সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির হাজীরহাটে দুই কর্মচারীকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনির হাজীরহাটে দুই কর্মচারীকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি হাজীরহাটে দীর্ঘদিনের একটি মিষ্টির দোকানের দুই কর্মচারীকে চিনি চুরির অপরাধে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক সালিসী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ‘রঞ্জিতা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর মালিক দীলিপ কুমার ঘোষের অভিযোগ থেকে জানা যায়, তাঁর দোকানে পুরোহিতপুর গ্রামের লালন দীর্ঘ ১০ বছর এবং আগরদাড়ি গ্রামের সোহাগ হোসেন গত ৭-৮ বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের চলাফেরা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তিনি নজরদারি শুরু করেন। একপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত সালিসী বৈঠকে অভিযুক্ত দুই কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে দোকান থেকে চিনি চুরি করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁরা জানান, চুরি করা চিনি তাঁরা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রাম সানা, মহিষাডাঙ্গার ব্যবসায়ী ছট্টু এবং তালা উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করতেন। এ পর্যন্ত তাঁরা প্রায় ৩ লাখ টাকার চিনি বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করার পর সালিসে তাঁদের সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মীমাংসা অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল সালিস বোর্ডে জমা দেন। জরিমানার বাকি টাকা আগামী ২০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে তাঁরা একটি মুচলেকা প্রদান করেছেন।

Ads small one

পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের স্টিমার ঘাটে পড়ে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের স্টিমার ঘাটে পড়ে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের স্টিমার ঘাটে পড়ে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। উপজেলার কপোতাক্ষ নদের স্টিমার ঘাটে পা ধোয়ার সময় নদে পড়ে গিয়ে শ্রমিক দিপংকর মন্ডল (৩৫) নিখোঁজ হন। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুর দুই টায় রাড়ুলীর ভরভোরিয়া স্লুইস গেট সংলগ্ন নদে ভাসমান অবস্থায় লাশ পায়।

জানা গেছে, দিপংকর মন্ডল উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার দুলাল মন্ডলের ছেলে। সে মালামাল উঠানো নামানোর শ্রমিকের কাজ করে। রোববার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কাজ শেষে ফিরে তিনি কপোতাক্ষ নদের স্টিমার ঘাটে পা ধোয়ার সময় অসাবধানতাবশত নদে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি গ্রোতের পানিতে তলিয়ে গেলে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

দীপঙ্করের তলিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে আছড়ে পড়ছে স্বজনদের কান্না আর আহাজারি।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌপুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদের উত্তাল ঢেউ এবং তীব্র স্্েরাত থাকার কারণে রাতে তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। সোমবার দুপুর দুই টায় রাড়ুলীর ভরভোরিয়া স্লুইস গেট সংলগ্ন নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
এঘটনায় পাইকগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

 

 

জনদুর্ভোগ লাঘবে শাখরা ব্রিজ সংস্কারে ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
জনদুর্ভোগ লাঘবে শাখরা ব্রিজ সংস্কারে ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাখরা কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারে ৬ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দের পর এবার ৪৫ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে শাখরা-কোমরপুর ব্রিজ এলাকায় যেয়ে বরাদ্দের বিষয়টি জানান, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর রউফ। তিনি জানান, প্রথমে বরাদ্দকৃত ৬ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকায় ব্রিজটি সম্পূর্ণরূপে সংস্কার সম্ভব নয়। এজন্য সাতক্ষীরার উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের অর্থ থেকে এই ব্রিজ সংস্কারের জন্য ৪৫ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি তো কি হয়েছে। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম এবং যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের পাশে সুখে দুঃখে থাকবো। আপনাদের দাবি ছিল নষ্ট হয়ে যাওয়া শাখরা-কোমরপুর ব্রিজটি সংস্কার করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাতক্ষীরার উন্নয়নে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই শাখরা কোমরপুর ব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল আলম মিলন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বজলুর রহমান, সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু প্রমূখ। এছাড়াও বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজের মানে সন্তুষ্ট এলাকাবাসী, বৃক্ষরোপণে সুরক্ষার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজের মানে সন্তুষ্ট এলাকাবাসী, বৃক্ষরোপণে সুরক্ষার দাবি

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় “খাল খনন কর্মসূচি” এবং অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় দেবহাটা ইউনিয়নের বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও খালের দুই পাড়ে রোপণ করা গাছগুলো রক্ষায় খুঁটি ও নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ১৩ হাজার ২৬৯ দশমিক ৪৪০ ঘনমিটার মাটি অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে ১১৯ জন উপকারভোগী শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার টাকা। প্রকল্পের এনইউআর (ঘটজ) হওয়ার তারিখ ৩১ মে ২০২৬।

প্রকল্পের শ্রম ব্যয় বাবদ প্রায় ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬০ টাকা এবং বৃক্ষরোপণের জন্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা, দেবহাটা, সাতক্ষীরা। প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেবহাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিত এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পুনঃখননের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এলাকাবাসীর দাবি, খালের পাড়ে যে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে গবাদিপশু ও অন্যান্য কারণে যাতে গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রতিটি গাছ খুঁটি ও নেট দিয়ে ঘিরে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বোয়ালমারী খাল পুনঃখনন কাজ সঠিক ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের মধ্যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, খালের পাড়ে গাছ রোপণ করা হলেও অনেক স্থানে গাছের সুরক্ষার জন্য খুঁটি ও নেটের ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং বিষয়টি সরেজমিনে দেখানোর কথাও জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে রোপণকৃত গাছগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।