দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত আশাশুনি: ১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও টেকসই বাঁধের ওপর গুরুত্ব
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: উপকূলীয় জনপদ আশাশুনিতে দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উঠে এসেছে আগাম প্রস্তুতির এক বিস্তারিত চিত্র।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, দুর্যোগকালীন জরুরি আশ্রয়ের জন্য উপজেলায় বর্তমানে ১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো তাদের নিজ নিজ প্রস্তুতি ও সক্ষমতার কথা তুলে ধরে।
উপকূলীয় এলাকার মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তা জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ। সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়। সভাপতি তার নির্দেশনায় বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো শিথিলতা সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও আনুলিয়া ইউনিয়নের মতো প্লাবনঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় সরকারি ৫০টি দপ্তরের প্রতিনিধি ছাড়াও অংশ নেন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো হলোÑ ব্র্যাক, সুশীলন, আইডিয়াল, কারিতাস, বারসিক, উত্তরন ও ইএসডি। মূল আলোচনায় ২৭টি ওয়ার্ডে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিতিশ কুমার গোলদারসহ কৃষি, মৎস্য, ফায়ার সার্ভিস ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ এবং সময়োপযোগী উদ্ধার তৎপরতাই সাধারণ মানুষের জানমালের রক্ষা কবচ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









