বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, চড়া দামে নাভিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, চড়া দামে নাভিশ্বাস

এম শফিকুল ইসলাম: ভরা মৌসুম শুরু হলেও নদ-নদীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। সাতক্ষীরার বাজারে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে অনেকটাই। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ইলিশের বদলে অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন।
বুধবার সকালে সাতক্ষীরার হাট-বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ইলিশের আমদানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। শহরের বড় বাজারে দিনে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মন মাছ সরবরাহ হচ্ছে। এই সীমিত সরবরাহের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি দামে।
পাইকারি বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ১ হাজার টাকা এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দাম আরও বেশি।
মাছের আড়তদারদের দাবি, এই সময়ে বাজারে ইলিশের যে পরিমাণ জোগান থাকার কথা, নদী ও সাগরে মাছ না পাওয়ায় তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জুন থেকে মৌসুম শুরু হলেও প্রকৃতপক্ষে জুলাই থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আগমন বাড়বে এবং তখন দামও কমবে বলে তিনি আশাবাদী।
সুলতানপুর বড় বাজারে মাছ কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজার রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাঙালির অতি প্রিয় এই মাছ কিনতে এসে দাম শুনেই পিছিয়ে যেতে হলো। ইচ্ছা থাকলেও হিসাব মেলাতে না পেরে ইলিশ না কিনেই ফিরতে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জাটকা নিধন, ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশ দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ যোগান দেয় এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত। শ্রাবণের শেষে ও ভাদ্রের শুরুতে ইলিশের জোগান বাড়লে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

 

Ads small one

কালিগঞ্জে জোড়া খু*ন: ফারজানা ও সুমাইয়ার দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে জোড়া খু*ন: ফারজানা ও সুমাইয়ার দাফন সম্পন্ন

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে হত্যা এবং পরবর্তীতে হত্যাকা-ে অভিযুক্ত নারীকে গণপিটুনিতে পিটিয়ে মারার ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক ছাত্রীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় অপর নিহতের লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার বিকেল পর্যন্ত লাশটি হাসপাতালের মর্গে ছিল। তবে রাত ৯টার দিকে তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতেই পুলিশী নিরাপত্তায় মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানান স্বজনরা। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডাক্তার মাহফুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা গত সোমবার সকালে স্কুলে যায়। ক্লাসরুমে ব্যাগ রেখে বের হওয়ার পর তাকে ডেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান স্কুলের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া আক্তার। সেখানে ফারজানাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আলমারির ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়। কানের এক জোড়া সোনার দুল ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যাকা- ঘটানো হয় বলে জানা গেছে।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোমবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সুমাইয়ার আলমারিতে লাশ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে সুমাইয়াকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে লাশ উদ্ধারের সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশি জিম্মি দশা থেকে সুমাইয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়।
মঙ্গলবার সদর হাসপাতালের মর্গে দুটি লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার দাফন পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়। তবে সুমাইয়ার লাশ গ্রামে আনলে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে—এমন গুঞ্জনে তার স্বজনেরা লাশ গ্রহণ করতে সাহস পাননি। ফলে বুধবার বিকেল পর্যন্ত লাশ মর্গে পড়ে ছিল। সুমাইয়ার স্বামী ঢাকায় থাকলেও আশঙ্কায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না এবং তাদের তিন বছরের শিশুসন্তানকে নানির জিম্মায় রাখা হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বুধবার বিকেলে জানান, লাশ দাফনে কোনো সমস্যা হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবে। এ জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাইকগাছায় পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য বন্ধে সংলাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য বন্ধে সংলাপ

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার রোধে এক গণতান্ত্রিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে পরিবেশবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বারসিকের এনগেজ প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপে সহযোগিতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটজ বাংলাদেশ। গদাইপুর ইউনিয়ন সুশীল সমাজ সংগঠনের (সিএসও) সভাপতি ছন্দা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউপি সচিব মো. বেলাল হোসেন, উপজেলা সিএসও সভাপতি শারমিন রহমান, সদস্য সচিব কাজী সিফাত উল্লাহ, ইউপি সদস্য আনোয়ার এলাহী ও জাহানারা বেগম। বক্তারা প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহার ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

যশোরে অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ সাতক্ষীরার সুমন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
যশোরে অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ সাতক্ষীরার সুমন আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরে অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের বারসহ সাতক্ষীরার এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের নলকুড়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে সাদিকুর রহমান সুমন।
বিজিবি জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন সাদিকুর রহমান সুমনের দেহ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা স্বর্ণের বার দুটির মোট ওজন ২৪৯ দশমিক ২০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫ হাজার ২৮৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুমন বিজিবিকে জানান, তিনি ঢাকা থেকে স্বর্ণের বার দুটি নিয়ে যশোর হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মুহাম্মদ সাইফুল আলম খান (পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও পাচার রোধে বিজিবির কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।