মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
একদিনে ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮৪৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৪ জন, রংপুর বিভাগে ৭১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৩হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২১৩
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন। তাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ২৯৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৭৮৪ জন।

এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে।

 

Ads small one

মাইকেলের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে কয়েক পংক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
মাইকেলের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে কয়েক পংক্তি

জিএম এমদাদ

উনিশ শতকের বাংলায় জন্মে ছিলেন বহু খ্যাতিমান বাঙ্গালী- তাদের কেউ, দেশকে এগিয়ে দিয়েছেন আধুনিকতার পথে, কেউ এগিয়ে দিয়েছেন বাংলাভাষা এবং সাহিত্যকে, কেউ সূত্রপাত করেছে ধর্ম সংস্কারের, কেউবা সংগীত এবং পর্যটনকে এগিয়ে দিয়ে আজও অমর হয়ে আছেন কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো বর্ণাঢ্য চরিত্রের আর কেউই ছিলেন না। যে তার একটি রচনাও পড়েনি, সেও শুনেছে তার নাম। বনফুলের নাটকে অথবা প্রমথনাথ বিশীর মাইকেল জবিনের রুপরেখায় যে মাইকেলকে আমরা দেখি, সত্যি বলতে কি তা আমাদের অবাকই করে।

যে মাইকেল বাঙ্গালী হয়ে বাংলা ভুলে যান, ইংরেজীতে কবিতা লেখেন; যে মাইকেল একই সঙ্গে ডিকটেশন দেন, তিনটি কাব্যের, যে মাইকেল এক মোহর দিয়ে চুল ছাঁটিয়ে গর্ব করেন; যে মাইকেল স্ব-সমাজ ত্যাগ করে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করে; যে মাইকেল ব্যারিষ্টার হয়ে আয় করেন প্রচুর, কিন্তু ব্যয় করেন তার চেয়েও বেশি, যে মাইকেল দু’দু’জন ইংরেজ নারীর সঙ্গে প্রেম করে তাদের বিয়ে করেন; যে মাইকেল নিজে মাতাল হন ও অন্যকে মাতাল করেন; যে মাইকেল একই সঙ্গে মহাকাব্য লেখেন, সনেট লেখেন, নাটক লেখেন, একেবারে নতুন ছন্দ নির্মাণ করেন। জানা যায়, মাইকেলের পিতা আদৌ এটা চাননি যে, ধর্ম্ম যাজক হওয়ার শর্তে মাইকেল বিশপস্ কলেজে ভর্তি হন। তাই তিনি সেখানে পুত্রকে ভর্তি করান মাসে ৬৬ টাকা বেতন দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

 

দিয়েও ছিলেন প্রায় তিন বছর। আশাছিল প্রায়চিত্ত করে পুত্র একদিন ফিরে আসতে পারে হিন্দু ধর্মের পরিধিতে কিন্তু পুত্র হিন্দু ধর্মের তুলনায় খ্রীষ্ট ধর্ম্মের এমন কিছু উদারাতা ও আধুনিকতা লক্ষ্য করেছিলেন যে, খ্রীষ্ট ধর্মকে শ্রেষ্ট বলে বিশ্বাস করেছিলেন। তাছাড়া তিনি খ্রীষ্ট ধর্ম ও ইউরোপীয় সভ্যতাকে সম্ভবত এক করে দেখে ছিলেন। ফলে তিনি আর হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কথা ভাবেননি। এতে পিতা তাকে সম্পত্তিচ্যুত করার ভয় দেখান কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।

 

১৮৪৭ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পিতা-পুত্রের বিরোধ এমনই দানা বাঁধল যে, রাজ নারায়ন পুত্রকে টাকা দেওয়া বন্ধ করলেন এবং মাইকেলের বিশপস্ কলেজের ত্যাগ করতে পারতেন কিন্তু অসময়ে কলেজ ছাড়তে হলো বলে অতঃপর তিনি চাকরীর আশায় কলকাতায় নয়, ধারে কাছের কোন জায়গাতেও নয়, যাত্রা করলেন একেবারে সুদূর মাদ্রাজে ১৮৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। মাইকেলের বন্ধু ভাগ্যও ভালো ছিল। বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিলেন তাঁর। তাঁদের সঙ্গে মাইকেলের সম্পর্ক ছিল গলায় গলায় কিন্তু তার স্বভাব এমন ছিলনা যে, তিনি কাউকে পরিবার বা হাঁড়ির খবর বললেন। তাছাড়া স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যখন তার পারিবারিক জীবন গড়ে ওঠে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ১২ বছর তিনি কাটিয়েছেন বন্ধুদের দৃষ্টি সীমার অনেক দূরে মাদ্রাজে ও ইউরোপে।

