শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

এক বছরে দেশে ৫২ হাজার বৃক্ষনিধন, জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
এক বছরে দেশে ৫২ হাজার বৃক্ষনিধন, জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড় রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষিজমির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেশের বনভূমি ও সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘গাছনিধন মিডিয়া মনিটরিং ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল বাবুল অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যৌথ আয়োজক হিসেবে ছিল আরডিআরসি, গ্রীন ভয়েস, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ব্রাইটার্স এবং ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম।

গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি আগের বছরের (২০২৪-২৫) তুলনায় ৭১.২ শতাংশ কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৪১টি এবং কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পাওয়া গেছে। বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় অনুষ্ঠানে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ, নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, বৃক্ষনিধনের ফলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে গাছ কাটার হার গত বছরের চেয়ে কমেছে। সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় বৃক্ষনিধন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস এবং গ্রিন সেভারসের প্রতিষ্ঠাতা এহসান রনিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

Ads small one

আশাশুনিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবনের কাজে অনিয়ম, বন্ধের নির্দেশ ইউএনওর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ভবনের কাজে অনিয়ম, বন্ধের নির্দেশ ইউএনওর

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভবনের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে চলমান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের ভেতরে কোটি টাকা খরচে এ ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। কাজের শুরু থেকেই সঠিক তদারকি না করার অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা।

নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়ে ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেন। এ সময় ব্যবহৃত পাথরের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। তবে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কাজ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে অনিয়মের খবর পেয়ে ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ কার্যালয়ে তলব করেন। উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব জানান, ব্যবহৃত পাথর সঠিক ছিল না। তা ছাড়া পূর্বে বাতিল করা একটি পাইল পুনরায় ব্যবহারসহ রডের ব্যবহারে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।
ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ব্যবহৃত পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত ভবনের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।

 

মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
মানুষ

জহুরুল হক জুলু
একদিন সন্ধ্যার শেষে
আমি দেখেছি একটি শিশু
মুঠোভরা ধুলো নিয়ে
পৃথিবীকে খেলনার মতো সাজিয়ে রাখছে।

তার চোখে কোনো বিভাজনের রেখা ছিল না,
ছিল কেবল বিস্ময়ের নীল আলো।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
তার কাঁধে তুলে দেওয়া হলো
অসংখ্য অদৃশ্য পরিচয়ের বোঝা।
সে শিখল—
মানুষের আগে আরও অনেক নাম উচ্চারণ করতে হয়।
অথচ নদী
কখনো তার দুই তীরকে শত্রু ভাবে না।
ভোরের আলোও
জানালার কপাট দেখে আলাদা হয় না।
অসুখ এলে
সব কপালেই সমান জ্বর জ্বলে;
একটি শোক নামলে
সব চোখেই একই রাত্রি নামে।
আমি বহু শ্মশান দেখেছি,
বহু কবরের নীরবতা শুনেছি;
মাটির নিচে
কেউ নিজের পরিচয় বহন করে না।

পৃথিবী শেষ পর্যন্ত
সব পদচিহ্ন একই ধুলোর কাছে ফিরিয়ে দেয়।
তবু মানুষ
নিজের চারপাশে অদৃশ্য প্রাচীর গড়তে ভালোবাসে,
যেন ভালোবাসারও
আলাদা নাগরিকত্ব আছে।

আমি বিশ্বাস করি,
একটি রুটির উষ্ণতা
সব ক্ষুধার জন্য সমান।
এক ফোঁটা অশ্রু
যে গাল বেয়ে নামে,
তার কোনো অভিধান নেই।

তাই আজও
আমি মানুষের মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকি।
যদি কোনোদিন
পরিচয়ের সব শব্দ ঝরে পড়ে,
তবে হয়তো
একটি মাত্র নামই থেকে যাবে
সেই নাম
এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চারণ,
সবচেয়ে কোমল,
সবচেয়ে সত্য
‘মানুষ’।

কুলিয়ার পি কে বি ফুটবল মাঠে ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’ প্রীতি ম্যাচ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
কুলিয়ার পি কে বি ফুটবল মাঠে ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’ প্রীতি ম্যাচ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়নের পি কে বি ফুটবল মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বিবাহিত বনাম অবিবাহিত’ দলের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ সৌহার্দ্য বৃদ্ধি ও স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ম্যাচটি পরিচালনা করেন রবিউল ইসলাম ও স্থানীয় চিকিৎসক আশরাফুল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুরুল মোরশেদ মিলন এবং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু। এ ছাড়া স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।