আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য
আশাশুনি সংবাদদাতা: একসময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে শাপলা ফুলের বাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই ফুটে উঠতো সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের শাপলা, যা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনের এক আবেগময় অংশ হিসেবেই পরিগণিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আশাশুনির সেই অপরূপ দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, জলাশয় ভরাট, রাসায়নিক বর্জ্য এবং অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ শাপলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় গ্রামের শিশুরা সকাল সকাল শাপলা তুলতে পুকুরে যেত। মায়েরা রান্নার উপকরণ হিসেবে শাপলার ডাটা সংগ্রহ করতেন। শাপলার শিকড় (ঢ্যাঁড়শের মতো অংশ) ছিল গ্রামীণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা পেটের নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।
বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামে পুকুরঘাট, বিল বা খালের ধারে বসে শাপলা ফোটা দেখার যে অপার আনন্দ ছিল তা আজ শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। আশাশুনির বড়দল, খাজরা, বুধহাটা, কাদাকাটি, আনুলিয়া, শ্রীউলা, প্রতাপনগরসহ অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো শাপলা দেখা যায় না।উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শাপলা শুধু একটি ফুল নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যবান এলাকার পরিচায়ক।
এটি জলাশয়ের স্বাস্থ্যবিধান রক্ষা করে এবং ছোট মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে শাপলা বিলুপ্ত হওয়া মানে শুধু ফুল হারানো নয়, একটি জীববৈচিত্র্যগত ভারসাম্যের বিপর্যয়ও। আশাশুনি সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতি চেনাতে হলে, গ্রামীণ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিল ও খাল পুনরুদ্ধার, রাসায়নিক দূষণ রোধ এবং শাপলা সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।পরিবেশবান্ধব আশাশুনি গড়তে হলে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।









