কলারোয়ায় ৩টি ক্লিনিক ও ২টি এক্সরে সেন্টার বন্ধের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এক পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি উপজেলার টিকেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. রেক্সনা পারভীন বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টিকেট এলাকার ছলেমান মিস্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাদের প্রতিবেশী মো. হারুন গাজী, মো. ইব্রাহীম, রাবেয়া খাতুন ও বাচা খাতুনের জমিজমা ও নানা খুচরা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই ভুক্তভোগী পরিবারকে গালিগালাজসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৭ অক্টোবর (শনিবার) বিকেলে ছলেমান মিস্ত্রী (৬০) তার বসতবাড়ির সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অতর্কিতে তার ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। ছলেমান মিস্ত্রীকে রক্ষায় তার স্ত্রী শাহার বানু (৫৫), দুই মেয়ে রেক্সনা পারভীন (২৮) ও শাহানারা খাতুন (৩২) এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং মারধর করে। স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী রেক্সনা পারভীন জানান, মারধরে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দেবহাটা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ন্যাশনাল ডেস্ক: সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তৈরি দেবী দুর্গার অবয়বে তাঁর নিজের মুখমণ্ডল বসানো একটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
সেখানে তিনি লিখেছেন: নিচের ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিভাজন ঘৃনা উস্কে দিতে। যারা ঘৃণার চাষকে ধর্ম ভাবেন তাদের লিখেছেন। পোস্টের বিস্তারিত বিবরণ ও ছবিতে দেখা যায়, ধর্ম, সামাজিক নৈতিকতা, অপরাধ এবং ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে ২২টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে। বিশেষ দ্রষ্টব্যে লেখা রয়েছে, মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।
রুমিন ফারহানার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত সেই পোস্টের পূর্ণাঙ্গ লেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না,
২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না,
৩. শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না,
৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না,
৫. নারীর উপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না,
৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না,
৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না,
৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না,
৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না,
১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়া বললে ধর্ম যায় না,
১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না,
১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না,
১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না,
১৪. বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না,
১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না,
১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না,
১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না,
১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না,
১৯. খাদ্যে ভেজাল এমন কি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না,
২০. ব্যাভিচারে ধর্ম যায় না,
২১. দুর্বলের উপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না
২২. দুষ্টের লালন পালনে ধর্ম মজবুত হয়, ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।
বি:দ্র: মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কি আর করা।
অনলাইন ডেস্ক: মোংলা বন্দর, সুন্দরবন, নৌঘাঁটি এবং প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সফরের পর বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, এলএনজি টার্মিনালসহ দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনে সরকারি সফরে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। হেলিকপ্টার ও জলযানে খুলনা, সুন্দরবন এবং উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পর তিনি নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে যান। সেখানে নৌবাহিনী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছান। তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যান। সফর শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা ত্যাগ করেন।
পরিদর্শনের পথে সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে হাত মেলানোর সুযোগ পেয়ে স্থানীয় অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আশা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং ড্রেজিং ও অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণসহ আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এ অঞ্চলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
স্থানীয়দের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সফরকালে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিপ আহমেদ মোস্তফা, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সকালে সুন্দরবন পরিদর্শনের পর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে নৌপথে বানৌজা মোংলায় যান। পুরো সফরজুড়ে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন রেখে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
বাগেরহাটের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগের গতি বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিতেও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যদিও স্থানীয়দের প্রত্যাশা অনেক, তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।