এবার জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, এক আসামিকে গ্রেপ্তার
সাকিবুর রহমান বাবলা
একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নাগরিক কল্যাণ অনেকাংশেই নির্ভর করে তার জনসেবা ব্যবস্থার দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার ওপর। নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনসেবাকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনগণমুখী করার প্রয়াস থেকেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস এবং বাংলাদেশে উদযাপিত হয় জাতীয় জনসেবা দিবস।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০০২ সালের ২০ ডিসেম্বরের ৫৭/২৭৭ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি বছরের ২৩ জুন ‘জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস’ পালিত হয়। ১৯৭৮ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সরকারি চাকুরিজীবীদের অধিকারসংক্রান্ত ঐতিহাসিক ১৫১ নম্বর কনভেনশন গ্রহণের দিনটিকে স্মরণ করে ২০০৩ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। জনসেবার গুরুত্ব তুলে ধরা, সরকারি কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে এই পেশায় আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বব্যাপী সরকারি সেবার গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতিসংঘ প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবনী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-এর মাধ্যমে সম্মানিত করে। জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ—আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয়, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ—থেকে নির্বাচিত উদ্যোগগুলোকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি জনসেবা খাতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ডিজিটাল গভর্নেন্স, নাগরিক অংশগ্রহণ, জেন্ডার সমতা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অসামান্য উদ্যোগগুলো এই সম্মাননা লাভ করে।
এবারের প্রতিপাদ্যÑ‘জনপ্রতিষ্ঠানগুলোর রূপান্তর: উদ্ভাবন, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নেওয়া’। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এ সময়ে জনসেবার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের পাবলিক সার্ভিস ডে উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শিক্ষা, সমাজসেবা, বিচার, পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই জনসেবাকর্মীরা রাষ্ট্র ও সমাজের কার্যক্রম সচল রাখেন। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে জনসেবাকর্মীরাই জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আন্তর্জাতিক এ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সরকারও সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩ জুলাই জাতীয় জনসেবা দিবস উদযাপন করে আসছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি একটি রাষ্ট্রীয় ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস। বাংলাদেশের এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সেবার মান এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতি প্রদান। একই সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার বার্তা বহন করে এ দিবস।
দিবসটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হলো ‘জনপ্রশাসন পদক’। সাধারণ প্রশাসন, উন্নয়ন প্রশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ মোট ১২টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে এ পদক প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্তরা নামের শেষে `BPAA’ (Bangabandhu Public Administration Award) উপাধি ব্যবহার করতে পারেন। এর সঙ্গে থাকে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং আর্থিক পুরস্কার।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ই-নথি, অনলাইন ভূমি সেবা, ই-মিউটেশন, ডিজিটাল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক সেবা, অনলাইন পাসপোর্ট ব্যবস্থা, সরকারি সেবা পোর্টাল এবং স্মার্ট গভর্নেন্সের নানা উদ্যোগ নাগরিক সেবাকে সহজতর করেছে। এসব উদ্যোগের পেছনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিকল্পনা, শ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাতীয় জনসেবা দিবস সেই অবদানকেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে।
জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস এবং বাংলাদেশের জাতীয় জনসেবা দিবসের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তাদের মৌলিক লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয় ক্ষেত্রেই জনসেবাকে মর্যাদা দেওয়া, উদ্ভাবনী প্রশাসনিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জাতিসংঘ এ দিবসে আন্তর্জাতিক পরিসরে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে জাতীয় জনসেবা দিবস দেশের সরকারি সেবার মানোন্নয়নে প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।
বিশ্বব্যাংকের গভর্নমেন্ট ইফেক্টিভনেস সূচক এবং অন্যান্য বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী—ডেনমার্ক, নরওয়ে, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবার মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, সেখানে দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সেবার মানোন্নয়ন এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
বাংলাদেশ প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল নাগরিকসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রশাসন ও নাগরিকসেবা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ জনসেবাকে আরও আধুনিক ও জনগণমুখী করেছে। তবে এ অগ্রগতির পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সময়ক্ষেপণ ও দুর্নীতির মতো চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। তাই জনসেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
জনসেবা কেবল সরকারের একক কোনো দায়িত্ব বা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সেবা নয়; বরং এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ অংশীদারত্ব। রাষ্ট্র যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও নীতিমালার মাধ্যমে সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়, তখন নাগরিক হিসেবেও আমাদের সচেতন হতে হবে। সেবামূলক কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, অধিকার ও কর্তব্যের যথাযথ সচেতনতা এবং গঠনমূলক মতামত প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে পারে। সরকার এবং জনগণের এই পারস্পরিক আস্থাই একটি উন্নত জনসেবা ব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স এবং বিগ ডাটা প্রযুক্তির বিস্তার জনসেবার ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিচ্ছে। আজ জনসেবাকে আরও জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত এবং হয়রানিমুক্ত করতে হলে প্রথাগত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি এবং নৈতিকতার এই সুষম সমন্বয়ই আগামী দিনের টেকসই ও স্মার্ট জনসেবার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
জনসেবার প্রকৃত শক্তি কেবল সেবার পরিমাণে নয়, বরং তার সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় নিহিত। দুর্নীতি যখন জনসেবায় প্রবেশ করে, তখন নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায় এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়। যে কোনো রাষ্ট্রে উন্নত প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত বাজেট কিংবা দক্ষ জনবল থাকলেও দুর্নীতি থাকলে নাগরিক সেবার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই জনসেবার উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।
রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়, বরং জনগণের প্রতি সেবার মানে প্রতিফলিত হয়। তাই জনসেবাকে আরও মানবিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং নাগরিকবান্ধব মানসিকতার বিকাশও সমানভাবে প্রয়োজন। জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস এবং জাতীয় জনসেবা দিবস আমাদের সেই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয়Ñজনগণের সেবাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব, আর জনসেবার উৎকর্ষই একটি উন্নত, আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ভিত্তি।
নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অবশেষে বহিষ্কার হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়৷ গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে দলটি। তবে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা, এ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি না থাকে, তাহলে ওই আসনে নতুন করে ভোট হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, কোনও ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার বিধান নেই।
সংবিধানে এমন কোনও অনুচ্ছেদ নেই যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে।
তবে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয় যদি কোনও সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
তিনি বলেন, দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই।
তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।
এ ক্ষেত্রে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকির মুখে নয়। দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও, শুধু সেই কারণে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন (সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ), অথবা পরবর্তীকালে এমন কোনও আইনগত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়— যাতে তিনি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রযোজ্য আইনের অধীনে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তাহলে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার সদস্যপদের প্রশ্ন নিষ্পত্তি হবে জানান ব্যারিস্টার শাকের।
এর আগে বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার হলেও তার এমপি পদ থাকবে কিনা— জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দল থেকে বহিষ্কার হলেই গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ যাবে না। যদি তিনি অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে আদালত সেটি দেখবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
তবে তার দল থেকে পদত্যাগ করলে, আসনটি শুন্য ঘোষণা হবে। সে ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে— তার সংসদ সদস্য পদ থাকছে কিনা। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন— তার (গাজী নজরুল) সংসদ সদস্য পদ থাকছে না।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এমন মন্তব্য করেছেন শিশির মনির।
এর আগে বুধবার বিকালে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তারপরেই শিশির মনির নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে ‘পদত্যাগ’। তিনি হয়েছেন ‘বহিষ্কার’। জামায়াত আজকেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ ‘নৈতিকস্খলন’। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কিনা? আমার মতে না।’’