শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মহালয়ার অমাবস্যা: পিতৃস্মরণ থেকে দেবীবন্দনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
মহালয়ার অমাবস্যা: পিতৃস্মরণ থেকে দেবীবন্দনা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

আকাশে শরতের সাদা মেঘ, বাতাসে শিউলির গন্ধ আর ভোরের স্তব্ধতা ভেঙে চ-ীপাঠের ধ্বনিÑবাঙালি হিন্দুর মনে দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে মহালয়া। তবে মহালয়া কেবল দেবী দুর্গার আবাহনের দিন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পিতৃস্মরণ, পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জীবন-মৃত্যুর সম্পর্ক উপলব্ধি করার এক গভীর ধর্মীয় ঐতিহ্য। মহালয়ার অমাবস্যা তাই একই সঙ্গে স্মৃতি, বিশ্বাস ও আত্মোপলব্ধির দিন।হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি অমাবস্যা। এই তিথিতেই পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং পরদিন থেকে দেবীপক্ষের সূচনা হয়Ñযদিও পঞ্জিকাভেদে তিথি ও সূচনার সময়ের তারতম্য থাকতে পারে।

 

প্রচলিত বিশ্বাসে, এই দিনে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়। নদী, পুকুর কিংবা জলাশয়ের তীরে দাঁড়িয়ে জল নিবেদন করে তাঁদের স্মরণ করেন অনেকে। এই আচার শুধু পরলোকগত আত্মার শান্তি কামনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের শিকড়, পারিবারিক ইতিহাস ও পূর্ববর্তী প্রজন্মের অবদানও স্মরণ করে।প্রশ্ন হলো, মহালয়ার অমাবস্যার তাৎপর্য কি শুধু ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ? সময়ের দাবি বলছে, এর মানবিক অর্থও আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।মানুষ একা নিজের জীবন গড়ে তোলে না। তার অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং পূর্ববর্তী বহু প্রজন্মের শ্রম, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা। তাঁদের কাছ থেকেই আসে ভাষা, সংস্কার, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি।

 

পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণের মধ্য দিয়ে সেই উত্তরাধিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা প্রায়ই দেখি, জীবিত বাবা-মায়ের যতœ নেওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা রয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে অনেক মা-বাবা সন্তানের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হন। অথচ তাঁদের মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিক শ্রাদ্ধ বা তর্পণে কোনো কার্পণ্য থাকে না। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। মৃতের উদ্দেশে ধর্মীয় আচার পালন যেমন বিশ্বাসের বিষয়, তেমনি জীবিত মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনও নৈতিক কর্তব্য।পিতৃস্মরণের প্রকৃত শিক্ষা এখানেইÑযাঁরা আমাদের জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা যেন শুধু নির্দিষ্ট তিথির আনুষ্ঠানিকতায় আটকে না থাকে।অমাবস্যা মানেই চাঁদহীন রাত।

 

প্রকৃতির এই অন্ধকারকে ঘিরে মানুষের মনে নানা ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রতীকী অর্থ তৈরি হয়েছে। মহালয়ার অমাবস্যার পরই দেবীপক্ষের আগমন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন প্রত্যাশা জাগায়। চ-ীপাঠে দেবীর আবাহন, মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের সুর এবং আগমনী গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের প্রতীক্ষা।দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও অশুভের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক। পৌরাণিক কাহিনিতে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকে নির্দেশ করে। এই প্রতীকী বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক।

 

সমাজে যখন অন্যায়, নারী নির্যাতন, বৈষম্য কিংবা দুর্বল মানুষের ওপর নিপীড়ন দেখা যায়, তখন দেবীবন্দনার পাশাপাশি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহসও প্রয়োজন।দুর্গাপূজার আনন্দ তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন দেবীর আরাধনা মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের সঙ্গে যুক্ত হয়। ম-পে দেবীর সামনে প্রার্থনা করে ঘরের নারী, শিশু কিংবা অসহায় মানুষের প্রতি অন্যায়কে উপেক্ষা করলে সেই আরাধনার মানবিক তাৎপর্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে মহালয়াকে ঘিরে নানা রীতি ও পারিবারিক প্রথা প্রচলিত রয়েছে। কোথাও নদীতে তর্পণ করা হয়, কোথাও বাড়িতে ধর্মীয় আচার পালিত হয়, আবার কোথাও পূর্বপুরুষের স্মরণে দান-ধ্যানের আয়োজন থাকে। এসব প্রথার মধ্যে স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে।তবে সব অঞ্চলে একই নিয়ম প্রচলিত নয়।

 

ধর্মীয় আচারের ব্যাখ্যাও সম্প্রদায়, পরিবার ও পঞ্জিকাগত রীতি অনুসারে ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো একটি প্রথাকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক বলে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই তার অন্তর্নিহিত শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন।ধর্মীয় আচারের সঙ্গে কুসংস্কারের পার্থক্য করাও জরুরি। ভয় দেখিয়ে কাউকে কোনো আচার পালনে বাধ্য করা কিংবা নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে অমঙ্গল ঘটবে বলে আতঙ্ক ছড়ানো ধর্মীয় অনুভূতির সুস্থ প্রকাশ নয়। ধর্ম মানুষের মনে সংযম, কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা জাগাবেÑএটাই প্রত্যাশিত।মহালয়া দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা দেয়। এরপর ম-পে ম-পে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং পূজার প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু উৎসবের আয়োজনের পাশাপাশি আমাদের চারপাশের মানুষের কথাও ভাবতে হবে।

