সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এসএসসির ফল প্রকাশ: কেউ হাঁসছে কেউ কাঁদছে: ফেল করা শিক্ষার্থীকে ভৎসনা নয় চাই ভালোবাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
এসএসসির ফল প্রকাশ: কেউ হাঁসছে কেউ কাঁদছে: ফেল করা শিক্ষার্থীকে ভৎসনা নয় চাই ভালোবাসা

এম. এম হায়দার আলী
সকাল ১০টা বাজতেই যেন বদলে গেল হাজারো কিশোর-কিশোরীর পৃথিবী। কারোর চোখে আনন্দের ঝিলিক, মুখে বিজয়ের হাসি, আবার কারোও চোখে জমল অশ্রু, বুকের ভেতর নেমে এলো একরাশ হতাশা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার প্রকাশিত হলো চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), সমমান দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল। ফল প্রকাশের এই দিনটি কারও কাছে স্বপ্ন পূরণের দিন, আবার কারও কাছে নতুন করে নিজেকে গড়ার কঠিন বাস্তবতার দিন। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অথচ গত বছর, ২০২৫ সালে, এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। শুধু পাসের হারই নয়, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬শত ৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩ শত ৫৬ জন। সংখ্যার এই ওঠানামার আড়ালে অবশ্য লুকিয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের গল্প। কোথাও বাবা-মায়ের চোখে সন্তানের সাফল্যের আনন্দ, কোথাও শিক্ষকের মুখে প্রিয় শিক্ষার্থীর ফলাফলের তৃপ্তি। আবার কোনো ঘরের দরজা হয়তো আজ একটু নীরব,সন্তানের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সেখানে নেই উৎসবের আয়োজন, নেই মিষ্টির বাক্স। আছে শুধু সান্ত¡নার হাত আর নতুন করে শুরু করার আহ্বান। সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেন। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতি, উদ্বেগ, রাতজাগা পড়াশোনা আর পরীক্ষার হলের চাপ পেরিয়ে অবশেষে আজ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল সেই কাঙ্ক্ষিত ফল। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩শত ৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩শত ৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। তবে ফলাফলের আরেকটি পরিচিত চিত্র এবারও অটুট,পাশের হারে মেয়েরাই এগিয়ে। সংখ্যার হিসাবে পরীক্ষার হলে ছেলেমেয়ের উপস্থিতি কাছাকাছি হলেও ফলাফলের ময়দানে মেয়েদের এই এগিয়ে থাকা যেন তাদের অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি স্বাক্ষর। তবে একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনোই একটি জীবনের চূড়ান্ত রায় হতে পারে না। জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই জীবন যুদ্ধে নিশ্চিত সাফল্য নয়, আবার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই ব্যর্থতার শেষ অধ্যায়ও নয়। পরীক্ষার খাতায় কয়েকটি সংখ্যার হিসাব
হয়তো আজ কারও মুখে হাসি ফুটিয়েছে, আবার কারও চোখে পানি এনেছে ঠিকই। কিন্তু জীবন নামের বড় পরীক্ষায় সামনে পড়ে আছে আরও অসংখ্য প্রশ্নপত্র। আজ যে শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে মিষ্টি মুখ করছে, তার জন্য যেমন অভিনন্দন প্রাপ্য। তেমনি যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তার কাঁধেও প্রয়োজন ভালোবাসার হাত। কারণ একটি ফলাফল একটি দরজা বন্ধ করতে পারে, কিন্তু জীবনের সব দরজা বন্ধ করে দিতে পারে না। আজকের এই হাসি আর কান্নার দিন তাই শুধু ফল প্রকাশের দিন নয়, এটি নতুন স্বপ্ন দেখারও দিন। কেউ এগিয়ে যাবে আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে, কেউ হয়তো চোখের জল মুছে আবার বই খুলবে। শেষ পর্যন্ত জীবন তাদেরই, যারা পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে জানে। এসএসসির ফলাফল তাই শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়,এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, পরিশ্রম, আনন্দ আর অশ্রুর এক বিশাল মানবিক গল্প। আজ কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কিন্তু সবার সামনে একই বার্তা,ফলাফল একটি অধ্যায়ের শেষ। জীবনের নয়। আমি অধমের এমনটি ধারনা …। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

শ্যামনগরে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিল উপজেলা পরিষদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিল উপজেলা পরিষদ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পক্ষে সহায়তার এই অর্থ হস্তান্তর করেন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিজন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৫ জন দুস্থ ব্যক্তির মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার বাদঘাটা গ্রামের পঙ্গুত্ববরণকারী আব্দুল হামিদ ও মানিকপুর গ্রামের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমসহ কয়েকজনের হাতে এই অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শ্যামনগরে গুড নেবারসের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গুড নেবারসের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের সূচনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে জাপানভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গুড নেবারসের তিন বছর মেয়াদি একটি প্রজেক্ট ইনসেপশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বাঁধে এক লাখ গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক প্রকল্পের সফলতা কামনায় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গুড নেইবারস জাপানের এশিয়া সেকশন ম্যানেজার মিয়ুকি সুজিই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজনের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়।

জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা

 

এম শফিকুল ইসলাম: অনুকূল আবহাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধানের আবাদ। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে বীজতলা থেকে চারা তুলে মাঠে লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৮৩ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, কীটপতঙ্গের আক্রমণ ও রোগবালাই রোধে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া সারের কৃত্রিম সংকট এড়াতে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।