মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

খাল দখল ও নেটপাটায় পানিপ্রবাহ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল অবৈধ দখল, নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত ১ আগস্ট জেলা নাগরিক কমিটির জলাবদ্ধতা নিরসনবিষয়ক পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবলু ও কমিটির অন্যতম সদস্য শেখ সিদ্দিকুর রহমান সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, গাভা স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রের সামনে কালভার্টের মুখ বাঁশের নেটপাটা দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ঘের মালিক সুকুমার রায় মাছ চাষের স্বার্থে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রেখেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভভরে বলেন, “যারা জলাবদ্ধতার শিকার তারা তো কিছু বলে না, আপনি বলছেন কেন? আমি যা করেছি ঠিকই করেছি।”
এরপর প্রতিনিধি দল জোড়দিয়া কোচের বিল এলাকার সরকারি কোচের খাল পরিদর্শন করে। সেখানে অভিযোগ ওঠে, প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খালে জোড়দিয়া গ্রামের সদরউদ্দীনের ছেলে রেজাউল ইসলাম কেনা নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন। স্থানীয়রা জানান, খালে সাদা মাছ ছাড়া থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে বছরের পর বছর মাছ চাষ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করলেও দখলদারদের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ সময় প্রাক্তন ইউপি সদস্য শেখ জাকিরুল হক, প্রাক্তন সদস্য নজরুল ইসলাম, মিন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খাল দখল ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালে একই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে জোড়দিয়ার কোচের খাল ও বোড়ামারা খালের নেটপাটা এবং অবৈধ বাঁধ জনসাধারণ অপসারণ করেন। পরে গাভা গ্রামের মনজুরুল আহমেদ (পিতা: মৃত আলাউদ্দিন মোড়ল) সাতক্ষীরা সদর আদালতে নিরীহ ১০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সি আর-১২৫৭/২৪, তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৪, একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে নেটপাটা ও বাঁধ দিয়ে সরকারি খালে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে জোড়দিয়া, কোচের বিল ও আশপাশের এলাকায় শত শত বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত, নেটপাটা ও বাঁধ অপসারণ এবং খাল খননের মাধ্যমে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, “গাভায় কালভার্টের মুখ বন্ধ করার ঘটনায় সুকুমারকে একাধিকবার তিরস্কার করা হলেও তিনি তা শোনেননি। জোড়দিয়ার কোচের বিল ও বোড়ামারা খালের নাব্যতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন প্রয়োজন। খাল বন্ধ করে মাছ চাষ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৈখালী-২ স্লুইস গেটের পাট স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এবং প্রভাবশালী দখলদারদের প্রতি পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল দখলমুক্ত, নেটপাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

Ads small one

কয়রায় বাঘ বিধবা নারীদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ফুড প্যাক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
কয়রায় বাঘ বিধবা নারীদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ফুড প্যাক বিতরণ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: কয়রা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ১৫০ জন বাঘ বিধবা নারীদের মাঝে ফুড প্যাক বিতরণ করেছেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত।

মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই ফুড প্যাক বিতরণ করা হয় ।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেন, বাঘ বিধবা নারীরা খুব অসহায়ের মধ্যে জীবন যাপন করে থাকে। তাদের কষ্ট লাঘবে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) শ্রাবনী বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান, মোঃ মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার তীলক কুমার ঘোষ, সিনিয়র মৎস্য অফিসার সমীর কুমার সরকার, সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাবির, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইস্তিয়াক আহমেদ, সমবায় অফিসার তানভীর মাসুদুল হাসান প্রমুখ।

 

এর আগে জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত কয়রা উপজেলার ৫০ পরিবারের মাঝে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়ধীন ৩ হাজার লিটার ধারন ক্ষমতা বৃষ্টি পানি সংরক্ষণের পানি ট্যাংকি বিতরণ করেন।

 

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়নধীন বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসুচীর অংশ হিসাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন ও শিক্ষা বৃত্তির অনুদান বিতরণ করেন।

 

এর আগে জেলা প্রাশাসক, কয়রা থানা, ভুমি অফিস, মহিলা বিষয়ক অফিস, মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ, মদিনাবাদ মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচীতে অংশ গ্রহণ করেন।

পাইকগাছায় দুদক-এর বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কপিলমুনি বালিকা বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় দুদক-এর বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কপিলমুনি বালিকা বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সততা ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর উদ্যোগে পাইকগাছায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনা, পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ বাস্তবায়নে কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক রহিমা আখতার শম্পা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ রুবেল হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রোকশানা পারভীন। উপজেলার ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

 

প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে ‘ক’ গ্রুপ থেকে শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দিরকে এবং ‘খ’ গ্রুপে কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পাইকগাছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষে পুরস্কার গ্রহন করেন নবম শ্রেণী ছাত্রী আনিকা কর্মকার প্রাপ্তি। শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দলনেতা তনুশ্রী দে প্রতিযোগিতার ‘প্রধান বক্তা’ নির্বাচিত হন।

বৈরামপুরে বেতনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, বিপর্যয়ের মুখে তিন ইউনিয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
বৈরামপুরে বেতনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, বিপর্যয়ের মুখে তিন ইউনিয়ন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের বৈরামপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ার-ভাটার অব্যাহত স্রোতে গত কয়েক মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট চর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভাঙন সড়কের মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুটের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে যেকোনো সময় বেড়িবাঁধ ও পিচঢালা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে শুধু কাদাকাটি নয়, কুল্যা ও দরগাহপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী তালা উপজেলার কয়েকটি গ্রামও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী মানুষের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বেতনা নদীর তীরঘেঁষা বেড়িবাঁধটি বর্তমানে একটি কার্পেটিং সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কটি উত্তর দিকে কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি সেতু এবং দক্ষিণ দিকে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে সড়কসংলগ্ন চর ক্রমেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে সড়ক থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র ৪০/৪৫ ফুট। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙনস্থলের কিছু অংশে নদীর চর প্রায় ২৫/৩০ ফুট গভীর হয়ে গেছে। ফলে সামান্য অংশ ভেঙে পড়লেই সড়কটি নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বৈরামপুর জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নদীর পাড়ে গভীর ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে মাটি ধসে নদীতে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, “ভাঙন এখন সড়কের একেবারে কাছে চলে এসেছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে শুধু তিন ইউনিয়ন নয়, তালা উপজেলারও বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

 

ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সড়ক থেকে মাত্র ৬/৭ ফুট দূরে ভাঙন চলে এসেছে। ভাঙনের গভীরতাও অনেক বেশি। আর সামান্য অংশ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ভাঙনস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এর কয়েকদিন পর একজন সার্ভেয়ার এসে ভাঙনস্থল পরিমাপ করেও যান। তবে এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও ভাঙন প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “নদীভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হলে একদিকে যেমন কাদাকাটি, কুল্যা ও দরগাহপুরের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, অন্যদিকে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের, কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে এলাকার কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আগেই ভাঙনস্থলে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন নদীতীরবর্তী আতঙ্কিত মানুষ। তাদের ভাষায়, “বাঁধ ভাঙার পর ব্যবস্থা নয়, বাঁধ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা চাই।”