এমপির সামনে গ্রামের নারীরা ১৭ বিষয়ে উন্নয়ন চাইলেন
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগিপোতা গ্রাম চারদিকে সবুজে ঘেরা। গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে যুগিপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, সারি সারি চেয়ারে বসে আছেন গ্রামের নারী-পুরুষ। সামনে ছোট একটি মঞ্চ।
সেখানে চলছিল যুগিপোতা উন্নয়ন সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সামনে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ গ্রামের উন্নয়নে ১৭ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সিমা ম-ল ও চম্পা ম-ল। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে শিবেরডাঙ্গী খাল খনন, সুপেয় পানির প্ল্যান্ট স্থাপন, কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, লবণাক্ত পানি ঠেকানো, হাঁস পালনের যৌথ খামার, ধান ও মাছ চাষের সুযোগ তৈরি, পলি অপসারণ, সুইচগেট নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণ। এ ছাড়া জৈব সার ব্যবহার, ভূমি ও পানির ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিষয়ও রয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় গ্রামের নিচু এলাকা সাত থেকে আট মাস পানিতে ডুবে থাকে। এতে সময়মতো বীজতলা করা যায় না, ব্যাহত হয় ফসলের চাষ। পানি সরাতে নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন বাড়ির পানি মাটির নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে নেহালপুর খালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। কয়েকটি চেম্বারও তৈরি করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য শিবেরডাঙ্গী খাল খননের দাবি তাঁদের।
যুগিপোতা উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘খালটা পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। খালটি সংস্কার না করলে বর্ষায় সাত থেকে আট মাস জলাবদ্ধতা থাকে। মাঠে ফসল করা যায় না, সময়মতো বীজতলাও করা যায় না।’ রবিউল ইসলাম বলেন, যুগিপোতা, সুখদেবপুর, পুরুষোত্তমপুর, বয়রবাতান ও দুর্গডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিবেরডাঙ্গী খাল। খালটি খননের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কয়েকবার আবেদন করেও আশানুরূপ সাড়া পাননি তাঁরা।
জলাবদ্ধতার পাশাপাশি গ্রামের মানুষ একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্যোগপ্রবণ এ এলাকায় এমন একটি স্থাপনা হলে একদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের সংকট কমবে, অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়ের ব্যবস্থা হবে।
দুই বছর আগে ১৭৬টি পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠা যুগিপোতা উন্নয়ন সংগঠনটি নিজেদের উদ্যোগেও বেশ কিছু কাজ করেছে। সংগঠনের উদ্যোগে একটি ডোবা ভরাট করে বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি করা হয়েছে, রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং গত বছর প্রায় ৭০০ গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া ৪২ জন হতদরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সদস্য চম্পা ম-ল বলেন, ২০১৪ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের জন্য জমি দেওয়া হলেও এখনো সেখানে ক্লিনিক হয়নি। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
সভায় বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জমাদ্দার বলেন, তাঁদের প্রকল্পের অর্থ দিয়ে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই এলাকার অগ্রাধিকার ঠিক করে উন্নয়নকাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোন কাজ হবে, কী হবে না—সেই সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেন।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন, যুগিপোতা ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত কোনো কাজ করার সুযোগ থাকলে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, যে এলাকার প্রয়োজন বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘যে কাজটা আগে হওয়া দরকার, যে এলাকা বেশি অবহেলিত, যার হক আগে, সেটাকে আগে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
সংগঠনের দাবিগুলো লিখিতভাবে তাঁর কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবেন। জলাবদ্ধতার জন্য পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ বা বাঁধ দেওয়ার প্রবণতাকেও দায়ী করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন বা দুইজন মানুষের জন্য শত মানুষ কষ্ট পাবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না।’ প্রেস বিজ্ঞপ্তি






