রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরার পর্যটন: অপার সম্ভাবনা, বিদ্যমান সংকট ও জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরার পর্যটন: অপার সম্ভাবনা, বিদ্যমান সংকট ও জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরা কেবল ভৌগোলিক কারণেই অনন্য নয়, বরং প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি। বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একাংশ নিয়ে গড়ে ওঠা এই ভূখ- বিশ্ব ঐতিহ্য ও রূপসী বাংলার এক অনন্য প্রবেশদ্বার। শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালীনি, নীলকমল, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত কিংবা ভেটখালীর মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত স্থানগুলো পর্যটকদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে।

 

সুন্দরবনের পাশাপাশি সাতক্ষীরায় রয়েছে ঐতিহাসিক জোড়বাংলা মন্দির, দেবহাটার প্রাচীন রূপসী দেবহাটা পার্ক, জাহাজঘাটা, ঐতিহাসিক ছয়ঘরিয়া ছাতিয়ানতলাসহ বহু প্রাচীন প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানে রয়েছে প্রাচিন ইসলামী নিদর্শনও। রূপসী সুন্দরবন আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন সাতক্ষীরাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট।
তবে এই সুবিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরার পর্যটন খাত কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত অভাব ও যোগাযোগের সুব্যবস্থা না থাকা। রাজধানী ঢাকা কিংবা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে যাতায়াতের উন্নত পথ থাকলেও, সাতক্ষীরা শহর থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন পর্যটন এলাকাগুলোতে যাতায়াতের সড়কগুলোর অবস্থা প্রায়শই বেহাল থাকে। পর্যটকদের জন্য মানসম্মত আবাসন, আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট, পরিচ্ছন্ন আধুনিক শৌচাগার ও বিশ্রামাগারের চরম ঘাটতি রয়েছে।

 

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনে নিরাপদ ইকো-ট্যুরিজম নৌযান (বোট) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইডের অভাব স্পষ্ট। এছাড়া উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি এবং প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি পর্যটন খাতের বিকাশকে ধীরগতি করে রেখেছে।

যদি পরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে সাতক্ষীরার পর্যটন খাত বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘ইকো-ট্যুরিজম’ বা পরিবেশবান্ধব পর্যটনের কদর বাড়ছে। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশ রক্ষা করে পরিকল্পিত কটেজ, হাউজবোট ও ক্যাফেটেরিয়া গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে সুন্দরবনের মধু, কাঁকড়া, মাছ এবং স্থানীয় হস্তশিল্প ও বিখ্যাত মিষ্টির বাজার সম্প্রসারিত হবে।

 

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা বননির্ভরতা কমিয়ে পর্যটনভিত্তিক আয়ের দিকে ঝুঁকবে। সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় ভারতীয় পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব।

সাতক্ষীরাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ (চচচ) অপরিহার্য। সুন্দরবনমুখী সড়ক অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন, মানসম্মত হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ট্যুর গাইড তৈরি এবং আধুনিক ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাতক্ষীরার বৈচিত্র্যময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে।

সাতক্ষীরা শুধু উপকূলীয় দুর্যোগের শিকার হওয়া কোনো অঞ্চল নয়; এটি রূপসী বাংলার এক অনন্য রতœ ভা-ার। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি নজরদারি ও টেকসই পর্যটনবান্ধব পদক্ষেপের মাধ্যমেই সম্ভব এই সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে রূপ দেওয়াÑযা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি জাতীয় প্রবৃদ্ধিতেও বয়ে আনবে এক নতুন জোয়ার।

Ads small one

সুন্দরবনের বড় অংশ কয়রায়, তবুও মিলেনি পর্যটনের স্বীকৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনের বড় অংশ কয়রায়, তবুও মিলেনি পর্যটনের স্বীকৃতি

জিএম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): তিন পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী, ওপারে ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। নদীর তীরে দাঁড়ালেই ভেসে আসে পাখির কলতান, বন্য প্রাণীর ডাক কিংবা নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনঘেঁষা মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলার চর গ্রামটি যেন প্রকৃতিপ্রদত্ত এক পর্যটনকেন্দ্র। শুধু এই গ্রামই নয়, পুরো কয়রা জেড়েই রয়েছে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা। অথচ দেশের পর্যটন মানচিত্রে এখনও অলক্ষিত রয়ে গেছে এই জনপদ।

কয়রা উপজেলায় সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় অংশ যুক্ত থাকলেও এখানে গড়ে ওঠেনি পর্যটনকেন্দ্রিক মৌলিক অবকাঠামো। মানসম্মত আবাসন, কটেজ বা পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের দিনশেষে ফিরে যেতে হয় খুলনা শহর বা অন্যান্য এলাকায়।

অথচ সুন্দরবনের পাশাপাশি কয়রায় ছড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সুলতানি আমলের বিখ্যাত ‘মসজিদকুঁড় মসজিদ’, রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতিচিহ্ন, প্রাচীন দিঘি ও নানা ঐতিহাসিক স্থান এ অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। প্রতিবেশী পাইকগাছার রাড়ুলিতে অবস্থিত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন যুক্ত করে এখানে একটি আকর্ষণীয় ‘ট্যুরিজম সার্কিট’ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীদের মতে, পরিকল্পিত ইকোট্যুরিজম চালু করা গেলে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ২০২১ সালে দক্ষিণ বেদকাশীর গোলখালী এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু বনাঞ্চলের আইনি জটিলতায় পরবর্তীতে কয়রা সদর ইউনিয়নের কেওড়াকাটা এলাকায় স্থান পরিবর্তন করা হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ থমকে আছে।

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন জানান, স্থান পরিবর্তনের জটিলতা কাটিয়ে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ঠিকাদারের বকেয়া বিল না পাওয়ায় বর্তমানে নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

 

সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

সহকর্মীদের ভালোবাসায় সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাংবাদিক শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলুর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে কেক কাটা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়।

শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শেখ আবদুল বারীর মেজ ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক খবর বাংলাদেশ’-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অন্যতম সদস্য। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম খান মামুনসহ সহ-সভাপতি, সংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সহকর্মীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাংবাদিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ধারাবাহিক হামলা ও হুমকির অভিযোগের মধ্যে সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে নেট, পলিথিন ও জিও শিটসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার রতনপুর বাজারে অবস্থিত ‘এস কে এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে এই অগ্নিসংযোগ ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শেখ ফিরোজ আহমেদ স্থানীয় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার।
ফিরোজ আহমেদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো একসময় দোকানের পেছনের অংশ দিয়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিপুল মালামাল পুড়ে যায়। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন ধরে হুমকি-ধামকির শিকার হয়ে আসছেন। এর আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে গত আগস্টে একই উপজেলায় সংবাদকর্মী ফেরদৌস আহমেদ ও শেখ ফিরোজ আহমেদের ওপর পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহমেদ জানান, এসব ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রতা করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদের ওপর আগের হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।