বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধানের দাবিতে পরিবারের জিডি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধানের দাবিতে পরিবারের জিডি

পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের গড়কান্দা গ্রামের চা পরিবেশক ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম (শাহজাহান ম-লের ছেলে)। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই কালীগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আবদুল হাকিম। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে কয়েকটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা শাহজাহান ম-ল আজ ২৯ জুলাই সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি (নং-১৮৮২) দায়ের করেছেন। নিখোঁজ ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে চায়ের ডিলারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনেরা গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Ads small one

প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন: বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও জট নিরসন সম্ভব নয়: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন: বিচারক ১০ গুণ বাড়ালেও জট নিরসন সম্ভব নয়: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিদ্যমান বিচারকের সংখ্যার চেয়ে দশ গুণ বেশি বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও শুধু প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাঙ্খিত সময়ে এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না। তাই আদালতের মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আপসযোগ্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিষ্পত্তি করা গেলে শুধু একটি মামলারই অবসান ঘটে না, বরং দুই পরিবারের মধ্যে বিরাজমান বিরোধ ও তিক্ততারও অবসান ঘটে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ লক্ষ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বেশ কিছু ধরনের মামলা আদালতে দায়েরের আগে বাধ্যতামূলকভাবে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপসের উদ্যোগ গ্রহণের বিধান রয়েছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে বিচারক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু। এছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ জাহারুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মুনিরউদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন লিমা, অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর, অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, অ্যাডভোকেট আকরাম আলীসহ অন্যান্যরা। সভায় সাতক্ষীরা বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড আইন সংশোধন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন আইনে আপসযোগ্য মামলার পরিধি, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামো এবং আপসের কার্যকর পদ্ধতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ নয়ন বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, আদালতের মামলা জট নিরসন, বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে হবে। এ জন্য বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি পুনর্গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি পুনর্গঠন

চার কর্মকর্তার পদত্যাগের পর সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এর আগে গত ২৬ জুলাই রাতে আলিপুর ট্রাক টার্মিনালে সমিতির কার্যালয়ে সভাপতি তাহমিদ শাহেদ চয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় শেখ সাঈদ আহমেদ, বিপুল মমিন খান চৌধুরী, তহিদুজ্জামান ও আবু হাসানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। পরবর্তীতে সর্বসম্মতিক্রমে কুতুব উদ্দিনকে কার্যকরী সভাপতি, আকবর আলীকে সহসভাপতি, রজত হাজরাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মহিবুল ইসলাম দুলালকে প্রচার সম্পাদক মনোনীত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সামাজিক ঐক্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সামাজিক ঐক্য

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং তা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে। শ্যামনগরে বিজিবির ১৭ নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে ধ্বংস করা এবং জেলা পুলিশের উদ্যোগে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির উপস্থিতিতে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানের ঘোষণা কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা নয়; এটি মাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স নীতিরই এক বাস্তব প্রতিফলন।
বাজেয়াপ্ত মাদকের দীর্ঘ তালিকার দিকে তাকালে সার্বিক চিত্রটি বেশ শঙ্কা জাগায়। বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, ইয়াবা, অ্যালকোহল ও হেরোইনের পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) কিংবা এলএসডির মতো প্রাণঘাতী ও অতি-উচ্চমূল্যের সিন্থেটিক মাদকের অনুপ্রবেশ নিশ্চিতভাবেই তরুণ সমাজকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকাগুলোকে চোরাচালানকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সীমান্ত রক্ষীদের দৃঢ়তার কারণে প্রায় ৫২ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হলেও মূল জোগান থামানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই প্রেক্ষাপটে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষ থেকে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি, অনলাইন জুয়া রোধ এবং মাদকের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরসহ (এমনকি পুলিশ সদস্য হলেও) কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে ও বাইরে নিরপেক্ষভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলে তা সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে।
তবে মাদক কেবল একটি একক আইনি বা সামাজিক অপরাধ নয়, এটি এক বহুমাত্রিক জটিল ব্যাধি। শুধু সীমান্ত টহল জোরদার করা বা বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাময়িক সাফল্য অর্জন দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, যতক্ষণ না অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সিন্ডিকেটের নেপথ্যের গডফাদারদের সমূলে উৎপাটিত করা যাচ্ছে। বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে যেমনটা গুরুত্ব পেয়েছেÑমাদক নির্মূলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে পুলিশ ও বিজিবির ধারাবাহিক পেশাদার অভিযান এবং সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ জিরো টলারেন্স অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই।