শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ খেলতে শর্ত দিয়ে ইরানকে ভিসা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপ খেলতে শর্ত দিয়ে ইরানকে ভিসা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের জন্য ভিসা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৫ জুন) এক মার্কিন কর্মকর্তা এবিসি নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে তুরস্কের আনতালিয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্পে রয়েছে ইরান দল। সেখান থেকে আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ভিসার আবেদন করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, ফিটনেস ট্রেইনার এবং কয়েকজন সহায়ক কর্মীর ভিসাও অনুমোদিত হয়েছে। তবে কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পর দলটি যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রা করতে পারবে।

তবে ভিসা অনুমোদনের পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর বিশেষ নজরদারির কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কাউকে প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, খেলোয়াড় ও তাদের সহায়ক কর্মীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। তবে খেলাধুলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এবং আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কাউকে প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরান প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ছয় দিন পর তারা মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়েটলে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ফিফা শুরু থেকেই জানিয়েছিল, ইরান নির্ধারিতভাবেই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অংশগ্রহণ ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এর জবাবে ইরানের জাতীয় দল জানায়, কোনো পক্ষই তাদের বিশ্বকাপ খেলা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, ভিসা ইস্যুতে এর আগেও সমস্যার মুখে পড়েছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। গত এপ্রিল মাসে ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের কানাডার ভিসা বাতিল করা হয়। তার বিরুদ্ধে অতীতে আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

Ads small one

পটপটি: আমাদের শৈশব-স্মৃতি/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
পটপটি: আমাদের শৈশব-স্মৃতি/ ‎তারিক ইসলাম

‎তারিক ইসলাম

‎‎ইটের দেয়ালের ফাটলে, রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোনো ঝোপঝাড়ে বেগুনী রঙের ছোট্ট ফুলটি আমাদের প্রায়ই চোখে পড়ে। অযতœ আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদের দিকে হয়তো আমরা অনেকেই ফিরেও তাকাই না। কিন্তু একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করলেই মনের কোণে ভেসে ওঠে হারিয়ে যাওয়া রঙিন শৈশব। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন-কথা হচ্ছে আমাদের চিরচেনা ‘পটপটি’ গাছ নিয়ে। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি জঁবষষরধ ঃঁনবৎড়ংধ নামে পরিচিত হলেও, আমাদের লোকালয়ে এর পরিচিতি চমৎকার সব নামে। কেউ একে ডাকেন ‘টপাসিন’ নামে, আবার কারও কাছে এটি শুধুই ‘ফাটাফাটি’।

‎‎নব্বইয়ের দশক বা তার আগের প্রজন্মের মানুষের কাছে পটপটি কেবল একটি সাধারণ আগাছা নয়, এটি ছিল শৈশবের এক জাদুকরী খেলনা। বর্ষার দিনে কিংবা বিকেলে খেলার মাঠে পটপটি গাছের শুকনো খয়েরি রঙের বীজ সংগ্রহ করার ধুম পড়ে যেত। সেই শুকনো বীজ মুখে নিয়ে থুতু দিয়ে কিংবা এক বাটি জলে ভিজিয়ে রাখলেই ঘটত সেই কাঙ্ক্ষিত ম্যাজিক! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ‘পট’ করে এক শব্দে ফেটে যেত বীজটি। এই সাধারণ একটি ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকত এক অদ্ভুত অনাবিল আনন্দ। আজকের দিনে ভিডিও গেম আর স্মার্টফোনের ভিড়ে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা এই সহজ ও প্রাকৃতিক আনন্দ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।

‎কেবল খেলার ছলেই নয়, পটপটি বা টপাসিন উদ্ভিদের রয়েছে নানা ভেষজ গুণাগুণ। লোকজ চিকিৎসায় এর শিকড় ও পাতার রস বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। অথচ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে এই উদ্ভিদটি আজ আমাদের চারপাশ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নগরায়ণের আগ্রাসনে ইট-পাথরের শহরে এখন আর আগের মতো পটপটি গাছের দেখা মেলে না।

‎‎আমাদের যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির ছোঁয়া দিন দিন কমে আসছে। পটপটির মতো এই সাধারণ উদ্ভিদগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আনন্দ পেতে সবসময় দামী খেলনার প্রয়োজন হয় না; প্রকৃতির বুকেই লুকিয়ে থাকে সুখের চাবিকাঠি।

‎‎শৈশবের নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলা এই পটপটি গাছটি আমাদের জীববৈচিত্র্যেরই একটি অংশ। আগাছা ভেবে একে উপড়ে ফেলার আগে অন্তত একবার ভাবা উচিত, এটি আমাদের কতশত স্মৃতির সাক্ষী। আসুন, প্রকৃতির এই অবহেলিত উপহারগুলোকে চিনে রাখি এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে এই চেনা ইতিহাসগুলো বাঁচিয়ে রাখি।
‎লেখক: ‎তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জেলেদের নিয়ে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছাঃ মাহমুদা খানম, ইউপি সদস্য মোছাঃ ফাতেমা খাতুন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম এবং সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুর রশিদ।

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী বলেন, “সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা শুধু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষ প্রয়োগের ফলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যায়, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

প্রধান অতিথি মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে জেলেদের বিষমুক্ত পদ্ধতিতে মাছ আহরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”

