তন্নি আক্তার বৃষ্টির চোখেও শুধু অশ্রু। বাবার সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে নির্বাক হয়ে বসে আছে সে। তন্নী আক্তার ও কেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মেধা বিষয়ক শিক্ষার্থী।

শফিকুল পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। তিন কাঠা জমির ওপর ছোট্ট একটি আধাপাকা বাড়িই ছিল তাদের একমাত্র সম্বল। সংসারের অভাব ঘোচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য বদলাতে গিয়ে এখন লাশ হয়ে ফিরছেন দেশে।

একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু, অন্যদিকে মাথার ওপর প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা-সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত যেন শফিকুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে চান তার বাবা-মা। গ্রামের মাটিতেই তাকে দাফন করার আকুতি জানিয়েছেন তারা।

ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী বলেন, শফিকুল খুবই ভালো ও পরিশ্রমী ছেলে ছিল। পরিবারের জন্যই বিদেশে গিয়েছিল। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাহত। সরকার যেন পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

 

 

সাতক্ষীরায় প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ জেলার সকল সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সরকারি অবকাঠামোর ছাদে দ্রুত রুফটপ সোলার স্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণসহ ৫ দফা দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের পক্ষে দেবজ্যেতি ঘোষ, শরিফুল ইসলাম, তাপস বিস্বাস, প্রসেনজিৎ দে ও জারিন তাসমিন।

 

বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশের পক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের স্মারকলিপিতে রূফটপ সোলার স্থাপনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা, সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করা; স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সম্পৃক্ত ও উৎসাহিত করা; নেট-মিটারিং সুবিধা সহজতর ও জনবান্ধব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় জোরদার করা; এবং সাধারণ জনগণের মাঝে রুফটপ সোলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করার দাবী জানানো হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

জলদস্যুদের ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলা ১৮ বনজীবী, এখনও নিখোঁজ ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
জলদস্যুদের ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলা ১৮ বনজীবী, এখনও নিখোঁজ ২

পত্রদূত রিপোর্ট: মুক্তিপণের দাবিতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের নদীতে থেকে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ২০ জন জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন প্রায় ৭ লাখ টাকা দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলে-মৌয়ালরা সোমবার (১১ মে) বিকাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও এখনও মুক্তি মেলেনি দুই জেলের। ফলে নিখোঁজ দু’জনকে ঘিরে তাদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহৃতদের মহাজন ও তাদের স্বজনরা জানান, দস্যুদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত মুক্তিপণ থেকে কিছু টাকা কমিয়ে সমঝোতা করা হয়। পরে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর পর একে একে জেলে ও মৌয়ালদের ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া বনজীবী মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুই জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বনদস্যুদের বিকাশ নম্বরে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে জানা গেছে।

ফিরে আসা জেলে ও মৌয়ালরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের দৌরাত্ম বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত টহল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ মশিউর রহমান বলেন, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না। তারা সহযোগিতা করলে আমরা সুন্দরবনের দস্যু দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।