মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে লড়ছে বাংলাদেশ। প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে। মঙ্গলবার (২ জুন) নিউ ইয়র্কে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ জয়লাভ করলে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রার্থী ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে বসবে। প্রথমবার ১৯৮৬ সালে এই পদে বসেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী। তিনি মন্ত্রিত্ব থেকেই সভাপতির পদে বসেছিলেন। একই কাজ করতে চান ড. খলিলুর রহমান।

৮১তম অধিবেশনের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির নির্বাচন আগামীকাল নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় ইউএনএইচকিউর জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিস এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যিনি জয়লাভ করবেন, তিনি আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

একসঙ্গে দুই পদে থাকা নিয়ে বিতর্ক

ড. খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা কিংবা সমালোচনা না হলেও মন্ত্রিত্ব থাকা অবস্থায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতির পদে থাকা নিয়ে আছে প্রশ্ন। এমন প্রশ্ন আগেও উঠেছিল বলে সাবেক কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে।

একইসঙ্গে দুই পদে থাকা বিষয়ে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির সঙ্গে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আয়োজিত সংলাপে স্পষ্ট করেছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, পদত্যাগ করার প্রশ্নই আসে না। তিনি ছুটি নেবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে ‘সায়’ দিয়েছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অল্প হলেও একইসঙ্গে দুই পদে থাকার নজির আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা প্রার্থী ছিলেন, তারা রাষ্ট্রীয় কোনও দায়িত্ব ছিলেন না। সাবেক কূটনীতিক, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক প্রেসিডেন্ট এমন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ড. খলিলুর রহমানের ভাষ্য, ‘‘আমি কি পদত্যাগ করবো? না, আমার প্রধানমন্ত্রী আমাকে খুব পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ‘তিনি আমাকে এক বছরের জন্য পূর্ণকালীন চাকরি করার জন্য ছেড়ে দেবেন।’ পদত্যাগ একমাত্র বিকল্প নয়, আমি ছুটি পেতে পারি।’’

যদিও মালদ্বীপের আবদুল্লাহ শহীদ ২০২১ সালে ইউএনজিএ’র ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় একসঙ্গে তার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালাবে কে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী জাতিসংঘের প্রধান আলোচনামূলক ও নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রধান প্রিসাইডিং অফিসার এবং চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন। এক বছরের মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি সভার নেতৃত্ব দেওয়া, বিতর্ক পরিচালনা এবং পরিষদের সামগ্রিক এজেন্ডা পরিচালনা করার জন্য দায়বদ্ধ।

তার মূল দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে—সভা পরিচালনা, এজেন্ডা পরিচালনা এবং কূটনৈতিক নেতৃত্ব।

সভাপতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনার গাইড করেন, উচ্চ পর্যায়ের ইভেন্টগুলোতে ইউএনজিএ’র প্রতিনিধিত্ব করেন এবং অ্যাসেম্বলির জরুরি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার কর্তৃত্ব রাখেন। এছাড়া তিনি সাধারণ পরিষদের প্রধান কমিটি এবং সহ-সভাপতিদের কাজের তদারকি করেন, জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনের মসৃণ অগ্রগতি নিশ্চিত করেন।

যেহেতু ইউএনজিএ সর্বজনীন প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে একমাত্র জাতিসংঘ সংস্থা, সভাপতির ভূমিকা নির্বাহী বিভাগের চেয়ে প্রাথমিকভাবে পদ্ধতিগত এবং কূটনৈতিক। তাদের অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে, পরিষদে সভাপতিত্ব করার সময় তাদের নিজ দেশের পক্ষে কোনও ভোট দেবে না এবং তারা চূড়ান্তভাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জবাবদিহি করবে।

জাতিসংঘের সভাপতি পদে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রশ্নে মূল বিতর্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করা।

এই প্রসঙ্গে খলিলুর রহমানের ভাষ্য, ‘‘আমি আপনাদের সবার প্রেসিডেন্ট হতে চাই এবং আমি এমন একজন প্রেসিডেন্ট হতে চাই, যিনি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত উপায়ে তার কাজ করবেন। তবে আমি ছোট প্রতিনিধিদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ রাখবো, যা কম সংখ্যক প্রতিনিধিত্ব করে। আমার অফিস, যেমনটি আমি বলেছি, সব ধরনের প্রতিনিধি দলকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’’

তিনি জানান, ‘‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমি এই সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বকে একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখবো এবং আপনি যদি আমাকে আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার অনুমতি দেন, তবে আমিও উত্তরাধিকার সূত্রে পাবো এবং আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অব্যাহত রাখবো। এভাবেই আমরা ভবিষ্যতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি ব্যর্থতা ছাড়াই জাতিসংঘ সনদ মেনে চলবো এবং আমি নিয়ম এবং পদ্ধতিগুলো সবচেয়ে সঠিক উপায়ে প্রয়োগ করবো। সুতরাং এগুলো আমার প্রতিশ্রুতি।’’

তবে কূটনীতিকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পদ ধরে রেখে জাতিসংঘে নিরপেক্ষতা না চাইলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

জাতিসংঘে কাজ করেছেন সাবেক একজন কূটনীতিক  বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা ইস্যু। এটিকে আলোচনায় রাখতে জাতিসংঘ একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যদি জাতিসংঘ সভা আহ্বান করে তাহলে সেখানে যদি ভিক্টিম হিসেবে বাংলাদেশের মন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন, তাহলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

তিনি বলেন, এটা একটা শুধু উদাহরণ মাত্র। দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যদি ছুটিতে থাকেন, তাহলে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার কাজে, কিংবা দেশের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে কে, সেটিও একটা প্রশ্ন। জাতিসংঘের নিজস্ব কূটনীতি আছে, আবার দেশেরও নিজস্ব কূটনীতি আছে, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। এই দুটি সামাল দেওয়া একসঙ্গে বেশ কঠিন হবে।

উল্লেখ্য, ড. খলিলুর রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. রহমান ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়মিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সেবায় যোগদান করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮০-৮৩-এর মধ্যে তিনি ফ্লেচার স্কুল অফ ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি, টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেনেডি স্কুল অফ গভর্নমেন্ট, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৩-১৯৯১ সালের মধ্যে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র ছিলেন।

ড. রহমান ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএনসিটিএডি) বিশেষ উপদেষ্টা হিসাবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে যোগদান করেন। জাতিসংঘে পরবর্তী ২৫ বছরের সময়ে, তিনি নিউ ইয়র্ক এবং জেনেভায় জাতিসংঘের সিনিয়র পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং জাতিসংঘের প্রধান ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনাগুলোর প্রধান লেখক এবং উল্লেখযোগ্য অবদানকারী ছিলেন। ড. রহমান ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।

Ads small one

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীদের সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীদের সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ

পত্রদূত ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীদের সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, নারীরা সচেতন হলে পরিবেশ সংরক্ষণে ও দুর্যোগের বিপর্যয় এড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নারী ও তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের রামপাল পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইডের সহযোগিতায় ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফার্মিং-মার্কেট এক্সেস ফর উইমেন প্রকল্পর আওতায় উন্নয়ন সংস্থা ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ (আইআরভি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাড়িতে অন্তত কয়েকটি করে গাছ রোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।

আইআরভি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী সৌরভ ভদ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আরা খানমসহ অন্যান্য শিক্ষক, অবিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি অর্জুন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় শতাধিক নারী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ভেষজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ২০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘নারীর হাতে সহনশীল কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা’ বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকমন্ডলীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী তিনজন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেওয়া হয়।

 

 

 

সাতক্ষীরায় মব সৃষ্টি করে শিক্ষককে পিটিয়ে জখম, ক্লাসে শ্লীলতাহানির প্রমান মেলেনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মব সৃষ্টি করে শিক্ষককে পিটিয়ে জখম, ক্লাসে শ্লীলতাহানির প্রমান মেলেনি

পত্রদূত রিপোর্ট: সপ্তম শ্রেণীতে অংকের ক্লাস চলাকালে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে চপেটাঘাত ও দ্বিতীয় দফায় শিক্ষকদের কক্ষে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। মব সৃষ্টিকারিদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে থানায় টেলিফোন করে ওই শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩৮ নং ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ইন্দিরা গ্রামে গেলে ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবক এক চা বিক্রেতা জানান, ঈদের ছুটির পর গত রবিবার ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে সপ্তম শ্রেণীর অংকের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। একটি অংক বোর্ডে করতে দেন তিনি। অংক করে শিক্ষকের টেবিলে জমা দেয় শিক্ষার্থীরা।

 

তার মেয়ের খাতা তিনবার বলার পর বেঞ্চে এসে ফেরৎ দেওয়ার সময় ওই শিক্ষক তার মেয়ের শ্লীলতাহানি করে। বিষয়টি সোমবার বিকেল সোয়া তিনটায় বাড়িতে এসে তার মাকে অবহিত করলে তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন। সোমবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজগার আলী সরদারকে অবহিত করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে কোন গুরুত্ব না দেওয়ায় স্থানীয়দের সাথে নিয়ে সকাল ১০টার দিকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে যান তিনি।

 

