শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

যন্ত্রের চোখে দেখা পথ, মানুষের চোখে খোঁজা গন্তব্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
যন্ত্রের চোখে দেখা পথ, মানুষের চোখে খোঁজা গন্তব্য

মো. মামুন হাসান

ক্লাসরুমে ঢোকার আগে প্রতিদিন একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। আমি যাদের শেখাচ্ছি, তারা যখন কর্মক্ষেত্রে যাবে, তখন পর্যটন শিল্পটা আজকের চেহারায় থাকবে তো? উত্তরটা প্রতিবারই এক, না, থাকবে না। এই না থাকার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের সবচেয়ে জরুরি বার্তা। জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা এবার যে প্রতিপাদ্য বেছে নিয়েছে, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন, তা কোনো ভবিষ্যৎ কল্পনা নয়। এটা এমন একটা বাস্তবতা, যা এই মুহূর্তে আমাদের শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই ঢুকে পড়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বসে আমি দেখি, আমার শিক্ষার্থীরা একটা হোটেলের বুকিং সিস্টেম শেখার আগেই মোবাইল ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত অ্যাপ দিয়ে ভ্রমণসূচি বানিয়ে ফেলছে। তারা প্রশ্ন করছে না গাইডবুক থেকে, তারা কথা বলছে একটা চ্যাটবটের সঙ্গে, যে মুহূর্তেই বলে দিচ্ছে কোন হোটেলে থাকা ভালো, কোন রেস্তোরাঁয় খাবার সস্তা আর ভালো, কোন রাস্তায় ভিড় কম। এই পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে পাঠ্যক্রম লেখার কালি শুকানোর আগেই সেই পাঠ পুরোনো হয়ে যায়। একজন শিক্ষক হিসেবে এটা আমার কাছে শঙ্কার বিষয় যতটা, তার চেয়ে বেশি সুযোগের বিষয়।

সুযোগ বলছি এই কারণে যে, আমাদের সাতক্ষীরার মতো জেলা শহরে বসেও একটা শিক্ষার্থী এখন বিশ্বমানের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারে বিনা খরচে, বিনা ভ্রমণে। সুন্দরবনের কোলে বেড়ে ওঠা একটা ছেলে বা মেয়ে তার নিজের এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারে, যেখানে আগে এই কাজের জন্য দরকার হতো বহুজাতিক প্রচার সংস্থার পুঁজি। প্রযুক্তি এখানে সমতার হাতিয়ার হতে পারে, যদি আমরা তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখাই।

কিন্তু এই সমতার প্রতিশ্রুতির পাশেই একটা কঠিন প্রশ্ন দাঁড়িয়ে থাকে। যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিদিন লাখো মানুষকে বলে দিচ্ছে কোথায় যেতে হবে, তার সিদ্ধান্তের পেছনে কার স্বার্থ কাজ করছে? বড় বড় ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম যদি তাদের নিজের পছন্দের গন্তব্যকে বেশি দৃশ্যমান করে তোলে, আর ছোট, কম পরিচিত অথচ সমান সুন্দর জায়গাগুলো যন্ত্রের চোখের আড়ালে থেকে যায়, তাহলে প্রযুক্তি সমতা আনার বদলে বৈষম্য আরও গভীর করবে। শ্যামনগরের কোনো ইকো ট্যুরিজম উদ্যোগ, কিংবা মুন্সিগঞ্জের কোনো নদীপাড়ের হোমস্টে, এসব যদি অ্যালগরিদমের র‌্যাংকিংয়ে জায়গা না পায়, তাহলে সেই জায়গাগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে থেকে যাবে। এই জায়গাটাতেই শিক্ষকের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহার করা শেখানো যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তির পেছনের যুক্তি বোঝানোও দরকার।

আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের একটা কথা বলি, যন্ত্র পথ দেখাতে পারে, কিন্তু আতিথেয়তা শেখাতে পারে না। একটা চ্যাটবট বলে দিতে পারবে কোন হোটেলে রুম খালি আছে, কিন্তু সেই হোটেলের রিসেপশনে দাঁড়িয়ে একজন ক্লান্ত পর্যটককে যে হাসিমুখে স্বাগত জানাবে, সেই মানবিক স্পর্শটা তৈরি করা সম্ভব নয় কোনো কোডে। আমাদের বিভাগে আমরা তাই একটা ভারসাম্যের পাঠ দিতে চাই। একদিকে ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেম শেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে অতিথি সেবার সেই পুরোনো শিল্পটাও যেন হারিয়ে না যায়, তার চর্চা চলছে সমান গুরুত্বে।

