বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

র‌্যাব বিলুপ্তি করে এসআরবি বিল সংসদে, বিরোধী দলের ৭ আপত্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্তি করে এসআরবি বিল সংসদে, বিরোধী দলের ৭ আপত্তি

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ দ্রুত পাস করা, র‍্যাবের জনবল-সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, অভিযোগ তদন্তের কাঠামো এবং সদস্যদের আটক ও শাস্তির ক্ষমতা নিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি তুলেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিলের ওপর দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে তারা বলেছেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে যথাযথ জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে উত্থপিত বিলে এই আপত্তি জানানো হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থপিত বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির প্রতিবেদনসহ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন।

কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সাতটি আপত্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিরোধী দলের সাতটি আপত্তি হলো-

বিরোধী দলের সাত আপত্তি

১. পরামর্শ ছাড়াই দ্রুত বিল পাস ঝুঁকিপূর্ণ

নোট অব ডিসেন্টে বলা হয়েছে, র‍্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির দীর্ঘদিনের অবস্থান। ২০১৪ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে দলটি র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলার সময়ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম র‍্যাব বিলুপ্তির আগের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিরোধী সদস্যরা উল্লেখ করেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর এবং গুম কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও সতর্ক করেছে, যথাযথ নজরদারি ছাড়া এসআরবি র‍্যাবের নতুন নাম হয়ে উঠতে পারে।

বিলের ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী র‍্যাবের জনবল, স্থাপনা, ক্ষমতা, রেকর্ড, সম্পত্তি, চুক্তি ও দায় সরাসরি এসআরবিতে যাবে। ফলে নাম পরিবর্তনের বাইরে বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রমে কী পরিবর্তন আসছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তা না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন বাহিনীকে র‍্যাবের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হতে পারে।

তাদের প্রস্তাব, বিলের ওপর কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রসিকিউটর, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভা করা।

২. র‍্যাবের রেকর্ড কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে

ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী র‍্যাবের হিসাববই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও দলিল এসআরবিতে যাবে। কিন্তু হস্তান্তরের আগে এসব নথি কীভাবে সংরক্ষণ, তালিকাভুক্ত ও নিরাপদ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, গুমসহ গুরুতর অপরাধের বহু মামলায় র‍্যাবের পদায়ন ও বদলির আদেশ, ডিউটি রোস্টার, অভিযান ও গ্রেফতার রেকর্ড, হেফাজত রেজিস্টার, গাড়ি চলাচলের তথ্য, ওয়্যারলেস লগ, ইলেকট্রনিক রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও অস্ত্র ইস্যু রেজিস্টার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। রেকর্ড হস্তান্তরের সময় এসব নষ্ট, পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে চলমান মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের প্রস্তাব, ধারা ২৭-এ রেকর্ড সুরক্ষার পৃথক বিধান যুক্ত করতে হবে। হস্তান্তরের সময় প্রতিটি নথি ও আলামতের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো রেকর্ড গোপন, পরিবর্তন, সরানো বা নষ্ট করা অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। আদালতের আদেশ ছাড়া সাবেক আটকস্থলের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। আদালত, ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউটর ও আইনসম্মত তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩. এসআরবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বাধীনতা দরকার

বিলের ধারা ২৪-এ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এর সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সদস্য-সচিব হবেন এসআরবির পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া)। বিরোধী সদস্যদের মতে, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযোগ তদন্ত হলে স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

তাদের আরও আপত্তি, কমিটির পূর্বঘোষণা ছাড়া ক্যাম্পে প্রবেশ, হাজতখানা পরিদর্শন, রেকর্ড সিলগালা বা আটক ব্যক্তি ও সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার ক্ষমতা স্পষ্ট নয়। অপরাধের আলামত পাওয়া গেলে তা ফৌজদারি তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও নেই। অভিযোগকারীকে ফল জানানো এবং তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও স্পষ্ট বিধান নেই।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি গঠন করতে হবে। এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। কমিটির সচিবালয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে রাখার পাশাপাশি এসআরবির স্থাপনায় পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রবেশ, নথি পরীক্ষা ও আটক ব্যক্তির সঙ্গে একান্তে কথা বলার ক্ষমতা দিতে হবে।

