কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, বিচারে মানববন্ধনে উত্তাল এলাকা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রিয়জন হারানোর শোক বুকে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেন এবং নিহত গোলাম রব্বানীর মেয়ে বৈশাখী ও ছেলে বিল্লাল সরদারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর কারণ ও সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ী গ্রামে ১৩ শতক সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাম রব্বানী (৫২) এবং তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদার (২৬)-এর পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্যরা হলেন তাঁর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।
আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোলাম রব্বানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ অক্টোবর বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।






