শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

আমার বাবা, ভালো বাবা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
আমার বাবা, ভালো বাবা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

‘আমার বাবা ভালো বাবা।’ ছোট্ট তুবার মুখে বলা এই কয়েকটি শব্দই যেন পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য। আদালতের সাক্ষ্য নয়, কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যও নয়Ñএটি একজন শিশুর বিশ্বাসের কথা। বাবাকে বাঁধা অবস্থায় মারধর করতে দেখেও যে শিশু বাবার হাত ছাড়েনি, নিজের হাতে ক্ষুধার্ত বাবাকে চা-রুটি খাইয়েছে, তার কাছে বাবার পরিচয় একটাইÑতিনি তার বাবা।

 

বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের এই ঘটনা তাই কেবল একজন ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনা নয়। এর ভেতরে আছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, সামাজিক অসহিষ্ণুতা, ব্যক্তিগত বিরোধের আশঙ্কা, শিশুর সামনে সহিংসতার ভয়াবহতা এবং সর্বোপরি আমাদের সামাজিক বিবেকের সংকট।অনিক সরদারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠেছিল।

 

অভিযোগ সত্য কি না, সেটি তদন্তের বিষয়। তাঁর দাবি, পূর্বশত্রুতা ও ভিটেমাটির বিরোধের জেরেই তাঁকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এই দাবিরও সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া দরকার। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্টÑকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে বেঁধে রেখে মারধর করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই।অভিযোগ আর অপরাধ এক নয়। এই সহজ কথাটিই আমরা বারবার ভুলে যাই।কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ হবে, প্রয়োজন হলে মামলা হবে এবং আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। এর বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা আইন ও ন্যায়বিচারÑদুটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। জনতার হাতে বিচার চলে গেলে সেখানে সত্যের চেয়ে শক্তি বড় হয়ে ওঠে। আর শক্তিশালীর হাতে দুর্বল মানুষের নিরাপত্তা থাকে না। এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি অবশ্য অন্য জায়গায়।

 

একটি শিশু তার বাবাকে বাঁধা অবস্থায় মার খেতে দেখেছে।তুবা তখন কোনো আইন জানত না। সে জানত না ‘অভিযুক্ত’ শব্দের অর্থ। সে জানত না চুরির অভিযোগ কীভাবে প্রমাণ করতে হয়। সে শুধু দেখেছে, তার বাবাকে কয়েকজন মানুষ মারছে। তাই সে মানুষের কাছে বিচার চায়নি; বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পায়ে ধরে কেঁদেছে। একজন শিশুর এই আকুতি কি আমাদের সমাজের কাছে যথেষ্ট নয়? বাবার মুখে ক্ষুধার ছাপ দেখে তুবা নিজের হাতে চা ও রুটি তুলে দিয়েছে। দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ কেঁদেছে, ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, সহমর্মিতা জানিয়েছে। প্রশাসনও পাশে দাঁড়িয়েছে। এসব অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন দৃশ্য তৈরি হওয়ার আগেই যদি কেউ শিশুটির কান্না শুনত, তাহলে কি এত দূর গড়াত?

 

আমাদের সমাজে সহিংসতার দৃশ্য অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কেউ মার খাচ্ছে, আর কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেÑএই দৃশ্য এখন আর বিরল নয়। প্রযুক্তি আমাদের হাতে এসেছে তথ্য ও সত্য সংরক্ষণের শক্তি হিসেবে। কিন্তু মানুষের অসহায়ত্বকে বিনোদন বানানোর প্রবণতা আমাদের মানবিকতার বড় সংকেত।তুবার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর। কারণ শিশুরা যা দেখে, তা শুধু দেখে না; তারা তা মনে ধারণ করে। বাবাকে মারধরের সেই দৃশ্য তার শৈশবের স্মৃতিতে কতটা গভীর দাগ ফেলবে, তা এখনই বোঝা সম্ভব নয়। একজন শিশুর সামনে পারিবারিক নিরাপত্তার প্রতীক বাবাকে অপমানিত ও নির্যাতিত হতে দেখা তার মানসিক জগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।তাই এ ঘটনার বিচার শুধু অনিক সরদারের জন্য নয়; তুবার মতো শিশুদের জন্যও জরুরি।

 

আরেকটি বিষয় আমাদের ভাবতে হবে। স্থানীয় বিরোধ, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা যদি সত্যিই এই ঘটনার পেছনে থেকে থাকে, তবে তার সমাধানও আইনের পথেই হতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে কাউকে চোর বানিয়ে দেওয়া, সামাজিকভাবে হেয় করা বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ না থাকলে অভিযোগের নামে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এই ন্যূনতম নীতিটুকু প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র ও সমাজÑদুইয়েরই দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন অনিক সরদারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

পরিবারটির খোরপোষের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগ আপাতত পরিবারটিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রয়োজন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা।কারণ শুধু একজন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা যথেষ্ট নয়; যে সামাজিক পরিবেশে একজন মানুষকে বেঁধে মারার সাহস তৈরি হয়, সেই পরিবেশও বদলাতে হবে।তুবার একটি চাওয়া খুব সাধারণÑবাবা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন, একটি কাজ করবেন এবং তাঁদের সংসার আবার স্বাভাবিক হবে। একটি শিশুর কাছে সুখের সংজ্ঞা এতটুকুই। তার কোনো বড় দাবি নেই। সে রাষ্ট্রের কাছে বড় কিছু চায় না। সে শুধু চায় তার বাবা যেন নিরাপদে ঘরে ফেরেন।

 

আমাদের সমাজের দায়িত্ব কি এতটুকু নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা নয়?আজ তুবা বলছে, ‘আমার বাবা ভালো বাবা।’ ভবিষ্যতে তার এই বিশ্বাস যেন ভেঙে না যায়। সে যেন বড় হয়ে মনে না করে, মানুষের সমাজে দুর্বল মানুষের জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই, অভিযোগ উঠলেই মানুষকে অপমান করা যায়, আর শিশুর কান্নারও কোনো মূল্য নেই।অনিক সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসুক। যদি অপরাধের প্রমাণ থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই নির্যাতনকে বিচার বলে মেনে নেওয়া যায় না।

 

শেষ পর্যন্ত তুবার কান্নাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি করে যায়-বাবা যদি ভুলও করেন, তাঁর বিচার আইন করবে; কিন্তু বাবাকে আমার চোখের সামনে মারবে কে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সবার দিতে হবে। একটি শিশুর বাবার প্রতি ভালোবাসা হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক অনুভূতি গুলোর একটি। সেই ভালোবাসাকে যেন আর কখনো নির্যাতনের সাক্ষী হতে না হয়Ñএটাই হওয়া উচিত এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ মহাষষ্ঠী।‌ দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মন্দিরগুলোতে ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেবীর বোধন, আবাহন এবং অধিবাসের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা করা হয়েছে।

এ দিন সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত ছিল পূজামণ্ডপ। শঙ্খ ধ্বনি, ধূপের সুঘ্রাণ, আর ঢাকঢোলের বাদ্যের সঙ্গে ভক্তি-মন্ত্রে মেতে উঠেছে দেবী ভক্তরা। এরপর সায়ানকালে দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে দুর্গার প্রতিমা। খড়গ-কৃপাণ, চক্র, গদা, তীর-ধনুক, ত্রিশূল আর কল্যাণ নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং মহিষাসুর বধ করে হেসে উঠবেন দেবী।

সনাতন ধর্মমতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন—বাধা-বিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন—দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর ভক্তদের কষ্ট দূর করতে দেবী দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে, আর দশমীর দিন বিদায় নেবেন নৌকায়।

মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এ দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিনই নানান আয়োজনে চলবে পূজা উৎসব। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুই দিন মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দুর্গা দেবী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সায়ংকালে দেবীর বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে। বোধন মানে জাগ্রত করা বা জাগানো। বোধন হয় বেল গাছের তলায়। দেবতারাও বেল গাছের তলায় বোধন করেছিলেন, এ গাছের অন্য নাম শ্রীবৃক্ষ। শ্রী অর্থ সম্পদ বা সৌন্দর্য। তাই পুরোহিতরা সম্পদ বা সৌন্দর্য বা সংসারের উন্নতির জন্য, জ্ঞান ভক্তি লাভের জন্য বেল গাছের মূলে দুর্গাপূজার বোধন করেন।

এদিকে প্রতিমার সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় রাজধানীসহ সারাদেশের মন্দির চত্বর উৎসবমুখর। শঙ্খ ও উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে ভক্তরা দেবীকে বরণ করে নিয়েছেন। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দেশজুড়ে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে চলবে দেবীর আরাধনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা দেড় হাজার বেশি। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে। ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি, আর ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, ফিরতে দেরি হবে’, এটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, ফিরতে দেরি হবে’, এটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা

নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

 

‘বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে কথাগুলো বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)। দুই সন্তানকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী। কিন্তু স্বামীর ফেরা আর হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাছে পৌঁছায় লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে হত্যার খবর।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌনে আটটার দিকে দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে স্ত্রীর কাছে রেখে বেরিয়ে যান লুৎফুজ্জামান। পরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

স্বামীর নিথর দেহের পাশে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনন্দিতা। তার কাছে ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, স্বাভাবিক একটি সন্ধ্যায় সন্তানদের খাওয়ানোর সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনেছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকমুখে জানতে পারেন, আমার স্বামীকে গুলি করা হয়েছে।

স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে আনন্দিতা বলেন, আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাবো না। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি। তার বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। তিনি মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। বসবাস করতেন দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার পাশে একটি বাড়ির বারান্দায় চায়ের দোকানটি। চারদিকে নীরবতা। দোকানটি থেকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ২০ গজ। বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। তেলনজিয়া গ্রামে অধিকাংশ বাসিন্দাই গারো সম্প্রদায়ের।

লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তারা বাড়ির বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন, লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথা, গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছিলো।

স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। তাদের দুই সন্তান- চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করেন লুৎফুজ্জামান। পরে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিনিট তিনেকের মধ্যে আবার ফিরে আসেন তিনি।

মুঠোফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দুই যুবক সেখানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর তারা লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দোকানি রবিন রাংসা বলেন, আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় গিয়ে ঢুকে পড়ি।

রবিন রাংসার ভাষ্য, দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। তাদের একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ছিলো। গুলি করার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনার এসপি তরিকুল ইসলাম, এএসপি (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, এএসপি (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের ইউএনও আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এসপি তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করেছিলো। সে সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলিতে নিহত লুৎফুজ্জামানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। টাটা ক্রপকেয়ার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেশব সাধু শুক্রবার সকাল দশটায় তার নিজ গ্রাম তৈলকুপিতে প্রায় হাজার পরিবারের মাঝে উক্ত শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

 

কেশব সাধু বলেন, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 

কেবশ সাধু বলেন, আমি এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত। গতবছর পুজায় আমার বাবা আনন্দ সাধু নিজ হাতে বিতরণ কাজ করেছিলেন। এ বছর বাবা নেই, বাবা থাকলে তিনি নিজ হাতে এ কাজ করতেন। তিনি সকলের কাছে বাবার জন্য আর্শিবাদ কামনা করেন, বাবা যেন পরপারে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাটা ক্রপকেয়ারের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ সাধু, ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।