বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পুতুল নাচে বেঁচে থাকে বাংলার লোকঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
পুতুল নাচে বেঁচে থাকে বাংলার লোকঐতিহ্য

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা মানেই ছিল উৎসবের আমেজ। হাটের পাশে কিংবা গ্রামের খোলা মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে কাপড়ের পর্দা টাঙিয়ে তৈরি হতো ছোট্ট একটি মঞ্চ। সন্ধ্যা নামতেই ভিড় জমাতেন শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণরাও। পর্দার আড়াল থেকে ভেসে আসত ঢোল, করতাল, বাঁশি কিংবা হারমোনিয়ামের সুর। তারপর শুরু হতো পুতুলের অভিনয়। সুতোয় বাঁধা কাঠের পুতুল কখনো রাজা, কখনো রানি, কখনো বীর যোদ্ধা, আবার কখনো হাস্যরসের চরিত্র হয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করত।

 

সেই পুতুল নাচ ছিল শুধু বিনোদন নয়, ছিল গ্রামীণ সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য বাহক। বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রাচীন শিল্পগুলোর মধ্যে পুতুল নাচ অন্যতম। বহু শতাব্দী ধরে এই শিল্প মানুষের আনন্দ, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ধর্মীয় কাহিনি, রূপকথা, লোকগাঁথা, নৈতিক শিক্ষা কিংবা সামাজিক সমস্যার গল্পÑসবই উঠে আসত পুতুল নাচের মঞ্চে।

 

শিল্পীরা কণ্ঠস্বর বদলে একাই একাধিক চরিত্রের সংলাপ বলতেন, যা দর্শকদের বিস্মিত করত। পুতুল নাচের পুতুলগুলো তৈরি হতো কাঠ, কাপড়, রঙ ও সুতা দিয়ে। একজন দক্ষ কারিগর দিনের পর দিন পরিশ্রম করে একটি পুতুল তৈরি করতেন। এরপর সেই পুতুলে প্রাণ সঞ্চার করতেন শিল্পী। হাতের নিপুণ কৌশলে সুতো টেনে পুতুলকে হাঁটানো, নাচানো, হাসানো কিংবা কান্নার অভিনয় করানো ছিল এক অসাধারণ শিল্প।

 

একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুতুল নাচের দল ছিল বেশ পরিচিত। শীতের মৌসুমে কিংবা গ্রামীণ মেলায় তাদের ব্যস্ততা থাকত সবচেয়ে বেশি। একটি দল কয়েক মাস ধরে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ঘুরে অনুষ্ঠান করত। দর্শকদের দেওয়া অর্থেই চলত তাদের সংসার। সেই সময় এই শিল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, ছিল অনেক পরিবারের জীবিকার উৎস। কালের পরিক্রমায় পরিস্থিতি বদলে গেছে।

 

টেলিভিশন, সিনেমা, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় মানুষের বিনোদনের ধরন পাল্টে গেছে। গ্রামের মাঠে এখন আর আগের মতো পুতুল নাচের আসর বসে না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাস্তবে পুতুল নাচ দেখেনি। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প।শুধু দর্শক কমে যাওয়াই নয়, শিল্পীদের জীবনও হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত। আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন।

 

কেউ দিনমজুর, কেউ কৃষিকাজ, কেউ আবার ছোটখাটো ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের সদস্যরা আর এই শিল্পকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী নন। কারণ এতে নেই আর্থিক নিরাপত্তা কিংবা সামাজিক স্বীকৃতি। লোকসংস্কৃতি গবেষকদের মতে, পুতুল নাচ কেবল একটি বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একটি পুতুল নাচের প্রদর্শনীতে যেমন থাকে অভিনয়, তেমনি থাকে সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলা, কারুশিল্প ও নাট্যকলার সম্মিলন। অর্থাৎ এটি একটি সমন্বিত লোকশিল্প।

 

বর্তমান সময়ে কিছু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন, পুতুল নাচের দলকে আর্থিক সহায়তা, শিল্পীদের প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে এই শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে। পর্যটনের সঙ্গেও পুতুল নাচকে যুক্ত করা সম্ভব।

 

দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত পুতুল নাচের আয়োজন করলে শিল্পীরা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরাও বাংলার লোকঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল যুগেও এই শিল্পের নতুন সম্ভাবনা রয়েছে। পুতুল নাচের ভিডিও ধারণ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার, শিশুদের জন্য অ্যানিমেশনধর্মী উপস্থাপনা কিংবা আধুনিক গল্পের সঙ্গে লোকজ উপাদানের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুনভাবে এই শিল্পকে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

 

এতে ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে, আবার নতুন দর্শকও তৈরি হবে। একটি জাতির পরিচয় শুধু তার উন্নত ভবন, আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়; তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ শিল্পেও নিহিত থাকে। পুতুল নাচ সেই পরিচয়েরই এক উজ্জ্বল অংশ। এই শিল্প হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে আমাদের ইতিহাসের একটি জীবন্ত অধ্যায়, গ্রামীণ জীবনের এক টুকরো স্মৃতি এবং বহু শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার উত্তরাধিকার।

 

তাই এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুতুল নাচকে আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ পুতুলের সুতোয় বাঁধা সেই ছোট্ট মঞ্চে লুকিয়ে আছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।