 

অসচ্ছল পরিবার, প্রবীণ মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা উৎসবের খরচ বহন করতে না পারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সামাজিক দায়িত্ব।বাংলাদেশের মতো বহুধর্মীয় সমাজে দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব হলেও এর সাংস্কৃতিক আনন্দ প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এই মিলন যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। কারও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বিদ্রƒপ, উপাসনালয়ে হামলা কিংবা উৎসব পালনে বাধা দেওয়ার কোনো স্থান সভ্য সমাজে থাকতে পারে না।মহালয়ার অমাবস্যা আমাদের অতীতের দিকে তাকাতে শেখায়, আর দেবীপক্ষ সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।

 

একদিকে পূর্বপুরুষের স্মৃতি, অন্যদিকে শক্তির আরাধনাÑএই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে জীবনের ধারাবাহিকতার শিক্ষা। অতীতকে অস্বীকার করে ভবিষ্যৎ গড়া যায় না; আবার কেবল অতীতের স্মৃতিতে আটকে থাকলেও চলবে না।মহালয়ার দিনে তাই তর্পণের জল নিবেদনের পাশাপাশি নিজের বিবেকের কাছেও প্রশ্ন রাখা দরকারÑআমরা কি আমাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করছি? দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি? পরিবারে প্রবীণদের মর্যাদা দিচ্ছি? সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছি?এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই মহালয়ার তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে উঠতে পারে। অমাবস্যার অন্ধকার পেরিয়ে দেবীপক্ষের আলো আসুক মানুষের মনেও। পিতৃস্মরণ হোক কৃতজ্ঞতার, দেবীবন্দনা হোক ন্যায় ও সাহসের, আর দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

পূজা মন্ডপের সংখ্যা বাড়ুক বা কমুক, নিরাপত্তায় প্রস্তুত পুলিশ: এসপি আশরাফুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
পূজা মন্ডপের সংখ্যা বাড়ুক বা কমুক, নিরাপত্তায় প্রস্তুত পুলিশ: এসপি আশরাফুল আলম

মিলন বিশ্বাস: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘœ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ। জেলার ৬০৯টি পূজামন্ডপকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ডপের সংখ্যা বাড়ুক বা কমুক, প্রতিটি মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৬০৯টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এর আগে মন্ডপের সংখ্যা ৬১২টি পাওয়া গিয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের কারণে এ সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে। তবে মন্ডপের সংখ্যা যা-ই হোক, প্রতিটি মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিট পুলিশিং কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সার্কেল অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করছেন। প্রতিমা ও মন্ডপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পূজার দিনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ সুপার জানান, মন্ডপগুলোতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ পূজামন্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সে জন্য সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক থাকবে।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ পূজামন্ডপে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যেসব মন্ডপ এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আসেনি, সেগুলোতেও দ্রুত ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মন্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। দুর্গাপূজাও সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, পূজামন্ডপে আগত দর্শনার্থীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

মাদকমুক্ত সমাজ ও শ্যামনগর গড়ার আহ্বান পুলিশ কর্মকর্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
মাদকমুক্ত সমাজ ও শ্যামনগর গড়ার আহ্বান পুলিশ কর্মকর্তার

শ্যামনগর প্রতিনিধি: মাদকমুক্ত সমাজ ও পরিচ্ছন্ন শ্যামনগর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অনঙ্গ কুমার ম-লের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রুস্তম আলী, বিএনপি নেতা মোজাম মোল্লাসহ স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম বলেন, সমাজ থেকে মাদককে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে মাদকসেবী ও কারবারিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মাদক সমাজকে গ্রাস করে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতার কারণে সন্তান জন্মদাতা মা-বাবাকে পর্যন্ত মারধর কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ ঘটাচ্ছে। অতীতে মাদকাসক্তির কারণে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে মানুষের বিবেককে সর্বাগ্রে কাজে লাগাতে হবে। ধর্ম ভিন্ন হলেও সুষ্ঠু সমাজ গঠনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে এবারের শারদীয় উৎসব উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূজা উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে বা মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী সব ধরনের অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সদরের ইন্দারায় পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, ২ নারীসহ আহত ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সদরের ইন্দারায় পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, ২ নারীসহ আহত ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ইন্দারা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মারাত্মক জখম অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন মোছা. হামিদা খাতুন (৬৫), লাভলী পারভীন (৩৮) এবং মো. আব্দুল গফুর (৪৩)।
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন আব্দুল গফুর জানান, জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্থানীয় আবাদের হাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা তাঁর আপন সেজ ভাই পাটকেলঘাটা পূবালী ব্যাংক শাখার নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একদল উগ্র কিশোর ও যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ সময় আঘাত সামলাতে না পেরে তিনি ড্রেনের মধ্যে পড়ে যান। তাঁর আত্মচিৎকারে মা হামিদা খাতুন ও স্ত্রী লাভলী পারভীন বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয়। লোহার রডের আঘাতে আব্দুল গফুরের মাথা ফেটে যায় এবং বাঁ হাতের দুটি আঙুল ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তাঁরা শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জামিরুল মারামারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।