বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্প্রীতির সুতোয় গাঁথা কলারোয়ার মুরারিকাটি মেলা: লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
সম্প্রীতির সুতোয় গাঁথা কলারোয়ার মুরারিকাটি মেলা: লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য উৎসব

Oplus_131072

এসএম শহীদুল ইসলাম: ​সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বেত্রাবতীর নদের কোল ঘেঁষে অবস্থিত মনোরম ও শান্ত গ্রাম মুরারিকাটি। বছরের অন্য সময় গ্রামটি নিঝুম থাকলেও বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার এলেই পাল্টে যায় এর রূপ। গ্রামের জেলেপাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এক মহোৎসব। চার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ “তাল মেলা”। এটি কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ যেন এক প্রাণের মিলনমেলা। এখানে যারা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। মেলায় দেখা মিললো কয়েকটি মুসলিম দোকান। এতে বোঝা যায়—এ মেলা সবার জন্য। এ মেলা অনেকের কাছে জীবিকা আবার অনেকের কাছে বিনোদনের সরস উৎস।

​বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই মেলাটি মূলত বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়। স্থানীয়দের মতে, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই তিথিতে বিশেষ পূজা ও উৎসব পালিত হয়ে আসছে। জেলেপাড়ার মানুষেরা তাদের সারা বছরের কষ্ট ভুলে মেতে ওঠেন এই আনন্দে। চার দিনব্যাপী এই উৎসবে কলারোয়া উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

​মেলার মূল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে আশপাশে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এই সময় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। দূর-দূরান্তে থাকা আত্মীয়-স্বজনরা এই মেলা উপলক্ষে বাড়িতে ফিরে আসেন।

​গ্রামীণ মেলার কথা উঠবে আর সেখানে মিষ্টি থাকবে না, তা কি হয়? মুরারিকাটির মেলার প্রধান আকর্ষণই হলো বাহারি সব মিষ্টির পশরা। মেলার মূল গলিতে ঢুকেই নাকে এসে লাগে ভাজা জিলিপি আর ছানার মিষ্টির সুবাস। একেকটি রসগোল্লার আকার দেখে চোখ ছানাবড়া হওয়া ছাড়া উপায় নেই। বালুশাই, গজা, চমচম, ছানার সন্দেশ আর কলারোয়ার বিখ্যাত দইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন কয়েক প্রজন্মের অভিজ্ঞ কারিগরেরা। মিষ্টির পাশাপাশি শিশুদের জন্য কদমা, বাতাসা, আর মুড়িমুড়কির স্তূপ যেন এক রঙিন জগত তৈরি করে।

​ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে দোকানীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক দর্শনার্থী শুধু বাড়ির জন্য মিষ্টি কিনতেই এই মেলায় আসেন।

​জ্যৈষ্ঠের আগমণী বার্তায় বৈশাখের তপ্ত দুপুরে স্বস্তি নিয়ে আসে এই মেলা। এখানকার অন্যতম বিশেষত্ব হলো মৌসুমি ফলের সমারোহ। মাঠ জুড়ে বসে তালের শাঁসের দোকান। কচি তালের শাঁসের জন্য কাড়াকাড়ি লেগে যায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। এর পাশাপাশি লাল টকটকে লিচু, হিমসাগর ও গোবিন্দভোগ আম এবং পাকা কলার ম ম ঘ্রাণে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সজীব।

​রোদ থেকে বাঁচতে মেলায় আসা মানুষের হাতে হাতে দেখা যায় নকশা করা তালপাতার পাখা। স্থানীয় কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি এই পাখাগুলো মেলার এক অনন্য উপহার। প্রযুক্তির যুগেও এই মেলায় হস্তশিল্পের কদর কমেনি একটুও।

​আধুনিক বিনোদনের যুগেও মুরারিকাটি মেলা তার নিজস্ব লোকজ বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে। শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে— কাঠের তৈরি রাইডার, কাপড়ের তৈরি বিশেষ মঞ্চ—যার উপর তারা নাচতে পারে, লাফাতে পারে। শিশুদের আনন্দ আর চিৎকারে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে। রঙিন মাটির ঘোড়া, হাতি আর বাঁশি বিক্রি হয় দেদারসে। মেলায় আসা শিশুদের মূল আকর্ষণ থাকে ছোটখাটো জাদুর খেলা আর বায়োস্কোপ দেখা।

​রাত নামলে এ মেলার রূপ বদলে যায়। রাতে কোন অনুষ্ঠান হয় না। নিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা। হারমোনিয়াম আর তবলার তালে গ্রামের মানুষেরা মুগ্ধ হয়ে শোনেন লোকজ কাহিনী। এসব যাত্রাপালায় বীরত্ব, ভক্তি আর সাম্যের কথা ফুটে ওঠে, যা সাধারণ মানুষকে এখনো সমানভাবে আকৃষ্ট করে।

