সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ফেরার পথে শ্যামনগরের নান্টু আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ফেরার পথে শ্যামনগরের নান্টু আটক

শ্যামনগর প্রতিনিধি: কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে শ্যামনগরে ফেরার পথে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য আশরাফুজ্জামান নান্টু (৪০)আটক হয়েছে। রোববার বিকালে ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা তাকে আটক করে।

এসময় তার শরীর তল্লাসী করে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৩০ হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে আভিযানিক দলের সদস্যরা। আশরাফুজ্জামান নান্টু শ্যামনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ফজলুল হক গাজীর ছেলে।
ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডিশরিন আক্তার জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকা হয়ে আশরাফুজ্জামান নান্টু শ্যামনগরে ফিরছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা লাইন নামীয় পরিবহনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটকের পর তল্লাসী করে ৩০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদক আইনের মামলা দিয়ে তাকে ভাঙা থানার মাধ্যমে সোমবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য বলে তার ধারনা।

উল্লেখ্য শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী আশরাফুজ্জামান নান্টু ও তার প্রায় ১৫/১৬ সহযোগীর বিরুদ্ধে সীমান্তবর্তী কৈখালী এলাকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণসহ মাদকদ্রব্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ইতিপুর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কালিগঞ্জ সার্কেল ও শ্যামনগর থানা পুলিশের হাতে একাধিকবার সে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে নান্টু ও তার সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

Ads small one

সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় পৃথক বজ্রাঘাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকালের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে রবিবার সাত জেলায় বজ্রাঘাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সুনামগঞ্জ: বিকালে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জ সদরের মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬), গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪০) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক (২০)।

স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকালে সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে অন্য কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটছিলেন জমির উদ্দিন। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাত হলে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময়ে বৈটাখালী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর ঘাটে নিজের দোকান খুলতে যাচ্ছিলেন জমির হোসেন। পথে বজ্রাঘাতের শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক হাওরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতের কবলে পড়েন। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান জানান, ‘বিকালে বজ্রাঘাতের ঘটনায় তিন জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

এ ছাড়া জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আরও তিন কৃষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

নেত্রকোনা: খালিয়াজুরী উপজেলায় বজ্রাঘাতের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বিষয়টি জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার ফেরিঘাট সংলগ্ন ধনু নদীর পাড়ে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মো. আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাগবের গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামে বজ্রাঘাতে কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান (৫৩) মারা যান। দেড়টার দিকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে শ্রমিক মো. শুভ মণ্ডলের (৩৫) মৃত্যু হয়। তিনি সিরাজগঞ্জের আকনাদিঘির চর গ্রামের আফিকুল মণ্ডলের ছেলে।

ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চার ঘণ্টার ব্যবধানে বজ্রাঘাতের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

মেয়েদের পড়াশোনা স্নাতক-ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
মেয়েদের পড়াশোনা স্নাতক-ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

মেয়েদের জন্য পড়াশোনা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেইসঙ্গে নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিএনপির সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘জনগণের শান্তি নষ্ট হবে, এমন কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না। কোনও টিকিট বিক্রি নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে বিএনপি সরকার।’

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সমর্থন দিয়েছে জনগণ। বিএনপি তা বাস্তবায়ন করবে। দেশের মানুষের স্বার্থে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে এই সরকার। দেশের জনগণই বিএনপির রাজনীতি। দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীদের পেছনে ফেলে কোনও উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

বিএনপির ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায় একটি মহল, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল। দেশের সেবা করার জন্য বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে জনগণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ শান্তিতে ও ভালোভাবে বসবাস করতে চায়। জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যারা স্বাধীনতার সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা এখনও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়াবে, আর বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করবে।’

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে। খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা সামনে নিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যবস্থা করবো। শুধু মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করবো তা নয়, একইসঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো। যাতে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে আমরা যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই। সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এর মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস মা-বোনদের পৌঁছে দেবো। যাতে করে মা-বোনদেরকে রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’

সমাবেশে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশে আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। ইনশাআল্লাহ আগামী ৫ বছরে আমরা চেষ্টা করবো সারাদেশে এই উলাশী খালের মতো প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করতে চাই। যাতে করে গ্রামের মানুষ, গ্রামে বসবাসকারী মানুষ, কৃষক ভাই-বোনেরা, এলাকাবাসী এবং তরুণ সমাজের সদস্যরা বিভিন্ন রকম আয় রোজগারের সুবিধা সেখান থেকে করতে পারে। আমরা খাল খনন সেই জন্য করতে চাই।’

কৃষক ও শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড দেবো। কৃষক ভাইদের আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ যেটা আছে সেটা আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করবো। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি এবং সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা কৃষকদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল তাদের সেই কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন চিনিকল ও কলকারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে, সেই কলকারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ করবো। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু করা সম্ভব হবে। যার ফলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। পাশপাশি অনেক দেশে জনশক্তি রফতানি সীমিত ও বন্ধ রয়েছে। সেসব দেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। দ্রুতই অনেক দেশে আমরা জনশক্তি রফতানিতে গতি আনতে পারবো।’

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে যান। খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন। দুপুর ২টায় যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এরপর যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন।

জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সুযোগ কাউকে দেবো না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সুযোগ কাউকে দেবো না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেবো না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা স্বৈরাচারের সঙ্গে ঢাকার বাইরে মিটিং করে তারা জনগণের জন্য কখনও কাজ করে না। যারা ৭১ ও ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে। দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিনের সেই হরতালের সুযোগ কাউকে দেবো না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড হাজার থেকে লাখ লাখ, এরপর লাখ লাখ থেকে কোটিতে পৌঁছাবে। এ ছাড়া বন্ধ অনেক কলকারখানা কয়েক মাসের মধ্যে চালু করবে সরকার।’

 

নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, প্রথমবার করেছেন স্কুল পর্যায়ে, দ্বিতীয়বার করেছেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে। খালেদা জিয়ার সেই কর্মসূচির অংশকে আমরা সামনে নিয়ে যেতে চাই। এ জন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে ইনশাআল্লাহ নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত অর্থাৎ উচ্চতর পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যবস্থা করবো। শুধু মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করবো তা নয়, একইসঙ্গে আমাদের যে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো, যাতে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করতে পারে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন খোকনের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুন্ডু প্রমুখ।