বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ভেলায় ভাসছে জীবন, ছয়-সাত মাস পানিবন্দি শত শত পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ভেলায় ভাসছে জীবন, ছয়-সাত মাস পানিবন্দি শত শত পরিবার
ইব্রাহিম খলিল : এটি কোনো নদীপথ নয়, এটি সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি আবাসিক এলাকা। অথচ টানা বৃষ্টি আর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় এখানকার মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ভেলা। বাজার করা, গবাদিপশুর খাবার আনা, শিশুদের স্কুলে নেওয়া কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ সবই করতে হচ্ছে ভেলায় চড়ে। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার।
টানা ১৮ দিনের বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও।
সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার ৬, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। ইটাগাছা, কামালনগর, বাঁকাল, বারুইপাড়া, পলাশপোল ও মধুমোল্লার ডাঙিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি নামার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইটাগাছা এলাকায় অনেক পরিবার এখন ভেলা ছাড়া চলাচলই করতে পারছে না।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই তাদের বাড়ির চারপাশ পানিতে ডুবে যায়। বাজার করা, গবাদিপশুর খাবার আনা থেকে শুরু করে সংসারের প্রায় সব কাজই ভেলায় করে করতে হয়। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কামালনগরের বাসিন্দা ছবিরুনেছা বলেন, দীর্ঘদিন পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে অনেকের পায়ে ঘা হয়েছে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে একবারে কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতে হয়। প্রতিবছর প্রায় ছয় থেকে সাত মাস এভাবেই পানিবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ওবায়দুস সুলতান বাবলু বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও ড্রেন দখল এবং পরিকল্পনাহীন মৎস্যঘের নির্মাণের কারণে প্রতিবছর একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ইটাগাছা এলাকায় প্রায় দেড়শ পরিবারের মধ্যে শতাধিক পরিবারের শৌচাগার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ঘের মালিক পানি আটকে রাখায় এবং বাইপাসের স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, চিংড়ি চাষের স্বার্থে খালে নেট-পাটা বসিয়ে যারা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের স্বেচ্ছায় তা অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাময়িক উদ্যোগে এ সমস্যার সমাধান হবে না। খাল ও ড্রেন পুনঃখনন, পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রতিবছরই একইভাবে ভেলায় ভেসে জীবন কাটাতে হবে সাতক্ষীরার শত শত পরিবারকে।

Ads small one

শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন ভাল। দেখছেন লাভের মুখ। বাড়ছে পাটের চাষ। খুশি চাষিরা।

কৃষি প্রধান উপজোলা শার্শা। চলতি মৌসুমে টার্গেট অতিরিক্ত হয়েছে পাটের আবাদ। ফলনও হয়েছে ভাল। প্রতি বিঘায় ফলছে ১০ থেকে ১২ মন পাট। কেউ কাটছেন পাট, আবার কোথাও চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ।

 

সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। প্রতিমন পাট বিাক্রি হচ্ছে ৩৫ শ থেকে ৩৬ শ টাকা। পাটখড়ির দামও পাচ্ছেন ভাল। ফলে পাটের দাম ভাল সহ বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকেরা।

চলছে পাটের আশ ছাড়ানোর কাজ। এবার পাটের ফলন ও দাম ভাল থাকায় শ্রমিকদের বাড়ছে উপার্যন। পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল দিন কাটছে তাদের।

যশোরের শার্শা উপজেলায় এবার চাহিদার অতিরিক্ত পাটের চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাচ্ছে কৃষকেরা। ফলে বাড়ছে চাষ। আগামীতে আরো পাট চাষের আশা কৃষি অধিদপ্তরের।

অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো পরিচর্যায় এবার পাটের ফলন হয়েছে ভালো। উপজেলায় সাত হাজার ৫ শ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে ভোমরা-বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে ভোমরা-বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা ও বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত রয়েছর স্বাভাবিক।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম সচল থাকবে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বুধবার বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটিতে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম রয়েছে বন্ধ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় শুরু হবে আমদানি-রপ্তানি। তবে বন্দরে পণ্য খালাস করা খালি ট্রাক ফিরে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

গরমের তাপদাহে ঘাসকাটতে গিয়ে স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
গরমের তাপদাহে ঘাসকাটতে গিয়ে স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু

প্রতীকি ছবি

পত্রদূত ডেস্ক: গরমের তাপদাহে ঘাস কাটার সময় স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার লাবসা ইউনিয়নের গোপিনাথপুরে এই ঘটনা ঘটে।

লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, বিগত ত্রিশ বছর ধরে কর্মরত গ্রাম পুলিশ আব্দুল খালেক মঙ্গলবার দুপুরে (৫০) বাড়ির ছাগল গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে অতি তাপদাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

পরে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান খালেক স্ট্রোক করেছেন। পরে চিকিৎসাধীন খালেক বুধবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বাদ জোহর তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, খালেকের মৃত্যুতে তিনিসহ এলাকার সকলেই গভীরভাবে শোকাহত।