সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

খোলা কলাম/ শেষ চিরকুটে স্তব্ধ মরিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/ শেষ চিরকুটে স্তব্ধ মরিয়ম

মোহাম্মদ মুজাহিদ

কিছু মৃত্যু মানুষকে কাঁদায়, কিছু মৃত্যু মানুষকে ভাবায়। আবার কিছু মৃত্যু এমন কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে সমাজের আয়নায় নিজেদেরও একবার দেখে নিতে হয়। রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ১৯ বছরের মরিয়ম খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনা তেমনই এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত এই তরুণীর মৃত্যু এরই মধ্যে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মরিয়মের কক্ষ থেকে একাধিক হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব লেখায় ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানসিক যন্ত্রণার কথা উঠে আসার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো একজন ১৯ বছরের তরুণী কী এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন, যার শেষ প্রান্তে গিয়ে তাঁর জীবন থেমে গেল? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কোনো একটি চিরকুটে নেই। হয়তো আছে বহু দিনের জমে থাকা অভিমান, না-বলা কথা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, একাকিত্ব কিংবা এমন কোনো বাস্তবতায় যা এখনো পুরোপুরি আমাদের সামনে আসেনি। মৃত্যুর আগে মানুষ কী লিখে যায়, সেটি কখনো কখনো তাঁর ভেতরের অদৃশ্য পৃথিবীর দরজা খুলে দেয়। কিন্তু একটি চিরকুটকে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়াও বিপজ্জনক। কারণ একটি লেখা হয়তো কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তের আবেগ। তার পেছনে থাকতে পারে দীর্ঘদিনের ঘটনা। থাকতে পারে এমন কিছু সম্পর্ক, কথোপকথন কিংবা পরিস্থিতি, যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

 

মরিয়মের চিরকুট নিয়ে মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিক। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো চিরকুটের প্রতিটি শব্দের সত্যতা যাচাই করা, হাতের লেখা ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করা, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা।কারণ মরিয়ম এখন কথা বলতে পারবেন না। তাঁর হয়ে কথা বলবে তাঁর লেখা, তদন্তের আলামত এবং সত্য উদঘাটনের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো। মরিয়মের লেখা বলে যেসব কথা গণমাধ্যমে এসেছে, সেখানে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পাশাপাশি অভিমান ও কষ্টের কথাও আলোচনায় এসেছে। ভালোবাসার সম্পর্ক যখন একজন মানুষের কাছে আশ্রয় হয়ে ওঠে, তখন সেই সম্পর্কেই যদি কোনো কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তার অভিঘাতও গভীর হতে পারে। কিন্তু এখানে আবেগের চেয়েও বড় প্রশ্ন কী ঘটেছিল?সম্পর্কের ভেতরে কি কোনো বিরোধ ছিল?

 

মরিয়ম কি কোনো ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন? তিনি কি কারও কাছে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন? মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন? ঘটনার আগে তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন কি কেউ? চিরকুটগুলো কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে লেখা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া একটি তরুণীর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। গাজী নজরুল ইসলাম একজন সংসদ সদস্য। ফলে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই জনআলোচনায় আসবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় যেন তদন্তের পথে প্রভাব না ফেলে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা যেমন অনুচিত, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগকে উপেক্ষা করাও সমানভাবে অনুচিত। আইনের চোখে প্রত্যেকেই জবাবদিহির আওতায়। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা সেটি নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সংবাদ শিরোনাম নয়। ইতোমধ্যে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা ও গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই তার সত্যতা নির্ধারিত হবে। মরিয়মের বয়স মাত্র ১৯ এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি ভাবায়। মাত্র ১৯ বছর বয়স। এই বয়সে একজন তরুণীর সামনে থাকার কথা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। পড়াশোনা, পরিবার, ভালোবাসা, নিজের পরিচয় তৈরি করা, জীবনের কত কিছুই তো তখনো বাকি থাকে। কিন্তু মরিয়মের জীবনের সেই সম্ভাবনাগুলো আজ থেমে গেছে।

 

তাঁর মৃত্যু নিয়ে আমরা হয়তো কয়েক দিন আলোচনা করব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হবে। নানা মত, নানা মন্তব্য, নানা ব্যাখ্যা আসবে। তারপর হয়তো নতুন কোনো ঘটনা এসে এই ঘটনাটিকে আড়াল করে দেবে। কিন্তু একটি পরিবারে শোক থেকে যাবে। একজন মায়ের বুক খালি থাকবে। একজন বাবার চোখে প্রশ্ন থাকবে। স্বজনদের মনে থেকে যাবে কেন? এই কেন এর উত্তরই সবচেয়ে জরুরি। শেষ চিরকুট কি সত্যিই শেষ কথা? মরিয়মের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও ভালোবাসার কথা, কোথাও অভিমান, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের বেদনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গেলে চলবে না।