৪. মামলা আদালতে যাওয়ার আগে এসআরবির কাজ কে দেখবে

ধারা ১২ থেকে ১৫-তে এসআরবিকে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার ও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি ও জব্দ আলামত নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তরের কথা থাকলেও এসআরবির অভিযান সম্পর্কে জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপার বা আদালতের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান নেই।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, এসআরবিকে পুলিশের মতো ক্ষমতা দেওয়া হলে পুলিশের মতো নিয়মিত জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাদের প্রস্তাব, এসআরবির প্রতিটি জেলায় মাসিক বিবরণী দিতে হবে। এতে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, কারণ, থানায় হস্তান্তরের সময়, তল্লাশি ও জব্দের তথ্য এবং পরোয়ানার বিষয় উল্লেখ থাকবে। বিবরণীর অনুলিপি পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।

৫. এসআরবি কোথায় এবং কতক্ষণ কাউকে আটক রাখতে পারবে

বিলের ধারা ১৩-তে বেসামরিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘আটক’ শব্দ ব্যবহার করা হলেও এর স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। ধারা ১৫(৪)-এ এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বেসামরিক ব্যক্তিকে কোথায় এবং কতক্ষণ রাখা যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা নেই। ধারা ১৪-তে ‘অনতিবিলম্বে’ থানায় হস্তান্তরের কথা বলা হলেও এর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, অতীতে র‍্যাবের অঘোষিত স্থাপনায় মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ ও হেফাজত রেজিস্টার না রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসআরবির প্রতিটি দফতর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি হেফাজতের জন্য ক্রমিক নম্বরযুক্ত রেজিস্টার রাখতে হবে। সেখানে ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনগত কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসার তথ্য এবং থানায় হস্তান্তরের সময় উল্লেখ করতে হবে। থানায় হস্তান্তরের সর্বোচ্চ সময়সীমাও আইনে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

৬. প্রশিক্ষণ ছাড়া পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ নয়

ধারা ২৫-এ সদস্যদের প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও প্রশিক্ষণের মেয়াদ, পাঠ্যক্রম ও পাসের মানদণ্ড পরে বিধিতে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ধারা ১৩-তে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ওপরের কর্মকর্তাকে ফৌজদারি তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী সদস্যদের মতে, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, গ্রেফতার, তল্লাশি, জব্দ, কেস ডায়েরি ও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

তাদের প্রস্তাব, প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সদস্যকে এই ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। পুলিশ ছাড়া অন্য বাহিনী থেকে আসা সদস্যদের জন্য কমপক্ষে দুই মাসের কনভার্সন কোর্স, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও পরবর্তী রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৭. বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকার করলে সদস্যের সুরক্ষা

ধারা ১৮ অনুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সদস্যকে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ কতদিন আটক রাখা যাবে, তা স্পষ্ট নয়। আবার ধারা ২২-এ কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড ও ফ্যাটিগ ডিউটির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিরোধী সদস্যদের আশঙ্কা, বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়া কোনো জুনিয়র সদস্যও কমান্ডের প্রতিকূলতার শিকার হতে পারেন। তাই আইনসম্মত আদেশ অমান্য এবং বেআইনি কাজে অংশ নিতে অস্বীকার করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি।

তাদের প্রস্তাব, ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন করতে হবে। বেআইনি কাজের তথ্য দেওয়া বা তাতে অংশ নিতে অস্বীকারকারী সদস্যকে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। এই সুরক্ষা পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার প্রতিবেদন ও বিদেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নোট অব ডিসেন্টে এসব প্রস্তাবের পাশাপাশি এসআরবি গঠনের আগে আরও বিস্তৃত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী স্বাধীন নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Ads small one

শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

শরতের আকাশে মেঘ, গত তিনদিনই দুপুরের পর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও টানা, কোথাও আবার অল্প সময়ের ঝুম বৃষ্টি। তবু গরমের অস্বস্তি কাটছে না। বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বৃষ্টি থামার পরই আবার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

আজ বুধবার, ২৫ ভাদ্র। শরতের প্রায় মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারণত এ সময়ে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। বরং বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় তাপমাত্রা যতটা দেখা যাচ্ছে; মানুষের কাছে তার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু বৃষ্টি হলেই গরমের অস্বস্তি কমে না। বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এতে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে এবং গরম বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এই অস্বস্তি আরও বাড়ে।