সপ্তম শ্রেণীর ক্লাস নেওয়ার সময় ওই শিক্ষককে তিনি কয়েকটি চড় মারেন। পরে স্থানীয়রা শিক্ষক রুমে ঢুকে ওই শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারী জিনিস দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকম-লী ওই শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে বিষয়টি স্থানীয় আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কবীর হোসেন মিলন দায়িত্ব নেওয়ায় তিনি থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত বছর পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার পর ওই শিক্ষার্থীর পিতা চলতি বছরে তার মেয়েকে পাশর্^বর্তী আবাদেরহাট বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ছোট মেয়ে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তার কোন সমস্যা না হলে বড় মেয়েকে আজ বা কালের মধ্যে অন্যত্র ভর্তি করাবেন। তবে তার মেয়ের সাথে কথা বলতে চাইলে আপত্তি করেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার সপ্তম শ্রেণীর তামিম হোসেনসহ তিনজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তারা এ প্রতিবেদককে জানায়, রবিবার ক্লাসে তারা তাদের সহপাঠীর সাথে মোস্তাফিজ স্যারের কোন খারাপ আচরণ করতে দেখেননি। তবে সোমবার তাদের এক সহপাঠীর বাবা ক্লাস চলাকালিন সময়ে স্যারকে মারপিট করেছে।
আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কবীর হোসেন মিলন জানান, বিষয়টি দূঃখজনক। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মান বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভাল রাখার জন্য সকলের সঙ্গে পরামর্শ করেই কোন ধরণের মামলা করা হচ্ছে না।
মুঠোফোনে মঙ্গলবার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী কাশেমপুরের এক মাদ্রাসা শিক্ষক তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনের কাছে ন্যয় বিচার প্রার্থনা করেছেন।

ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজগার আলী সরদার বলেন, প্রাথমিক বিভাগে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত তার বিদ্যালয়ে ৩৯০ জন ও ষষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ৫০ জন শিক্ষার্থ রয়েছে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা- ২২ জন। কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে তাকে অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

 

রবিবারের ঘটনা সম্পর্কে সোমবার সকালে তাকে অবহিত করা হলে তিনি ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। সকাল ১০টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর বাবাসহ শতাধিক লোক বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়লে তিনি তার অফিস কক্ষের বারান্দার দরজা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর বাবা শ্রেণীকক্ষে যেয়ে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে কয়েকটি চড় মারেন। পরে ওই শিক্ষক শিক্ষকরুমে এলে বহিরাগতদের মধ্যে একজন লোহার রড দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়।

 

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সদর সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন, সদর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানকে অবহিত করা হয়। মব থেকে জীবন বাঁচাতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে এ সময় ওই বিদ্যালয়ের ১৭জন শিক্ষককের চোখে ও মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখা যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক জানান, তারা তাদের সহকর্মীকে নিরাপত্তা দিতে পারেননি। তবে মব থেকে জীবন বাঁচাতে তাকে পুলিশে দিয়েছেন। হতাশার সুরে তারা বলেন, সূযোগ পেলে দ্রুত এ বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র বদলী হয়ে যাবেন।

ওই শিক্ষার্থীর চাচা ইন্দিরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জানান, ওই শিক্ষার্থী তার আপর ভাইঝি। অথচ তাকেও ঘটনার দিনে বিষয়টি অবহিত করেনি তার ভাই।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় গ্রামবাসি জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা ক্রমশঃ বাড়ছে। তবে দিনদুপুরে পাঠদান চলাকালে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মানতে কষ্ট হয়। স্থানীয়ভাবে যে পরিমান বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে তাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। দুই বছর আগে এ বিদ্যালয়ে ৫২০ জন শিক্ষার্থ থাকলেও এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪০ এ। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয় এমন ঘটনা ঘটাতে পারলে পরিকল্পনা অনুযায়ি অনেক অভিভাবক ওই বিদ্যালয় থেকে সন্তানদের নিয়ে নিকটস্ত মাদ্রসায় বা বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবে। যাহা ওই বিদ্যালয়ের জন্য একটা অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দেবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তাকেসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো পারতেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক। কিন্তু তা না করে মব সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষে বা শিক্ষকরুমে নির্যাতন ন্যয় বচার পরিপন্থি। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে। শিক্ষক মোস্তাফিজুরকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। তাকে দ্রুত অন্যত্র বদলী করিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় ওই শিক্ষককে সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ১, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে চোরাই গরু উদ্ধার, আটক ১, থানায় মামলা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় পুলিশের অভিযানে চোরাই একটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপর এক আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার দেবীশহর গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে আব্দুর সাত্তার গাজী (৬৫) গত ৫ জুন সকাল ৭টার দিকে দেবীশহর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ময়নাতলা বিলের মাঠে তার তিনটি গরু ঘাস খাওয়ানোর জন্য বেঁধে রেখে বাড়িতে যান। পরে সকাল ১০টার দিকে মাঠে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তিনটির মধ্যে দুটি গরু বিলে বাঁধা থাকলেও একটি কালো রঙের এঁড়ে গরু নিখোঁজ রয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর সাত্তার গাজী বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামনাথপুর (মাঝিপাড়া) গ্রামের রবিন ঘোষের ছেলে অনিল ঘোষ (২৪)-এর বাড়ি থেকে চোরাই গরুটি উদ্ধার করে। এ সময় অপর অভিযুক্ত জগন্নাথপুর গ্রামের রাশেদ সরদারের ছেলে মাসুদ সরদার (৪০) পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অনিল ঘোষকে গ্রেপ্তার করে এবং উদ্ধারকৃত গরুটি মালিকের কাছে ফেরত দেয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চোরাই গরুটি উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।