 

মাইকেলের বাবা-মা মাঝ বয়সেই মারা যান। মধু সূদনের কোন ভাই-বোন ছিলনা। তার পিতৃকূলের আত্মীয়রা বসবাস করতেন যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে। আর পিতা মাতার সঙ্গে তিনি বাস করতেন কলকাতায়। তার উপর তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রীষ্টান হলেন তখন তার পরিবার এবং আত্মীয় স্বজন এমনকি সমাজ থেকে তিনি ছিটকে পড়লেন অনেক দূরে। তাছাড়া ২৪ থেকে ৩২ বছর বয়স অবধি তিনি দৈহিকভাবেও বাস করেন বন্ধু বান্ধব এবং সমাজ থেকে অনেক দূরে মাদ্রাজে। সেই মাদ্রাজেই জীবনের প্রথম চাকরি করেন। প্রেম করে বিয়ে করেন। সেখানেই জন্ম নেয় তার চার সন্তান। সেই সন্তান ও তাদের মায়ের সাথে মাইকেলের সম্পর্ক ও ছিন্ন হয় এই মাদ্রাজে।

 

এখানেই গড়ে উঠে তার বিবাহ বহির্ভূত প্রণয় সম্পর্ক। মাদ্রাজ ছাড়া তিনি ইউরোপেও বাস করেন সাড়ে চার বছর। সে জন্য সাহিত্যের কারণে তিনি বিখ্যাত লোক হলেও তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন খুব কম লোকেই, এবং সে জন্য সবার কাছে ব্যক্তি তিনি ছিলেন কমবেশি অপরিচিত। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, নদী সামনের দিকে সোজা চলতে চলতে হঠাৎ বাঁক নেয় তখন সেই বাঁকটাকেই বলতে হয মর্ডান। বাংলায় বলা যাক আধুনিক। এই আধুনিকতা সময় নং, বরং মর্জি নিয়ে।

জীবনানন্দ দাশের মতেও এই মর্জিটাই আসল। তিনি আধুনিকতাকে গন্ডিবদ্ধ না করে এর আপেক্ষিকতা স্বীকার করে নিয়েছেন। কারণ এক অর্থে আধুনিক শব্দটাই আপেক্ষিক। একে অতিক্রম করেই জীবনানন্দ দাশ উচ্চারণ করেন; বাংলা কাব্যে বা কোন দেশের কাব্যে আধুনিকতা শুধু জীবনানন্দ দদ দাশ উচ্চারণ করেন; বাংলা কাব্যে বা কোন দেশের কাব্যে আধুনিকতা শুধু আজকের কবিতায় আছে, অন্যত্র নয়-এ কথা ঠিক নয়। এ বিচার বিশ্লেষণেও মধুসুধন আধুনিক। বস্তুতঃপ্রতি যুগেই নতুন কবিকে পরনো ঐতিহ্যের বিরুদ্ধ্যে বিদ্রোহ করতে হয় সন্ধ্যান করতে হয় নতুন পথের, এবং নতুন ঐতিহ্য গড়ে তোলার।

 

বলা বাহুল্য মধুসূদনের একটা বড় গুণ বা বৈশিষ্ট ছিল কেবল খাওয়া দাওয়া ও আচার আচরণে সীমাবদ্ধ, কিন্তু দাতের খোশামোদ করা তিনি একেবারেই বরদাস্ত করতে পারতেন। ইংরেজদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে ও তিনি সরাসরি প্রতিবাদ করতেন। রেখে ঢেকে কোন কথা বলতেন না। একটা ঘটনার কথা বলি, বিশপস কলেজে একটা নিয়ম ছিল ইংরেজ ছাত্ররা এক রকম চাকানো টুপি পরতেন, যাকে কলেজ ক্যাপ বলা হত। দেশী ছাত্রদের জন্যে কিন্তু ঐ ধরনের টুপি যাবহার নিষিদ্ধদ ছিল। মধু-সুখন এই নিষেধ মানলেন না বরং তার জবাব ছিল একই কলেজের ছাত্রদের দই নিয়ম কিছুতেই চলতে পারে না।

 