এবারের প্রতিপাদ্যের একটা গভীর দিক আছে, যা অনেকেই খেয়াল করছেন না। এই বছরই প্রথমবার এমন এক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে দিবস উদযাপিত হচ্ছে, যে প্রযুক্তি ইতিমধ্যে নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মানুষ কোথায় যাবে। এর আগে প্রতিটা প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছিল একটা শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে। এবার সেই শক্তি নিজেই চালকের আসনে বসে গেছে। এই বাস্তবতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটা সতর্কবার্তা। আমরা যদি শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী তৈরি করি, নির্মাতা নয়, তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পর্যটন অর্থনীতিতে কেবল উপভোক্তা থেকে যাবে, নির্ধারক হবে না।

সাতক্ষীরার মতো এলাকায় সুন্দরবন ঘিরে যে বিপুল সম্ভাবনা আছে, তা এখনো অনেকটাই অব্যবহৃত। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার স্বপ্ন, আমার শিক্ষার্থীরা একদিন এমন একটা স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে সুন্দরবনের প্রতিটা ছোট গ্রাম, প্রতিটা মধু সংগ্রাহকের গল্প, প্রতিটা নদীর বাঁক নিজের ভাষায়, নিজের সত্যতায় বিশ্বের সামনে হাজির হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তখন হবে আমাদের গল্প বলার হাতিয়ার, কারও গল্প চাপা দেওয়ার যন্ত্র নয়।

বিশ্ব পর্যটন দিবস তাই এই বছর আমার কাছে একটা আয়নার মতো। এই আয়নায় দেখা যায়, প্রযুক্তি যত এগিয়ে যাক, মানুষ কোথায় যেতে চায় তার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত মানুষের হাতেই থাকা উচিত। যন্ত্র সাহায্য করবে, পথ দেখাবে, তথ্য দেবে, কিন্তু গন্তব্যের গল্প লিখবে মানুষই। শিক্ষক হিসেবে আমার কাজ তাই কেবল কোড শেখানো নয়, বরং এই বোধটা তৈরি করা, যাতে আমার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের পর্যটন গড়ার সময় প্রযুক্তির কাছে নিজেদের বিচারবুদ্ধি হারিয়ে না ফেলে।

আগামীর পর্যটন যেমন ডিজিটাল হবে, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সমৃদ্ধ হবে, তেমনই তা যেন থেকে যায় মানবিক, স্থানীয় বাস্তবতার প্রতি সৎ, আর সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই তিনটে শর্ত পূরণ হলেই এই দিনটার উদযাপন সত্যিকারের অর্থবহ হবে। নইলে এটা কেবল আরেকটা প্রযুক্তি বিষয়ক সম্মেলনের নামান্তর হয়ে থাকবে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় চারটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় চারটি কাঁচা ঘর লন্ডভন্ড

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে আকস্মিক টর্নেডো ঝড়ে চারটি কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তর বাইনতলা গ্রামে প্রবল বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক এ ঝড়ের ঘটনা ঘটে। এতে চারটি বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ প্রচন্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে টর্নেডোর মতো ঝড়ে উত্তর বাইনতলা গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা ও তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তান্ডবে ঘরের এলবেস্টারের ছাউনি ও বেড়া উড়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে বড়দল ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরে আব্দুল গফুর সানা ও শরিফুল ইসলাম শরীফ নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা।

এদিকে, টর্নেডো ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি জানতে লোক পাঠিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

কৃতী ভলিবল খেলোয়াড় মোসলেম গাজীর মৃত্যুতে সাজেক্রীস এর শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
কৃতী ভলিবল খেলোয়াড় মোসলেম গাজীর মৃত্যুতে সাজেক্রীস এর শোক

সাতক্ষীরা জেলা দলের প্রাক্তন কৃতী ভলিবল খেলোয়াড় মোসলেম গাজী আজ (শনিবার) সকাল আনুমানিক ৫টার দিকে সাতক্ষীরার কুখরালীস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও কোচদের পক্ষ থেকে সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ আবু জাহিদ ডাবলু মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিছন্নতা অভিযান

দীপঙ্কর বিশ্বাস/কে এম রেজাউল করিম: সারা দেশের ন্যায় দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিভিন্ন আঙ্গিনা ও ড্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, ডা: আশফাকুজ্জামান, ডা: আরিফ বিল্লাহ, ডা: অনন্যা রানী, ডা: নাহিদা আক্তার হিরা, ক্যাশিয়ার বাবুর আলি, পরিসংখ্যানবিদ মামুন আর রশিদ, মিড ওয়াইফ রানী খাতুন, এস এস এন চম্মা মিস্ত্রি, অফিস সহায়ক নয়ন কুমার দাশ।

এদিকে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।
অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ইউপি গ্রাম পুলিশ সদস্যারা উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে অংশ নেন।