সাতক্ষীরার নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি
এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চল ও শহরের হাট-বাজারে কিছু সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। একটি পণ্যের দাম কমার বিপরীতে অন্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের সংসার ব্যয়ের চাপ কমছে না। বিশেষ করে সীমিত ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য বাজারের এই অস্থিরতা ক্রমেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বাজারে পণ্যের দাম ওঠান আমার অন্যতম কারণ সরবরাহের ব্যবস্থার দুর্বলতা। কোন পণ্যের সরবরাহ সামান্য কমলেই তার প্রভাব দূরত্ব পরছে খুচরা বাজারে। ভোক্তা আব্দুল গফুর জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমার ক্ষেত্রেও অনেক সময় একটু গতি দেখা যায় না। উৎপাদন, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত ব্যয় ও মুনাফার কারণে ভোক্তা কে বাড়তি মূল্য দিতে হয়। এই ব্যবস্থার সংস্করণ ছাড়া বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন। সাবেক কৃষিকর্মকর্তা সোহেল উদ্দিন বলেন, কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্য সমন্বয় রাখা। কোনো মৌসুমে কোন পণ্যের চাহিদা বাড়বে, কোথায় উৎপাদন ঘাটতি হতে পারে এবং কোন অঞ্চল থেকে কি পরিমান পণ্য বাজারে আসছে এসব তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও বিশেষ্য না করা জরুরী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার লাবনী সরকার জানান, কৃষকের উৎপাদন ও খরচ কমানো বাজার স্থিতিশীল রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সার, বীজ, সেচ, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব অনেকটা ভোক্তার ওপর পড়ে। তাই কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে কৃষি অফিস কাজ করছে। তাছাড়া উৎপাদন স্থল থেকে স্থানীয় বাজার পর্যন্ত দ্রুত ও কম খরচে পণ্য পৌঁছানো গেলে মধ্যবর্তী ব্যয় কমে যাবে এবং বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে অযৌক্তিক মুনাফার সুযোগ কমে যাবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক বাণিজ্য যাতে বাধাগ্রস্থ না হয়, সেদিকে নজর রাখা দরকার। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট ও মজুদদারি ঠেকানো বিশেষ জরুরী।