 

চিরকুটের বক্তব্যের ব্যাখ্যা আর মৃত্যুর আইনি কারণ এক বিষয় নয়। চিরকুটে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্তের সূত্র হতে পারে। নিজে থেকেই অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। আবার চিরকুটে কোনো ব্যক্তির নাম না থাকলেও সেটি তদন্তের বাইরে রাখা যায় না। তাই চিরকুটকে কেন্দ্র করে আবেগ নয় প্রমাণের ভিত্তিতে এগোতে হবে। মরিয়মের মৃত্যু আমাদের সমাজের জন্যও একটি আয়না। আমরা কি আমাদের প্রিয় মানুষটির নীরব কষ্ট বুঝতে পারি? একজন মানুষ যখন বারবার বলে আমি ভালো নেই, তখন আমরা কি সত্যিই শুনি? কেউ যখন অভিমান করে দূরে সরে যায়, তখন আমরা কি তাকে সময় দিই? কেউ যখন সম্পর্কের ভেতরে নিজেকে একা মনে করে, তখন তার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ কি থাকে? নাকি আমরা তখনও ভাবি এগুলো পারিবারিক ব্যাপার, সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে?

 

অনেক সময় মানুষ মৃত্যুর আগে সরাসরি সাহায্য চায় না। তার আচরণ, কথাবার্তা, লেখা কিংবা নীরবতার মধ্যেই হয়তো সংকেত থাকে। সেই সংকেতগুলো বুঝতে না পারার দায় শুধু একটি পরিবারের নয় সমাজেরও। মরিয়মের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য, অভিযোগ ও ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কাউকে দায়ী করছেন, কেউ আবার পুরো ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কিন্তু আমরা যদি সত্যিই মরিয়মের প্রতি ন্যায়বিচার চাই, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্য ও অনুমানকে আলাদা করা। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তে আসুক। আলামত থাকলে তা পরীক্ষা করা হোক। চিরকুট থাকলে তার ফরেনসিক পরীক্ষা হোক।

 

সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা দেখা হোক। কললিস্ট ও যোগাযোগের তথ্য প্রয়োজন হলে যাচাই করা হোক। ঘটনার আগে ও পরে কারা কোথায় ছিলেন তা তদন্তে স্পষ্ট হোক। পরিবার, স্বজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হোক এবং সবশেষে যে সত্য বেরিয়ে আসে, সেটিই সামনে আসুক। আমাদের দেশে অনেক মৃত্যু সময়ের সঙ্গে সংবাদপত্রের পুরোনো পাতায় হারিয়ে যায়। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি গল্প থাকে। মরিয়মের গল্পও হয়তো কোনো একটি পরিবারের গল্প নয়। এটি হতে পারে সম্পর্কের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, ভালোবাসার নামে প্রত্যাশা, মানসিক চাপ, সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক জটিলতা এবং তরুণ প্রজন্মের একাকিত্ব নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সুযোগ।

 

তবে এসব বিশ্লেষণের আগে একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি মরিয়মের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল? শেষ কথা মরিয়ম আজ নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটগুলো যেন নীরবে প্রশ্ন করছে আমার সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর কোনো রাজনৈতিক স্লোগানে নেই। কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও নেই। কারও ব্যক্তিগত ধারণাতেও নেই। উত্তর আছে তদন্তে। উত্তর আছে প্রমাণে। উত্তর আছে সত্য উদঘাটনে।

 

মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে কারও বিরুদ্ধে আগেভাগে রায় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার কোনো প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে সত্য চাপা পড়ুক সেটিও কাম্য নয়। একজন ১৯ বছরের তরুণীর মৃত্যুর সত্য জানতে চাওয়া কোনো পক্ষ নেওয়া নয় এটি ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক দাবি। শেষ চিরকুটে যদি মরিয়মের কোনো আর্তনাদ থেকে থাকে, সেই আর্তনাদ যেন তদন্তের টেবিলে হারিয়ে না যায়। মরিয়ম আর কথা বলতে পারবেন না এখন তাঁর হয়ে কথা বলুক সত্য।

(এটা সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব মত)।

 

Ads small one

বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সেক্ষেত্রে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাস; উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।

নতুন প্রস্তাবে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এএসএম আহমেদ খোকন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হবে। আমরা আমাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে দিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিআরটিএ এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বৈঠকে থাকা কমিটির একজন সদস্যও জানান, সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিবহন মালিকেরা ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিটির আলোচনায় এর চেয়ে কম হারে, অর্থাৎ ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এখন বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

