বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

এসএসসির ফল প্রকাশ: কেউ হাঁসছে কেউ কাঁদছে: ফেল করা শিক্ষার্থীকে ভৎসনা নয় চাই ভালোবাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
এসএসসির ফল প্রকাশ: কেউ হাঁসছে কেউ কাঁদছে: ফেল করা শিক্ষার্থীকে ভৎসনা নয় চাই ভালোবাসা

এম. এম হায়দার আলী
সকাল ১০টা বাজতেই যেন বদলে গেল হাজারো কিশোর-কিশোরীর পৃথিবী। কারোর চোখে আনন্দের ঝিলিক, মুখে বিজয়ের হাসি, আবার কারোও চোখে জমল অশ্রু, বুকের ভেতর নেমে এলো একরাশ হতাশা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার প্রকাশিত হলো চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), সমমান দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল। ফল প্রকাশের এই দিনটি কারও কাছে স্বপ্ন পূরণের দিন, আবার কারও কাছে নতুন করে নিজেকে গড়ার কঠিন বাস্তবতার দিন। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অথচ গত বছর, ২০২৫ সালে, এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। শুধু পাসের হারই নয়, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬শত ৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩ শত ৫৬ জন। সংখ্যার এই ওঠানামার আড়ালে অবশ্য লুকিয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের গল্প। কোথাও বাবা-মায়ের চোখে সন্তানের সাফল্যের আনন্দ, কোথাও শিক্ষকের মুখে প্রিয় শিক্ষার্থীর ফলাফলের তৃপ্তি। আবার কোনো ঘরের দরজা হয়তো আজ একটু নীরব,সন্তানের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সেখানে নেই উৎসবের আয়োজন, নেই মিষ্টির বাক্স। আছে শুধু সান্ত¡নার হাত আর নতুন করে শুরু করার আহ্বান। সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেন। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতি, উদ্বেগ, রাতজাগা পড়াশোনা আর পরীক্ষার হলের চাপ পেরিয়ে অবশেষে আজ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল সেই কাঙ্ক্ষিত ফল। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩শত ৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩শত ৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। তবে ফলাফলের আরেকটি পরিচিত চিত্র এবারও অটুট,পাশের হারে মেয়েরাই এগিয়ে। সংখ্যার হিসাবে পরীক্ষার হলে ছেলেমেয়ের উপস্থিতি কাছাকাছি হলেও ফলাফলের ময়দানে মেয়েদের এই এগিয়ে থাকা যেন তাদের অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি স্বাক্ষর। তবে একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনোই একটি জীবনের চূড়ান্ত রায় হতে পারে না। জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই জীবন যুদ্ধে নিশ্চিত সাফল্য নয়, আবার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই ব্যর্থতার শেষ অধ্যায়ও নয়। পরীক্ষার খাতায় কয়েকটি সংখ্যার হিসাব
হয়তো আজ কারও মুখে হাসি ফুটিয়েছে, আবার কারও চোখে পানি এনেছে ঠিকই। কিন্তু জীবন নামের বড় পরীক্ষায় সামনে পড়ে আছে আরও অসংখ্য প্রশ্নপত্র। আজ যে শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে মিষ্টি মুখ করছে, তার জন্য যেমন অভিনন্দন প্রাপ্য। তেমনি যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তার কাঁধেও প্রয়োজন ভালোবাসার হাত। কারণ একটি ফলাফল একটি দরজা বন্ধ করতে পারে, কিন্তু জীবনের সব দরজা বন্ধ করে দিতে পারে না। আজকের এই হাসি আর কান্নার দিন তাই শুধু ফল প্রকাশের দিন নয়, এটি নতুন স্বপ্ন দেখারও দিন। কেউ এগিয়ে যাবে আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে, কেউ হয়তো চোখের জল মুছে আবার বই খুলবে। শেষ পর্যন্ত জীবন তাদেরই, যারা পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে জানে। এসএসসির ফলাফল তাই শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়,এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, পরিশ্রম, আনন্দ আর অশ্রুর এক বিশাল মানবিক গল্প। আজ কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কিন্তু সবার সামনে একই বার্তা,ফলাফল একটি অধ্যায়ের শেষ। জীবনের নয়। আমি অধমের এমনটি ধারনা …। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

সাতক্ষীরায় অসুস্থ বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানকে দেখতে জেলা নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অসুস্থ বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানকে দেখতে জেলা নেতৃবৃন্দ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানকে দেখতে যান জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় তার বাসভবনে নেতৃবৃন্দ তার শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আশু আরোগ্য কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদি, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল।

এছাড়াও জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকলের কাছে অসুস্থ নেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

প্রতারণা মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আসাদের নামে ফের আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
প্রতারণা মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আসাদের নামে ফের আদালতে মামলা

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় মানবাধিকার কর্মী আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আবারও প্রতারণার মাধ্যমে তিনলক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি সু’বিচার পেতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদ যশোরের শার্শা উপজেলার ৮নং বাগআঁচড়ার আ.ফ.ম. নিছার আলীর ছেলে ও বাগআঁচড়া সাতমাইল গ্রামের বাসিন্দা। আসাদের নামে যশোর ও ঝিনাইদহ আদালতে তিনটি মামলা চলোমান ও শার্শা থানায় দুটি চাঁদাবাজি এবং একটি খুন জখমের অভিযোগসহ ছয়টি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নতুন মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান আসাদ ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার আসাননগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চার লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশে (মালয়েশিয়ায়) বৈধ ভিসায় মোটা টাকা বেতনের চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখালে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বিদেশে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর তার বাড়িতে বসে “আসাদুজ্জামান আসাদকে” প্রথম ধাপে বিদেশে যাওয়ার জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে নন জুড়িশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নগত তিন লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

 

আসাদ সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ঐ তিন লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। মামলার কপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়া যাওয়ার ফ্লাইটের দিন ০১ এপ্রিল ২৬ তারিখে বাকী এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আসাদকে দিতে হবে। আর যদি ইংরেজি ০১ এপ্রিল তারিখের মধ্যে অভিযুক্ত আসাদ ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইংরেজি ০১ মে তারিখের মধ্যে তিন লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন। কিন্তু উক্ত তারিখের মধ্যে ভুক্তভোগীকে মালয়েশিয়া পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় আসাদকে দেওয়া তিনলক্ষ টাকা ফেরত চাইলে, তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন।

 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন সুবিচার প্রার্থনা করে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শৈলকুপা আমলী আদালত, ঝিনাইদহে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ধারা- ৪০৬/৪২০/৫০৬ (২) দঃ বিঃ আইন।

কেশবপুর শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
কেশবপুর শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বসতবাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করে ফেলে। পরবর্তীতে তারা আলমারি ভেঙে মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

সূত্রে জানাগেছে, চুরি শেষে দুর্বৃত্তরা পাশের একটি আমবাগানে বসে খালি গহনার প্যাকেটগুলো ফেলে রেখে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে মাস্টার আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশবপুর উপজেলায় প্রায়ই একইভাবে চেতনানাশক স্প্রে করে চুরির ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্তর মূল চক্রকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শামীম হোসাইন বলেন, ঘটনার পর পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত কৌশল ও ফেলে যাওয়া প্যাকেটগুলো পর্যালোচনা করছে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্তর গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধী চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।