বৃষ্টির পরও কেন গরম

রাজধানীতে বৃষ্টির পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আর্দ্র বাতাস ও কম বাতাস চলাচলের কারণে গরমের অনুভূতি আবার বেড়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানুষকে ঘামে ভিজতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিলছে না অনেকের।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশে কমে আসতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ‍বৃষ্টি হলেও তা এত যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই সময় বৃষ্টির পর পর আবারও ভ্যাপসা গরম লাগতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন থাকতে পারে।’ শীতকাল না আসা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিও হবে, আবার ভ্যাপসা গরমও থেকে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

কতটা বৃষ্টি হয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও বরিশালে ২৫ মিলিমিটার। ঢাকায় হয়েছে ৯ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ২৩, কুমারখালীতে ১৫, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় ১৩, মোংলা ও তাড়াশে ১১, যশোর ও রামগতিতে ১০, চাদপুরে ৮, তেতুলিয়া ৭, টেকনাফে ৫, আরিচায় ৬, সিলেট, নেত্রকোনা, হাতিয়া ও মাদারিপুরে ৩,কক্সবাজার ও বগুড়ায় ২, বান্দারবান, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকড করা হয়েছে। এর বাইরে আমবাগানে, সৈয়দপুর ও গোপালগঞ্জে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

তাপমাত্রা খুব বেশি কমেনি

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের রামগতিতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩৫ দশমিক ২, সিলেটে ৩১ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৩২ দশমিক ৫, খুলনায় ৩৩ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি।

মানুষের ভোগান্তি

বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশাচালক, পথের হকার ও নির্মাণশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে আবারও ঘামতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান মাসুদ বেপারী বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে মনে হয় গরম কমবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আবার গরম লাগে। বাতাসও কম। রাস্তায় রিকশা চালানো খুব কষ্ট হয় তখন। দুপুর গরমের মধ্যে বৃষ্টি হলে আরাম হয়। কিন্তু এরপর যে গরম পড়ে, সেটা সহ্য করা কঠিন।’’

অন্য ধরনের ভোগান্তির কথা জানালেন, রাজধানীর কাওরান বাজারের হকার ইকবাল আলী। তিনি বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে আরাম লাগে ঠিকই, কিন্তু কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর যখন কেনাবেচা শুরু করি, তখন শুরু হয় গরমের কষ্ট। কোনোদিকেই শান্তিতে নাই।’’

বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ন্যাশনাল ডেস্ক: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, তা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না; সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া। এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
এ সময় সংসদের সরকারদলীয় অংশ থেকে হইচই শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন। এই সংসদের বেশিরভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণখেলাপির নাম থেকে বাদ দেয়।’ এরপর রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত দুই মিনিট সময় শেষ হয়ে গেলে তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়। মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন রুমিন ফারহানা। এই পর্যায়ে আবারও সংসদে হট্টগোল শোনা যায়।
পরে আরও কয়েক দফায় ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সংসদের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর সরকার দলীয় চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান—সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। আমি এজ এ চিফ হুইপ অব ট্রেজারি বেঞ্চ, আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনও অবস্থাতেই কাম্য না।’

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুনা লায়লা’—এমন একটি খবর ও এআই-নির্ভর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তার দাবি, মা রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন।

পরিবার নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তানি লায়লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রুনা লায়লার সুস্থ থাকার বিষয়টি জানান।

তানি পোস্টে লেখেন, সামান্য কিছু অর্থ উপার্জনের লোভে এ ধরনের পোস্ট, এআই (AI) দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়টি দেখে আমি সত্যিই বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা শুরু করবো—একটা একটা করে, যতক্ষণ না এই সব মাথামোটা লোক তাদের এই বাজে কাজ বন্ধ করে।’

তানির ভাষ্য, ‘আমার মা তার জীবনের ছয়টি দশক সঙ্গীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। অথচ মানুষ এখনও তাকে এভাবেই অসম্মান করে চলেছে—কী চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় আমাদের জন্য!’

রুনা লায়লা সুস্থ ও জীবিত আছেন জানিয়ে পোস্টে তিনি লেখেন, আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন; কেউ মারা যাননি বা মৃত্যুর মুখেও নেই—এসবই এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভিডিও ও ছবি।’

গণমাধ্যমের কাছে তানির অনুরোধ তথ্য যাচাই করে নিউজ করার জন্য।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আর সহ্য করা যাচ্ছে না… যারা রুনা লায়লাকে অনুসরণ করেন, দয়া করে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও গানের অনুষ্ঠানে বেশ সক্রিয় ছিলেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে দুটি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও গান করেছেন এই শিল্পী।