বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৃষ্টিশীল মানুষ তৈরী করাই হোক শিক্ষার প্রাথমিক লক্ষ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সৃষ্টিশীল মানুষ তৈরী করাই হোক শিক্ষার প্রাথমিক লক্ষ্য

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর
সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, এ নিয়ে সর্বত্রই নানা ধরনের আলোচনা চলছে । পাশের হার, জিপিএ, শিক্ষাক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের মান, শিক্ষার্থীর মেধা- কত ধরনের আলোচনা যে হচ্ছে, এর কোন ইয়ত্তা নেই। যারা ভাল ফলাফল করেছে তারা পক্ষে আবার যারা খারাপ ফলাফল করেছে তারা নানা ধরনের নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরছে। এমনকি, একটি প্রতিষ্ঠানের খুব ভাল ফলাফল র্কর্তৃপক্ষের নিকট ‘অস্বাভাবিক’ মনে হওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। যারা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে, তাদের মান বা স্বচ্ছতা নিয়েও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক তথ্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়।
আবার, বিগত কয়েক মাস ধরে শিক্ষানীতি নিয়ে নানা মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পাঠ্যসূচীতে কি কি বিষয় নতুনভাবে যুক্ত হতে পারে, কি কি বিষয় চলমান পাঠ্যসূচী থেকে বাদ পড়তে পারে, পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হতে পারে ইত্যাদি নানা বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এসব আলোচনা বা সমালোচনার একট বড় অংশে পরিলক্ষিত হয় বস্তগত হিসাব-নিকাশ, কর্মক্ষেত্রের উপযোগিতা, আর্থিক উন্নয়ন, সামাজিক মর্যাদা এবং অনুরূপ আরোও অনেক কিছু। অর্থাৎ, জীবনের প্রতিষ্ঠা বলতে সাধারণ বিচারে যা আসে তার সমাহারকেই ধরা হয় শিক্ষা লাভের আসল উদ্দেশ্য হিসেবে। তবে যেহেতু শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, তাই বস্তুগত বিষয়াদি সাথে আরোও কিছু উপাদান বিবেচনায় চলেই আসে। এখানে সেসব উপাদানের কথাই বলা হচ্ছে যেগুলো একজন শিক্ষার্থীর আদর্শিক চেতনা তথা বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা ও চিন্তাচেতনাকে সুসমৃদ্ধ করে থাকে। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কোন কোন লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, সেটা সময়মত বুঝা যাবে।
শিক্ষাক্রম বা পাঠ্যসূচী নিয়ে কিছু কথা না বললেই হয না। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণীতে যে পাঠক্রম চালু রয়েছে তা বহন করার ক্ষমতা শিক্ষার্থীর নেই, একথা বলাই বাহুল্য। এর একটি সাক্ষাৎ প্রমাণ হচ্ছে কোচিং সেন্টারের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। নগর বা শহরাঞ্চল তো বটেই, গ্রামে পর্যন্ত কোচিং সেন্টারের রমরমা বাণিজ্য চলছে। এ জন্য কি কোচিং সেন্টারের উদ্যোক্তারাদেরকে দায়ী করা যায়? আমার জবাব হচ্ছে ‘না’। আমাদের দেখতে হবে উদ্যোক্তাদের এহেন পরিবেশ তৈরী করে দিল কে, কারা ও কিভাবে?
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ভাল ফলাফল মানেই আগে গৃহশিক্ষক এবং/ অথবা কোচিং, বিদ্যালয় পরের ভাবনা। আর উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বারে প্রবেশমাত্রই বিষয়ভিত্তিক আলাদা আলাদা শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান। কোচিং-সংস্কৃতির এক প্রধান বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। আবার, শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর প্রথম দিকেই বিষয়ভিত্তিক গাইড বই কেনার জন্য শিক্ষকরা পরামর্শ ও তাগিদ দিয়ে থাকেন। একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর টেবিলের বইয়ের স্তুপ দেখলে আমি কিছৃটা ভয়ই পেয়ে যাই। এভাবে ছাত্রদেরকে অসহায় ও পরনির্ভর করে তোলা হচ্ছে; তাদের সৃষ্টিশীল মেধায় অঙ্কুরেই কুঠারাঘাত করা হচ্ছে। তাদের আত্মোপলব্ধি, উদ্ভাবনী চিন্তা, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বাস্তব জ্ঞান- এগুলো বিকশিত হওয়ার পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ছে।
সহজ কথায়, শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেখতে হবে একটি সর্বাত্মক প্রপঞ্চ হিসেবে। কর্মসংস্থান ভাল হোক, তার চেয়েও ভাল হোক শিক্ষার্থীর নৈতিক আদর্শের ভিত। এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য শিক্ষাসূচীকে করে তুলতে হবে জীবনমুখী। নিজের সমাজ ও সর্ংস্কৃতিতে শিক্ষার্থীরা সচরাচর যা দেখে এবং যা যেভাবে দেখা উচিৎ, তার ওপর ভিত্তি করেই পাঠদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এজন্যই তো প্রখ্যাত ফরাসী সমাজ-দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো বলেছেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুর সহজাত প্রবৃত্তির বিকাশ সাধন’। সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে বিকশিত সহজাত প্রবৃত্তি সর্বদাই মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলে, কাজ করে।
পাঠ্যসূচী কখনো মানুষের জীবনের সার্বিক দিক অন্তর্ভৃক্ত করতে পারে না। এসএসসি’র বর্তমান কোর্সগুলোকে যদি দ্বিগুণ বা ত্রিগুণও করা হয়, তবুও শিক্ষার্থীর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক শিক্ষা বাকী থেকে যাবে। অশিক্ষিত গৃহবাসীকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য কোন প্রশিক্ষণ নিতে হয় না। কোন বোতাম কিভাবে টিপলে কি ফল হবে এটি সে আপনা থেকেই শিখে ফেলে। একজন শিক্ষার্থী যাতে সহজাতভাবে ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার উপযুক্ত পরিবেশ পেতে পারে, সেরূপ ক্ষেত্র প্রস্তুত করা জরুরী। শিক্ষার্থী যেন কোনোভাবেই নিজেকে পরনির্ভর বা অসহায় মনে না করে, সে বিষয়টিও গুরুতে¦র সাথে ভাবা দরকার। স্বাধীন চিন্তা থেকেই আসে সৃষ্টিশীলতা ও দায়িত্ববোধ, যা শিক্ষার্থীকে সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে তুলতে পারে। বাবুল চন্দ্র সূত্রধর, মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।