রবিবার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। প্রতিটি জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। নতুন দর সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

গণপরিবহনের বড় একটি অংশ ডিজেলচালিত। ফলে ডিজেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ায় বাস পরিচালনার খরচও বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি বাস পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। ২৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

এরও আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা এবং মহানগরের বাসে ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়। পরে ডিজেলের দাম ৫ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমার পরও ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৩ পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।

বাংলাদেশে এলএনজি খাতে কারা আগ্রহী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে এলএনজি খাতে কারা আগ্রহী

 

বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীনের পর এবার রাশিয়ার একটি কোম্পানির আগ্রহ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি দেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। সম্প্রতি চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশের চুক্তি হয়েছে। এরপর রাশিয়ার একটি কোম্পানিও বাংলাদেশে এলএনজি নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট কাটাতে নতুন প্রকল্প নিতেই হবে। তবে প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থও বিবেচনা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে জ্বালানির চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। প্রতিটি কার্গো আমদানিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে মাসে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আরও কমে গেলে আমদানির পরিমাণ বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে মরিয়মের লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ ও মা। তাদের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা ও চাচা মো. মোস্তাসিব। মেয়েকে হারিয়ে কাঁদছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। তাদের সবাইকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

মরিয়মের পরিবার ও স্বজনেরা বলেন, ন্যাম ভবনে থাকাকালে মরিয়মের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। মরিয়মকে হত্যার পর তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

মর্গের সামনে বসে সঙ্গে কথা বলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মরিয়মের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা হতো। ফোনে মরিয়ম কান্নাকাটি করতো। বলতো, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাকে আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল দিতেন, এমনকি গায়েও হাত তুলতেন। বলতো, তোর জন্য আমার সব শেষ, বেঁচে থাকা হারাম হয়ে গেছে।’

রোকসানা বলেন, ‘এছাড়া প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সতিনের সংসার বলে কথা, বোঝেনই তো। গলায় ফাঁস দিলে ভিডিও বের হওয়ার পরেই দিতো, বিয়ের পর কেন গলায় ফাঁস দেবে।’ মরিয়মকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন বলার সময় তার দু’চোখ ভিজে আসে।

রোকসানা বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মামা ওবায়দুর মরিয়মের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

মর্গ

একই অভিযোগ করেন মরিয়মের চাচা মোস্তাসিব। তিনি বলেন, মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যার ঘটনা চাপা দিতে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে মাসুম বিল্লাহর। তিনি বলেন, ‘ওর ছোট মনে বড় কষ্ট। ফোন দিলে কথা বলতে চাইতো না। আমি গেলে আমার সঙ্গে দেখা হতো। এমপির বাসা ছিল ওর জন্য জেলখানা।’

তিনি বলেন, ‘মেয়ে এসব বলতো আর আমার পা জড়িয়ে কাঁদতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না। এভাবে মেয়ের জীবনও শেষ হতো না।’

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ও (মরিয়ম) বলতো আমি বাইরে মুখ দেখাবো কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি এই পরিণতি ভোগ করতেছি।’

মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। বাবার খালুর সঙ্গে কীভাবে মেয়ে সম্পর্কে জড়ালো; এমন প্রশ্নে মাসুম বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। যখন জেনেছি, মেয়েকে রক্ষার আর কোনও পথ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায়বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কিনা, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’

মামলায় যে অভিযোগ

রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, চলতি বছরের জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন।

এর মধ্যে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।

চিরকুটে যা লিখে গেছেন মরিয়ম

মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।’

আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

আরেকটি চিরকুটে দুটি লেখা আছে। একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!’

অপর লেখায় আছে, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

কী বলছে পুলিশ

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওবায়দুর পলাতক বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কিনা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

ওবায়দুর পলাতক, বলছে পুলিশ

মরিয়ম আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি ওবায়দুর পলাতক। সম্পর্কে মরিয়মের মামা হলেও এমপির কাছে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে আত্মহত্যার ঘটনায় তাকে দায়ী করছে পরিবার। একই সঙ্গে তাকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ওবায়দুর।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওবায়দুরকে ধরতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খোঁজা হচ্ছে। একাধিক টিম তাকে ধরতে কাজ করছে।

ওবায়দুরের বিষয়ে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওবায়দুর সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল। তার জন্য আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবারটা তছনছ করে দিয়েছে সে। সে আমার মেয়েকে এমপির কাছে না নিলে আসলে কিছুই হতো না। আজ তার জন্যই আমরা আমাদের মেয়েকে হারিয়েছি।’