দেশী হোক বিদেশী হোক একই ধরনের পোষাক সবাই ব্যবহার করবে। এই পর্যন্তই ছিল মধু সূদনের সামাজিক আচরণগত বিদ্রোহ। শিক্ষকতা ছাড়া সাংবাদিকতাও করেছিলেন মাইকেলমধু সূদন। পত্রিকার সঙ্গে তার প্রথম যোগাযোগ কবিতা প্রকাশের উদ্দ্যেশে। এ যোগাযোগ ঘটেছিল ম্যাড্রাস সার্কুলেটরের সঙ্গে কিন্তু সাংবাদিকতায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ভিন্ন পথে। মাইকেল তার প্রথম কাব্য’ক্যাপটিড’ লেডি’ জপিয়ে দেনার দায়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন। গৌর দাস বসাককে লেখা একাধিক চিঠিতে তিনি তা উল্লেখ করেছেন। তার এই চটি বইটি ছেপে দিয়েছিলেন যিনি তার নাম অ্যাবেল গেন সিনকিন্স। মাইকেলের কাছে প্রাপ্য দেশদু’শ টাকার জন্য সিমকিলের ব্যবসা লাটে উঠার অবস্থা হয়নি কারণ তার একটি নয়, তিন তিনটে প্রেস ছিল মাদ্রাজ নগরীতে। তাছাড়া তিনি একাধিক সাপ্তাহিক পত্রিকারও মালিক ছিলেন কিন্তু সফল ব্যবসায়ী হিসাবে তিনি পাওনা আদায়ের ব্যাপারে পারদর্শী ছিলেন। সিমকিন্স ‘ইউরোশিয়ান’ নামে একটা নতুন পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। তখনসে দায়িত্ব পান মাইকেল মধুসূদন।

 

সেই থেকেই সাংবাদিকতায় মাইকেলের হাতে খড়ি। তার চমৎকার নাটিকা ‘রিজিয়া’ তিনি লিখতে শুরু করেছিলেন। এই প্রত্রিকা পাতায়। কৃতিত্বের সাথে প্রায় এক বছর ইউরেশিয়ান পত্রিকা সম্পাদনা করার পর মাইকেল ম্যাড্রাস ক্রনিকেল এর-এবা সম্পাদক নিযুক্ত হন। প্রায় আড়াই বছর তিনি এই পত্রিকার সম্পাদনা করেন। এছাড়া তিনি ১৮৫৫ সালের এপ্রিল থেকে মাদ্রাজের প্রথম দৈনিক ‘স্পেক্টেটর’ পত্রিকার দেশীয় সম্পাদক নিযুক্ত হন। সে পত্রিকা পরিচালনা করতে গিয়েও তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখান। পিতার মৃত্যুর প্রায় এক বছরপর মাইকেল সে খবর পেয়েছিলেন বসাকের চিঠি থেকে। অনেকদিন যোগাযোগ না থাকায় গৌরদাস জানতেন না মাইকেলের ঠিকানা। তাই চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছিলেন কৃষ্ণ মোহন বন্দোপদ্যায়ের হাত দিয়ে।

 

চিঠিটি পড়ে মাইকেল জানতে পারেন যে, তার আত্মীয়রা মিলে তার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করার জন্য লড়াই করছেন কিন্তু কবি সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না। তার কারণ প্রধানত অর্থনৈতিক। মাদ্রাজ থেকে কলকাতায় যাওয়া রিতিমতো খরচের ব্যাপার পরিবারের খরচ ও কলকাতায় তার নিজের খরচ তাও তাকেই বহন করতে হবে। কলকাতায় গিয়ে সম্পত্তিটা বিক্রি করে দিলে এই তাবৎ ব্যয় উঠে আসবে কিনা কে জানে। ভেবে চিন্তে তাও তিনি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মধু সূদন সম্ভবত ভেবে ছলেন মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য যাবেন সেখানে কিন্তু কার্যকালে সেটা এতই দীর্ঘ হয়েছিল যে, তার ভাগ্যে আর মাদ্রাজে ফিরে আসা হয়নি। সেখানে তার ভাষায় চমৎকার ইংরেজ স্ত্রী এবং চারটি সন্তান থাকা স্বত্তেও।