​মুরারিকাটির এই মেলার সবচেয়ে বড় সার্থকতা এর অসাম্প্রদায়িক চেতনা। যদিও এটি জেলেপাড়ার ধর্মীয় অনুষঙ্গ ঘিরে শুরু হয়, কিন্তু কালক্রমে এটি সাতক্ষীরাবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ ভেদাভেদ ভুলে এখানে সমবেত হয়।

​মেলায় আসা দর্শনার্থী শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কলেজ শিক্ষার্থী রাবেয়া সুলতানা, আসাদুজ্জামান, আমিনুল হক, মেহেদী হাসান শিমুল, মাধবী মন্ডল, চিত্রা মন্ডল, পলাশ মন্ডলসহ অনেকেই বলছিলেন, “আমাদের এই মেলায় কোনো ভেদাভেদ নেই। আমার মুসলমান বন্ধুরা এই দিনে আমাদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে আসে, আবার আমরাও তাদের উৎসবে যাই। এই মেলার মাঠটি যেন শান্তির এক ছোট রাজ্য।

মেলা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভ কুমার মন্ডল বলেন, প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার কালিপূজার মধ্যে দিয়ে এ মেলা শুরু হয়। এরপর এখানে ধর্মীয় যাত্রাপালা, কবিগান, আবৃত্তি, অভিযোগসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। চারদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। সম্প্রীতির বন্ধনে শত শত বছর ধরে এখন উৎসব পালিত হচ্ছে। মেলার চতুর্থ দিনে শ্রী শ্রী শীতলা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দেবীর বিদায় ও বিসর্জন উপলক্ষে সিঁদুর খেলাসহ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানান খেলায় মেতে ওঠেন মা-বোনেরা।  তিনি আরও বলেন— প্রায় শত মণ বাতাশা ও সন্দেশ বিতরণ করা হয় মেলায় আসা ভক্তদের মাঝে। শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ মেলার অনন্য বৈশিষ্ট।

কমিটির সভাপতি নির্মল মন্ডল বলেন,​প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয় যাতে উৎসবে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। মেলার প্রতিটি দিনই শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় মেলায় আসা লাখো মানুষের হৃদয়ে।

​সাতক্ষীরার কলারোয়ার মুরারিকাটি জেলেপাড়ার এই মেলা কেবল কেনাকাটা বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের শেকড় চেনার এক সুযোগ। যান্ত্রিক জীবনের চাপে যখন গ্রামবাংলার অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে, তখন মুরারিকাটির এই চার দিনের উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির শক্তির কথা। কপোতাক্ষের তীরের এই লোকজ মেলা বেঁচে থাকুক অনন্তকাল—এমনটাই প্রত্যাশা মেলায় আসা প্রতিটি দর্শনার্থীর।

Ads small one

শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

সংবাদদাতা: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বুধবার (২২ জুলাই) শ্যামনগর নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার আয়োজনে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কবি ও সাহিত্যিক মোঃ শহীদুর রহমান, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার, সদস্য মোঃ আকবর হোসেন প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা শিক্ষা ইন্সটাক্টর মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার মন্ডল। রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্যামনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ।

 

 

 

 

কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, ২৭ হাজার টাকা জরিমানা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই আইসক্রিম তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) বেলা ১২:৩০টার দিকে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা মোড়ে অবস্থিত একটি আইসক্রিম কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান তানভীর এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা আদায় করেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসূত্রে জানা যায়, হেলাতলা মোড় এলাকায় আমানুল রহমান নামের এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে কোনোপ্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের উপাদান দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বেলা ১২:৩০টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পেয়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবসায়ী আমানুল রহমানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার জন্য তাকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ)-র একটি চৌকস দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদি হাসান তানভীর জানান, জনস্বার্থে ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

মাধক বিক্রেতাসহ সকল অপরাধীকে আইনের সোপর্দ করুন: ওসি শামীম আহমদ খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
মাধক বিক্রেতাসহ সকল অপরাধীকে আইনের সোপর্দ করুন: ওসি শামীম আহমদ খান

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাপ্তাহিক প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সকালে আশাশুনি থানা চত্বরে আয়োজিত প্যারেডে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

 

প্যারেডে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান। তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ হচ্ছে পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী বাহিনী। গ্রামের প্রতিটি এলাকায় তাদের উপস্থিতি থাকায় যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার সুযোগ থাকে। তাই প্রত্যেক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, জুয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য গোপন না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে জানাতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। যারা দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সততা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দেবেন এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হবে। এসময় নবাগত ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার দাস, সেকেন্ড অফিসার এসআই রশিদুজ্জামান সহ থানার অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।