শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

অনাবৃষ্টিতে পুড়ছে জনপদ: দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
অনাবৃষ্টিতে পুড়ছে জনপদ: দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। উপকূলীয় জনপদ দেবহাটায় বইছে তপ্ত লু হাওয়া, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যেন একপ্রকার কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র তাপ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। খেটে খাওয়া মানুষ-বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী-পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অনেকেই কাজের প্রয়োজনে বের হলেও খুঁজছেন ছায়া আর স্বস্তির সামান্য আশ্রয়।

উপজেলার সখিপুর এলাকার রাজমিস্ত্রির শ্রমিক রবিউল ও শফিকুল, এবং কৃষি শ্রমিক রশিদ, ওসমান ও বাজ্জাক বলেন, “এই তীব্র গরমে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে, তীব্র গরমের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপদাহে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও মারাত্মক হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক স্থানে নলকূপে পানি উঠছে না, ফলে দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এ পরিস্থিতিতে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন-প্রচন্ড রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যতœ নেওয়া জরুরি।

প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি দ্রুত বৃষ্টিপাতের আশায় দিন গুনছেন দেবহাটার মানুষ।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।