বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের উদ্যোক্তা ও কৃষক হিসাবে তৈয়েবুর রহমান সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মিষ্টি আঙ্গুর চাষে বিপ্লব ঘটেছে। যা লবনাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একেবারেই নতুন ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আঙ্গুর চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

উপজেলায় কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের উদ্যমী উদ্যোক্তা ও নার্সারী ব্যবসায়ী তৈয়েবুর রহমান আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরেজমিনে তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন শতক জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি আঙ্গুর চাষ করছেন। মাচার উপর গাছ ছড়িয়ে আছে। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে বিদেশি ফল আঙুর। এমন দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হবে বিদেশে আঙুর চাষের দৃশ্য। তার সংগ্রহে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের বাইকোনুর, পার্পেল, গ্রিন লং, একলো এবং সুপার নোভাসহ ১০ টি জাতের আঙুর গাছ আছে। তার বাগানে প্রায় এক হাজার ছোট চারা রয়েছে। যা এক শত থেকে তিন শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যমী উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান জানান, শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। অনলাইনে ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট দেখে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির উঠানে মাত্র দুটি আঙ্গুর গাছ রোপণ করেন। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন হওয়ায় তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সাত আট মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে আঙ্গুর গাছ লাগান।

 

বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙ্গুর ধরেছে। ছোট বড় থোকা ঝুলছে, যার ওজন প্রায় পাঁচ শত গ্রাম থেকে এক কেজিও বেশি হয়েছে। গাছগুলোতে ফলের পরিমাণ ও মান দেখে স্থানীয় মানুষজন বিস্মিত এবং আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার বাগানে প্রতিনিয়ত স্থানীয় কৃষকরা পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং নতুনভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আঙ্গুর চাষ করতে চাহিলে, আমি তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি। আমাদের এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা নতুনভাবে লাভবান হতে পারবেন। এখন আঙ্গুর চাষে সফলতা পেয়ে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ করতে চাই।

মূলত জিও ব্যাগে চাষ করার ফলে গাছের শিকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি, সার ও পানি ব্যবস্থাপনা করা যায়। এছাড়া মাচা পদ্ধতিতে গাছগুলো উপরের দিকে ছড়িয়ে দেওয়ায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই বৃদ্ধি পায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় লবনাক্ত এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুরের জন্য অনুকূল নয় বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন তৈয়েবুর রহমান। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা উন্মুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

পাইকগাছার উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান উপকূলের মাটিতে আঙ্গুরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। লবণাক্ততা আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রতিকূলতাকে জয় করে আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

 

 

Ads small one

শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন ভাল। দেখছেন লাভের মুখ। বাড়ছে পাটের চাষ। খুশি চাষিরা।

কৃষি প্রধান উপজোলা শার্শা। চলতি মৌসুমে টার্গেট অতিরিক্ত হয়েছে পাটের আবাদ। ফলনও হয়েছে ভাল। প্রতি বিঘায় ফলছে ১০ থেকে ১২ মন পাট। কেউ কাটছেন পাট, আবার কোথাও চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ।

 

সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। প্রতিমন পাট বিাক্রি হচ্ছে ৩৫ শ থেকে ৩৬ শ টাকা। পাটখড়ির দামও পাচ্ছেন ভাল। ফলে পাটের দাম ভাল সহ বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকেরা।

চলছে পাটের আশ ছাড়ানোর কাজ। এবার পাটের ফলন ও দাম ভাল থাকায় শ্রমিকদের বাড়ছে উপার্যন। পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল দিন কাটছে তাদের।

যশোরের শার্শা উপজেলায় এবার চাহিদার অতিরিক্ত পাটের চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাচ্ছে কৃষকেরা। ফলে বাড়ছে চাষ। আগামীতে আরো পাট চাষের আশা কৃষি অধিদপ্তরের।

অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো পরিচর্যায় এবার পাটের ফলন হয়েছে ভালো। উপজেলায় সাত হাজার ৫ শ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে ভোমরা-বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে ভোমরা-বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা ও বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত রয়েছর স্বাভাবিক।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম সচল থাকবে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বুধবার বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটিতে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম রয়েছে বন্ধ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় শুরু হবে আমদানি-রপ্তানি। তবে বন্দরে পণ্য খালাস করা খালি ট্রাক ফিরে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

গরমের তাপদাহে ঘাসকাটতে গিয়ে স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
গরমের তাপদাহে ঘাসকাটতে গিয়ে স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু

প্রতীকি ছবি

পত্রদূত ডেস্ক: গরমের তাপদাহে ঘাস কাটার সময় স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার লাবসা ইউনিয়নের গোপিনাথপুরে এই ঘটনা ঘটে।

লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, বিগত ত্রিশ বছর ধরে কর্মরত গ্রাম পুলিশ আব্দুল খালেক মঙ্গলবার দুপুরে (৫০) বাড়ির ছাগল গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে অতি তাপদাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

পরে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান খালেক স্ট্রোক করেছেন। পরে চিকিৎসাধীন খালেক বুধবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বাদ জোহর তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, খালেকের মৃত্যুতে তিনিসহ এলাকার সকলেই গভীরভাবে শোকাহত।