অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
সংবাদদাতা: গুম প্রতিরোধ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও তৎকালীন মানবাধিকার কমিশন ছিল নীরব। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিশেষ কমিটি সেই অধ্যাদেশগুলোকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে বাতিলের যে সুপারিশ করেছে, তা অত্যন্ত ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘অধিকার’-এর জেলা সমন্বয়ক সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম। মানবাধিকারকর্মী সাংবাদিক ফিরোজ হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আলোর পরশ-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ বিশ্বাস, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আরাফাত হোসেন, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, শাহজাহান আলী মিটন ও মানবাধিকারকর্মী হাফিজুর রহমান।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি বিচার বিভাগের টুঁটি চেপে ধরার নামান্তর। জুলাই বিপ্লবের জনআকাক্সক্ষা এবং গণভোটে পাওয়া জনগণের বিপুল রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে এসব অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্যই এই সংস্কারগুলো প্রয়োজন ছিল। বিরোধী দলের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) অগ্রাহ্য করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে সমাবেশে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা অবিলম্বে এই ১৬টি অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।












