বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোনালদো বিশ্বকাপ জিতলে কে হবেন ‘বিশ্বসেরা’?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
রোনালদো বিশ্বকাপ জিতলে কে হবেন ‘বিশ্বসেরা’?

২০০০ সালের আগের ফুটবল বিশ্ব বিভক্ত ছিল দুটো নামে—পেলে নাকি ম্যারাডোনা? যুগ যুগ ধরে ধরে চলা সেই চিরন্তন বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ফুটবল মাঠে আবির্ভাব ঘটেছিল দুই ভিন গ্রহের ফুটবলারের- লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিগত দেড় দশক ধরে এই দুই জন মিলে পেলে-ম্যারাডোনা যুগের সেই পুরোনো বিতর্ককে ইতিহাস বানিয়ে ফুটবল বিশ্বকে এক আধুনিক দ্বৈরথ উপহার দিয়েছেন।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার পর ফুটবল দুনিয়ার একটা বড় অংশ রায় দিয়ে দিয়েছিল—”The GOAT debate is over!” অর্থাৎ, সর্বকালের সেরার বিতর্ক শেষ। কিন্তু আসলেই কি শেষ? ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বর্তমান ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ স্কোয়াড এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘শেষ সুযোগের’ দিকে তাকালে নতুন একটা সমীকরণ সামনে আসে।

ধরে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালে পর্তুগাল বিশ্বজয় করলো এবং রোনালদো তার অধরা বিশ্বকাপটি পেয়ে গেলেন। তাহলে কি রোনালদো এককভাবে মেসির চেয়ে এগিয়ে ‘গোট’ হতে পারবেন? ফুটবলীয় বিশ্লেষণ এবং যুক্তি বলছে—না, তাও ক্রিস্টিয়ানো এককভাবে সর্বকালের সেরা হতে পারবেন না। এর পেছনে রয়েছে কিছু কারণ-

‘ওয়ান-ম্যান আর্মি’ বনাম ‘টিম এফোর্ট’

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল কিন্তু কাগজে-কলমে সেরা ছিল না। মেসি প্রায় একাই (৭টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে) পুরো দলকে টেনে ফাইনালে নিয়ে গেছেন এবং চ্যাম্পিয়ন করেছেন।

অন্যদিকে, বর্তমান পর্তুগাল দল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তারকাবহুল দল। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা, ভিতিনহা, হোয়াও নেভেস, রুবেন দিয়াজ কিংবা রাফায়েল লিয়াওদের নিয়ে গড়া এই দল যেকোনও পজিশনেই বিশ্বসেরা। এই দলে রোনালদোর ভূমিকা হয়তো হবে একজন দুর্দান্ত ফিনিশারের, কিন্তু মেসির মতো পুরো দলকে মাঝমাঠ থেকে তৈরি করে টেনে নেওয়ার মতো ভূমিকা এই বয়সে রোনালদোর পক্ষে অসম্ভব।

প্লে-মেকিং ও ফুটবলের নান্দনিকতা

ফুটবল শুধু সংখ্যার খেলা নয়, ফুটবল একটি শিল্প। রোনালদো ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোল স্কোরার এবং বক্স স্ট্রাইকার। তার গোল করার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত।

মেসি একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। পাশাপাশি ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল সহায়তাকারী। আবার ফুটবলের ইতিহাসের সেরা প্লে-মেকার ও ড্রিবলারদের একজন।

রোনালদো ট্রফি জিতলে তার ভূমিকা থাকবে গোলে, কিন্তু মেসি ট্রফি জিতেছেন ফুটবলকে ডিফাইন করে। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা, ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো এবং নিখুঁত পাসিংয়ের যে জাদু মেসির আছে, তা রোনালদোর ট্রফি ক্যাবিনেটে বিশ্বকাপ যোগ হলেও এগুলো অধরা।

ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ব্যবধান

ফুটবলে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি ধরা হয় ব্যালন ডি’অর-কে। মেসির ঝুলিতে আছে রেকর্ড ৮টি ব্যালন ডি’অর। রোনালদোর সংগ্রহে আছে ৫টি।

পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যক্তিগত এই অর্জনের বিশাল ব্যবধান (৩টি ব্যালন ডি’অর) ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না, যা মেসিকে সবসময়ই এককভাবে কিছুটা এগিয়ে রাখবে।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়

মেসি ২০২২ সালে শুধু বিশ্বকাপ জেতেননি, তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালেও একই গৌরব অর্জন করেছিলেন। বিশ্বকাপে মেসির এই একক আধিপত্য ফুটবলের ইতিহাসে বিরল। পর্তুগাল যদি বিশ্বকাপ জেতেও বর্তমান দলের শক্তির গভীরতার কারণে রোনালদোর এককভাবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়া বা গোল্ডেন বল জেতার সম্ভাবনা বেশ কম।

পর্তুগাল যদি এবার বিশ্বকাপ জেতে, তবে ২০০০ সালের আগের পেলে-ম্যারাডোনার বিতর্ক যেমন স্থবির হয়ে গিয়েছিল, তেমনি মেসি-রোনালদোর আধুনিক বিতর্কটি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। রোনালদোর ফুটবলের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হবে। অনেকে মেসির পাশে বসাবেন কিংবা এগিয়েও রাখতে চাইবেন।

তারপরও যদি প্রশ্ন করা হয়—‘কে এককভাবে ইতিহাসের একমাত্র সেরা’- তাহলে ফুটবল রোমান্টিক, বিশ্লেষক এবং বোদ্ধাদের ভোটটি মেসির নান্দনিকতা, প্লে-মেকিং এবং ফুটবলীয় জাদুর কারণে আর্জেন্টাইন ১০ নম্বরের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকবে।

Ads small one

ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কারওয়ান বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে মঙ্গলবার তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ। বিকেলবেলা মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর ডান চোখে লাগে। আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কাঁঠালবাগানের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।