এক বছরে পাকিস্তানে ১৫ লাখ শিশু অনলাইন যৌন নিপীড়নের শিকার
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ১৫ লাখ শিশু প্রযুক্তির মাধ্যমে নানা ধরনের যৌন শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ইউনিসেফ, ইকপ্যাট ইন্টারন্যাশনাল ও ইন্টারপোলের যৌথ এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সংঘাত এবং জলবায়ু সংকট শিশুদের নতুন ও বহুমুখী ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটগুলোতে সাইবার হামলা, ফ্রিজিং ব্যবস্থা অচলইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটগুলোতে সাইবার হামলা, ফ্রিজিং ব্যবস্থা অচল
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে সোমবার (১২ অক্টোবর) সাধারণ পরিষদে নিজের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করার সময় জাতিসংঘের শিশুদের প্রতি সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি নাজাত মালা মজিদ এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সংঘাত ছাড়াও জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি নিপীড়নের নতুন পথও উন্মুক্ত হচ্ছে বলে সতর্ক করেন মজিদ। তিনি এআই-সমর্থিত যৌন শোষণ, সাইবার বুলিং, ডিপফেক এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমে শিশুদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ‘ডিসরাপ্টিং হার্ম ইন পাকিস্তান’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি ১৬ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর মধ্যে অন্তত একজন গত এক বছরে কোনও না কোনও ধরনের প্রযুক্তি-ভিত্তিক যৌন শোষণ বা অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যৌন চিত্র বা কথোপকথন, অন্তরঙ্গ ছবির দাবি, সম্মতির বাইরে শিশুর ছবি শেয়ার এবং যৌন হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনাগুলোর শিকার হয়েছে শিশুরা।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অনলাইনে যৌন নিপীড়নের বেশিরভাগ ঘটনাই অপরিচিতদের দ্বারা ঘটে না। শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী ছিল তাদের পূর্বপরিচিত কেউ। আর এসব ঘটনার ৪৪ শতাংশই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভয় ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে শিশুরা প্রায়ই সাহায্য চাইতে দ্বিধাবোধ করে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিভিত্তিক যৌন নিপীড়নের শিকার অর্ধেকের বেশি শিশু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এমনকি জরিপে অংশ নেওয়া কোনও শিশুই হেল্পলাইন, সামাজিককর্মী বা পুলিশের মতো আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানায়নি।
দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং অপরিহার্য সেবার অভাব শিশু সুরক্ষার সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন নাজাত মালা মজিদ।
সূত্র: উইয়ন নিউজ