মাইকেল যে কয়েক বছর ধরে হেনরিয়েটার সঙ্গে গোপন প্রণয়, সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন সে খবর এসময় জানাজানি হয়ে যায়। যা হোক রেবেকাকে নিয়ে মাদ্রাজে যে, সুখী পরিবার কবি গতে তুলেছিলেন সে খবর এসময় জানাজানি হয়ে যায়। তার গোপন প্রণয়ের খবর এসময় তা ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। কলকাতায় এসে বছর আড়াই অপেক্ষা করার পরও যখন সে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর তখন মাইকেল ঘর বাঁধার জন্য কলকাতায় আসার আহবান জানালেন হেনরিয়েটাকে। অতঃপর ১৫ বছর তারা স্বামী স্ত্রী হেনরিয়েটা মারা যান স্বয়ং মাইকেল মারা যাওয়ার তিনদিন আগে।

লেখক : জি, এম, এমদাদ, শিক্ষক, কলামিস্ট, গীতিকার , কপিলমুনি-৯২/৮২, খুলনা

‎সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, প্রয়োজন কার্যকর প্রতিরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
‎সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, প্রয়োজন কার্যকর প্রতিরোধ

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎এক সময় ধারণা করা হতো ডেঙ্গু কেবলই রাজধানী ঢাকা বা বড় মেগাসিটির রোগ। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে এডিস মশা এখন দেশের প্রান্তিক জেলাগুলোতেও নিজের সাম্্রাজ্য বিস্তার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের জেলা সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির যে অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর চিত্র এবং প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

‎গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরায় প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং জেলাজুড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। উদ্বেগের আরেকটি বড় জায়গা হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ‘খুলনাফেরত’। অর্থাৎ, জীবিকা বা পড়াশোনার তাগিদে খুলনায় অবস্থান করা সাতক্ষীরার বাসিন্দারা সেখানে আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে আসছেন। তাছাড়া সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগরসহ বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখনো ডেঙ্গুর লক্ষণ বা এর ভয়াবহতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। অনেকেই সাধারণ জ্বর মনে করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করছেন, যা পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

 

আমাদের খোলাখুলি স্বীকার করতে হবে যে, শুধু পৌরসভার ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো কিংবা দায়সারা কিছু প্রচারণাই এই মরণব্যাধি রুখতে যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট, বর্ষা বা অসময়ের বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এডিস মশার বংশবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব বা পরিত্যক্ত টায়ারে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে।

‎একই সাথে সাতক্ষীরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু লোকদেখানো সচেতনতা নয়, বরং প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমে থাকা পানির উৎস খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং প্রয়োজনে জরিমানার মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় তরুণ সমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা গেলে আরও দ্রুত সুফল পাওয়া সম্ভব।

‎পাশাপাশি, জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট, মশারি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শেষ কথা কথা: চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ও জ্বর হলে, অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা

শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রি(৬২) মৃত্যুবরণ করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের মৃত তাহের মিস্ত্রি ছেলে।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে গোপালপুর এলাকায় পৌছে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। শুরুতে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলেও রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ভোররাতে মোজাম মিস্ত্রিকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করে চিকিৎসকরা।

নিহতের ছেলে তোফাজ্জল মিস্ত্রির ভাষ্য প্রতিপক্ষ ই¯্রাফিল হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাবু ও তার সহযোগী হাসান, সাগরসহ ১০/১২ জন অস্ত্রধারী বাড়ি ফেরার পথে তার পিতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় তারা মৃত ভেবে মোজাম মিস্ত্রিকে পাশের খালের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে যাওয়ার পর পথচারীরা গোঙানোর শব্দ শুনে রাত ১০টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌছে দিয়েছিল।

তোফজ্জল মিস্ত্রির দাবি শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সৈনিক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ই¯্রাফিল হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে শ্যামনগর থানা পুলি । জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশকে ব্যবহার করে ই¯্রাফিলের গ্রেপ্তারের পিছনে মোজাম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে এসময় অভিযোগ তোলে ই¯্রাফিলের ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা। তোফাজ্জল আরও দাবি করেন তার পিতাকে দেখে নেয়া হবে বলে হুমকি দেয়ার এক-দেড় ঘন্টার মধ্যেই তারা পিতার উপর হামরা হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর তার পিতা হামলায় জড়িতদের নাম পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছিল।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান মোজাম মিস্ত্রির চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকায় হয়তোবা কোন অভিযোগ করেনি। খুলনায় সন্ধ্যায় মোজামের মৃত্যুর খবর তিনি শুনলেও এখনো নিহতের পরিবারের কেউ পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেনি। ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরে মামলা করলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।