বিশেষ অতিথি মাহমুদা খানম বলেন, “সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে হলে বন ও নদীর পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম বলেন, “গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারণার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে হবে, তাহলে সুন্দরবনে বিশদিয়ে মাছ ধরা বন্ধ হবে।

ইউপি সদস্য ফাতেমা খাতুন বলেন, “সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের নিরুৎসাহিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করা ইসলামের দৃষ্টিতেও অনুচিত। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।”

সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হলে নিয়মিত প্রচারণা, নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত বক্তারা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জেলে, বননির্ভর জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মানুষের নামে কোনো পশুর নাম রাখা সামাজিক শিষ্টাচার, ধর্মীয় অনুশাসন এবং মানবমর্যাদার পরিপন্থী। মানুষের নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা মানবমর্যাদার অপমান। বিশেষ করে কোনো পরিচিত মানুষের নাম, তারকা বা সেলিব্রিটির নাম কোনো পশু গরু, ছাগলের নাম রাখা হলে সমাজে ওই ব্যক্তির চরম অসম্মান ও উপহাস করা হয়। কোনো ব্যক্তিকে পশুর সাথে তুলনা করা বা পশুর নামে ডাকা অসভ্যতা ও তাচ্ছিল্যের প্রতীক। এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পশুপাখির জন্য সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা যেতে পারে। কিন্তু মানুষের নামের সাথে মিলে এমন কোনো নাম পশুকে দেওয়া অনুচিত।

মানুষের নামে পশুর নাম রাখা সাধারণত আপত্তিকর ও অসম্মানজনক হিসেবেই গণ্য করা হয়। মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো ব্যক্তির নাম পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে পরোক্ষভাবে সেই ব্যক্তি বা মানবমর্যাদাকে অপমান করা হয়। কাউকে অবমাননা বা তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে পশুর সাথে নামের তুলনা করা অনুচিত এবং এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করা, বিদ্রূপ করা বা সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তার নামে পশুর নামকরণ করা নিশ্চিতভাবে মানবমর্যাদার চরম অবমাননা। সমাজ বা রাজনীতির কোনো আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তির নামে হাটের কোরবানির পশুর নাম রাখা মূলত এক ধরনের মনন্তাত্ত্বিক আক্রমণ। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমাজের সামনে হাসির পাত্রে পরিণত করে।

সাধারণ অর্থে মানুষের নাম মানুষের জন্যই মানানসই। পশুর নাম সাধারণত তাদের বৈশিষ্ট্য বা শখের বশে রাখা হয়, যা মানুষের নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হলে সমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। পশুর নাম রাখা যাবে, তবে বিশেষ করে মানুষের নাম বা মানুষের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা অনুচিত। মানুষের নামে নামকরণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানুষের নামে পশুর নাম রাখা সামাজিক নীতি এবং মানবিক মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্টতই একটি অবমাননাকর বিষয়। মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাই পশুকে মানুষের নামে ডেকে সেই সম্মান ক্ষুণœ করা অনুচিত।

সাধারণত কাউকে পশু বলা বা পশুর সাথে তুলনা করাকে সমাজে অবক্ষয়, মূর্খতা বা অসভ্যতার প্রতীক মনে করা হয়। পশুকে মানুষের নাম দিলে তা সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী দেখায়। কাউকে অবমাননা বা তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে পশুর সাথে নামের তুলনা করা অনুচিত এবং এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পশুর হাটে গরুর নাম টাইটানিক, কালা পাহাড় বা কোনো সেলিব্রিটির নামে রেখে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। আর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নামগুলো অতি-প্রচার পাওয়ার কারণে এটি এক ধরনের সস্তা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে, যা সুস্থ সামাজিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

অনেক ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য মনে করা হয়। পরম মমতায় অনেকে তাদের প্রিয় পশুর মানুষের সাধারণ নাম যেমন: টম, টমি, রকি, বা দেশীয় কোনো নাম দিয়ে থাকেন। এটি পশুকে তুচ্ছ করার জন্য নয়, বরং ভালোবাসার কারণে করা হয়। অজান্তেই কোনো পশুর নাম মানুষের নামের সাথে মিলে যেতে পারে। একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবমাননা হিসেবে না দেখে কাকতালীয় হিসেবে দেখাই শ্রেয়। তবে নামকরণের পেছনে মানুষের মানসিকতা, উদ্দেশ্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে এর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রয়েছে।

পশুর নাম রাখা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি কাউকে হীন প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এমনটা করা হয়, তবে তা অবশ্যই মর্যাদাহানিকর। আর যদি তা কেবলই স্নেহের বশে করা হয়, তবে তা মনন্তাত্ত্বিকভাবে ভিন্ন অর্থ বহন করে।
সমাজ বা রাজনীতিতে বিতর্কিত বা শত্রুভাবাপন্ন কোনো ব্যক্তির নামে পশুর নাম রাখা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আঘাত এবং এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তবে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে বা কাউকে সরাসরি ছোট করার জন্য মানুষের নাম ব্যবহার করা এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা, যা পরিহার করা উচিত।

সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের একটি নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে। তাই সস্তা বিনোদন কিংবা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য মানুষের নাম পশুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রবণতা রোধে আমাদের সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট