বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার বাবা, ভালো বাবা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
আমার বাবা, ভালো বাবা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

‘আমার বাবা ভালো বাবা।’ ছোট্ট তুবার মুখে বলা এই কয়েকটি শব্দই যেন পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য। আদালতের সাক্ষ্য নয়, কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যও নয়Ñএটি একজন শিশুর বিশ্বাসের কথা। বাবাকে বাঁধা অবস্থায় মারধর করতে দেখেও যে শিশু বাবার হাত ছাড়েনি, নিজের হাতে ক্ষুধার্ত বাবাকে চা-রুটি খাইয়েছে, তার কাছে বাবার পরিচয় একটাইÑতিনি তার বাবা।

 

বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের এই ঘটনা তাই কেবল একজন ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনা নয়। এর ভেতরে আছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, সামাজিক অসহিষ্ণুতা, ব্যক্তিগত বিরোধের আশঙ্কা, শিশুর সামনে সহিংসতার ভয়াবহতা এবং সর্বোপরি আমাদের সামাজিক বিবেকের সংকট।অনিক সরদারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠেছিল।

 

অভিযোগ সত্য কি না, সেটি তদন্তের বিষয়। তাঁর দাবি, পূর্বশত্রুতা ও ভিটেমাটির বিরোধের জেরেই তাঁকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এই দাবিরও সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া দরকার। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্টÑকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে বেঁধে রেখে মারধর করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই।অভিযোগ আর অপরাধ এক নয়। এই সহজ কথাটিই আমরা বারবার ভুলে যাই।কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ হবে, প্রয়োজন হলে মামলা হবে এবং আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। এর বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা আইন ও ন্যায়বিচারÑদুটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। জনতার হাতে বিচার চলে গেলে সেখানে সত্যের চেয়ে শক্তি বড় হয়ে ওঠে। আর শক্তিশালীর হাতে দুর্বল মানুষের নিরাপত্তা থাকে না। এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি অবশ্য অন্য জায়গায়।

 

একটি শিশু তার বাবাকে বাঁধা অবস্থায় মার খেতে দেখেছে।তুবা তখন কোনো আইন জানত না। সে জানত না ‘অভিযুক্ত’ শব্দের অর্থ। সে জানত না চুরির অভিযোগ কীভাবে প্রমাণ করতে হয়। সে শুধু দেখেছে, তার বাবাকে কয়েকজন মানুষ মারছে। তাই সে মানুষের কাছে বিচার চায়নি; বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পায়ে ধরে কেঁদেছে। একজন শিশুর এই আকুতি কি আমাদের সমাজের কাছে যথেষ্ট নয়? বাবার মুখে ক্ষুধার ছাপ দেখে তুবা নিজের হাতে চা ও রুটি তুলে দিয়েছে। দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ কেঁদেছে, ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, সহমর্মিতা জানিয়েছে। প্রশাসনও পাশে দাঁড়িয়েছে। এসব অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন দৃশ্য তৈরি হওয়ার আগেই যদি কেউ শিশুটির কান্না শুনত, তাহলে কি এত দূর গড়াত?

 

আমাদের সমাজে সহিংসতার দৃশ্য অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কেউ মার খাচ্ছে, আর কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেÑএই দৃশ্য এখন আর বিরল নয়। প্রযুক্তি আমাদের হাতে এসেছে তথ্য ও সত্য সংরক্ষণের শক্তি হিসেবে। কিন্তু মানুষের অসহায়ত্বকে বিনোদন বানানোর প্রবণতা আমাদের মানবিকতার বড় সংকেত।তুবার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর। কারণ শিশুরা যা দেখে, তা শুধু দেখে না; তারা তা মনে ধারণ করে। বাবাকে মারধরের সেই দৃশ্য তার শৈশবের স্মৃতিতে কতটা গভীর দাগ ফেলবে, তা এখনই বোঝা সম্ভব নয়। একজন শিশুর সামনে পারিবারিক নিরাপত্তার প্রতীক বাবাকে অপমানিত ও নির্যাতিত হতে দেখা তার মানসিক জগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।তাই এ ঘটনার বিচার শুধু অনিক সরদারের জন্য নয়; তুবার মতো শিশুদের জন্যও জরুরি।

 

আরেকটি বিষয় আমাদের ভাবতে হবে। স্থানীয় বিরোধ, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা যদি সত্যিই এই ঘটনার পেছনে থেকে থাকে, তবে তার সমাধানও আইনের পথেই হতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে কাউকে চোর বানিয়ে দেওয়া, সামাজিকভাবে হেয় করা বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ না থাকলে অভিযোগের নামে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এই ন্যূনতম নীতিটুকু প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র ও সমাজÑদুইয়েরই দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন অনিক সরদারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

পরিবারটির খোরপোষের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগ আপাতত পরিবারটিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রয়োজন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা।কারণ শুধু একজন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা যথেষ্ট নয়; যে সামাজিক পরিবেশে একজন মানুষকে বেঁধে মারার সাহস তৈরি হয়, সেই পরিবেশও বদলাতে হবে।তুবার একটি চাওয়া খুব সাধারণÑবাবা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন, একটি কাজ করবেন এবং তাঁদের সংসার আবার স্বাভাবিক হবে। একটি শিশুর কাছে সুখের সংজ্ঞা এতটুকুই। তার কোনো বড় দাবি নেই। সে রাষ্ট্রের কাছে বড় কিছু চায় না। সে শুধু চায় তার বাবা যেন নিরাপদে ঘরে ফেরেন।

 

আমাদের সমাজের দায়িত্ব কি এতটুকু নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা নয়?আজ তুবা বলছে, ‘আমার বাবা ভালো বাবা।’ ভবিষ্যতে তার এই বিশ্বাস যেন ভেঙে না যায়। সে যেন বড় হয়ে মনে না করে, মানুষের সমাজে দুর্বল মানুষের জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই, অভিযোগ উঠলেই মানুষকে অপমান করা যায়, আর শিশুর কান্নারও কোনো মূল্য নেই।অনিক সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসুক। যদি অপরাধের প্রমাণ থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই নির্যাতনকে বিচার বলে মেনে নেওয়া যায় না।

 

শেষ পর্যন্ত তুবার কান্নাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি করে যায়-বাবা যদি ভুলও করেন, তাঁর বিচার আইন করবে; কিন্তু বাবাকে আমার চোখের সামনে মারবে কে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সবার দিতে হবে। একটি শিশুর বাবার প্রতি ভালোবাসা হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক অনুভূতি গুলোর একটি। সেই ভালোবাসাকে যেন আর কখনো নির্যাতনের সাক্ষী হতে না হয়Ñএটাই হওয়া উচিত এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

আদালত থেকে হাতকড়া খুলে পালানো পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
আদালত থেকে হাতকড়া খুলে পালানো পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় দুটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামি আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। বুধবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বারান্দা থেকে তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার আসামির নাম শফিকুল ইসলাম (৩২)। তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার রাড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ শফিকুলকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জামিনে মুক্তির পর ২০২৫ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এ ছাড়া পাটকেলঘাটা থানার অপর একটি মাদক মামলায় তাঁর দুই বছরের সাজা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার দুপুরে আদালতের ভবনে নেওয়ার সময় হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শফিকুল।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, পালিয়ে যাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পাশের একটি অটোস্ট্যান্ড থেকে বিকেল চারটার দিকে শফিকুলকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। সাড়ে পাঁচটার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আশাশুনিতে সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের মানিকখালী ব্রিজ থেকে বড়দল সড়কের ফকরাবাদ এলাকায় রাস্তার পাশে একটি বড় শিশু-চটকা গাছ দীর্ঘদিন ধরে শুকিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফকরাবাদ শ্যামা মিস্ত্রীর মিলের মোড় সংলগ্ন ওই সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে। মরা গাছটির বড় দুটি ডাল হেলে থাকায় যেকোনো সময় তা ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও ইটভাটা ব্যবসায়ী এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানানো হলেও গাছটি অপসারণ করা হয়নি। আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় দ্রুত গাছটি কেটে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মারধর, গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মারধর, গ্রেপ্তার ২

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার চিলেডাঙ্গা গ্রামে এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখম ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে চিলেডাঙ্গা মাঠে স্থানীয় এক তরুণীকে উত্ত্যক্তের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সাইমুন ও রফিকুল ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁদের সঙ্গে হামলাকারীদের বাকবিত-া হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য সালিশের উদ্দেশে যাওয়ার পথে রবিউল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাঁকে লাঠিপেটা করে এবং টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফ জানান, ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।