ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহবিরোধী সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নেতানিয়াহু ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারেন।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে লেবাননে যুদ্ধের অবসান। কিন্তু ইসরায়েল সরকার হিজবুল্লাহকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছে এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থানের অন্যতম কারণ। চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিনি নিজেকে নিরাপত্তা প্রশ্নে আপসহীন নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ইসরায়েলের ভেতরে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জনসমর্থনও উল্লেখযোগ্য।
সম্প্রতি হিজবুল্লাহ’র ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত হবে না যা ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তি উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন, লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
যদি ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে বা সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের হাতে সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা সীমিত করার মতো চাপ প্রয়োগের সুযোগও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে তার সফলতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।












