বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও দাম নিয়ে শঙ্কায় দেবহাটা উপজেলার কৃষক
কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ দেখা গেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ধানের বাজারদর নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে ধানের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় দাম সন্তোষজনক নয়। ফলে অধিক উৎপাদন সত্ত্বেও আশানুরূপ লাভ পাচ্ছেন না কৃষকরা। সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে কম দামে ধান বিক্রি করলে অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
কাজীমহল্লা গ্রামের আব্দুল মাজেদ, শফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বাপ্পি জানান, বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে। অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন, কারণ পর্যাপ্ত গুদামজাত সুবিধা না থাকায় দীর্ঘদিন ধান সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলার কৃষকদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক গুদামজাত সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।
সব মিলিয়ে, দেবহাটা উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকের কষ্ট লাঘব হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।



