সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাণসায়র পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রাণসায়র পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

পত্রদূত রিপোর্ট: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। তিনি বলেছেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্রাণসায়ের খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খালের দুই পাড়জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বাড়ছে। উপকূলীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরাও এসব ঝুঁকির বাইরে নয়। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি জানান, সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ৫০ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। এই জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছর এক কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পর প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মিজ কাউসার আজিজ আরও উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে দুই একর জমিতে বনায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে এই বনায়ন কর্মসূচি জেলার পরিবেশগত উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমত উল্লাহ পলাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মইনুল ইসলাম খান, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রিয়াংকা হালদার, কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এবং পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ লিয়াকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেষে প্রাণসায়ের খালের দুই পাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয় এবং স্থানীয় জনগণকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

উল্লেখ্য, একসময় প্রাণসায়ের খাল ছিল সাতক্ষীরার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। সময়ের ব্যবধানে এর সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেলেও নতুন এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে খালপাড়ে আবারও সবুজের সমারোহ ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এটি শহরের পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Ads small one

টিআরএম বাস্তবায়নে সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী যুব ক্যাম্পেইন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
টিআরএম বাস্তবায়নে সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী যুব ক্যাম্পেইন শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচাতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে শুরু হওয়া বিশেষ জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনটি আজ দ্বিতীয় দিনে পদার্পণ করেছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে ক্যাম্পেইনের টিমটি সদর উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধতা প্রবণ ও নদী তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

‘সাস্টেইনেবল রিভার বেসিন ম্যানেজমেন্ট (এসআরএম): অ্যাডাপ্টিং ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন দ্য সাউথওয়েস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় জনমানুষের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রচারণার আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক চত্বরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ এবং ‘সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব পানি কমিটি’র যৌথ উদ্যোগে এই মাঠপর্যায়ের ক্যাম্পেইনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম, তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ বাবু, দপ্তর সম্পাদক মহুয়া মঞ্জুয়ারা, সদস্য আব্দুল জব্বার মাস্টার, উত্তরণের প্রজেক্ট অফিসার দিলীপ কুমার সাহা, মনিটরিং অফিসার আল-আমীন মোল্যা, ফিল্ড অফিসার গোলাম হোসেন, যুব পানি কমিটির সহসভাপতি হাফিজা আফরোজ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিমন নেছা শান্তা, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররম বিল্লাহ ইমনসহ পানি কমিটি ও যুব পানি কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আজ দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে যুব পানি কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন গ্রাম ও নদী অববাহিকা ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন। তারা তুলে ধরছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সনাতনী পদ্ধতিতে নদী বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সংকটের মূল কারণ নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, যা একমাত্র টিআরএম বা জোয়ারাধার পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব।

আর এই টিআরএম আন্দোলনকে সফল করতে হলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। লিফলেট বিতরণ ও পথসভার মাধ্যমে টিআরএম-এর বৈজ্ঞানিক ও স্থানীয় সুফল সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী বলেন, উপকূলের নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে টিআরএম বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এই বার্তাটিই আমরা তরুণদের হাত ধরে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। স্থানীয় জনগণ যখন টিআরএম-এর সুফল পুরোপুরি বুঝতে পারবেন, তখন এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

উত্তরণ ও যুব পানি কমিটির যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক প্রচারণা ও গণসংযোগ কর্মসূচিটি আগামীকাল মঙ্গলবার সমাপনীর মাধ্যমে শেষ হবে।

 

 

কলারোয়ায় আড়াই বছরের ভোগান্তির অবসান: পশুহাট মোড়ের রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আড়াই বছরের ভোগান্তির অবসান: পশুহাট মোড়ের রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু

oppo_0

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে এগিয়ে এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। তাঁরই উদ্যোগে কলারোয়া পশুহাট মোড়ের দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির সংস্কার কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া পশুহাট মোড়ের এই রাস্তাটি বিগত প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে যেত, যার ফলে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল।

 

দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। ভোগান্তির বিষয়টি গত শনিবার দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এবং ইউএনও’র তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে দীর্ঘদিনের এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হতে চলায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জনদুর্ভোগ লাঘব করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ পথচারীরা।

 

স্থানীয় জনসাধারণ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কলারোয়ায় এমন একজন মানবিক ও কর্মতৎপর ইউএনও থাকলে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ সরকারের সব ধরনের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমুখী কার্যক্রম আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

 

 

পাইকগাছার সবচেয়ে লম্বা মানুষ কলিম শেখ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার সবচেয়ে লম্বা মানুষ কলিম শেখ

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছার সবচেয়ে লম্বা মানুষের সন্ধান মিলেছে। তিনি হলেন কলিম শেখ। তার উচ্চতা ৬ফুট ১০ ইঞ্চি লম্বা। উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়ানে তার বাড়ী। তিনি শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু অধিক লম্বা হওয়ায় তিনি পড়েছে বিড়াম্বানায়। অধিক লম্বা হওয়ায় তাকে কেউ কোন কাজে নিতে চায় না। একারণে স্ত্রী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কলিম শেখ জানান, অধিক লম্বা হওয়ায় তাকে কেউ কাজে নেয় না। মাটির কাজে জোড় না মেলায় বা মাথা সমান না হওয়ায় তার কাজ মেলে না। অধিক লম্বার কারণে হাট বাজারে দরজা বা বাঁশের আড়ায় আঘাত খেতে হয়। বিবিন্ন স্থানে টাঙ্গানো রশি গলায় বেধে যায়। কাজ না পওয়ায় তাকে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।