মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

কালিগঞ্জে মবের মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যার অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে মবের মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যার অভিযোগে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় সন্ধিগ্ধ সুমাইয়াকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার নিহতের পিতা মোঃ আব্দুল লতিফ শেখ বাদি হয়ে আট জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন। সাতক্ষীরার আমলী আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মেহেদী হাসান এ ঘটনায় কোন অপমৃত্যু বা হত্যা মামলা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করার জন্য কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদি তৌফিক শেখ কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের কলুইমেদে এলাকার ফজর আলী শেখের ছেলে ও একটি ঘেরের পাহারাদার।

মামলার আসামীরা হলেন, কাশিবাটি গ্রামের এন্তোফা মোড়লের ছেলে হামিদুল মোড়ল, একই গ্রামের আব্দুল গফফার খানের ছেলে হুসাইন খাঁন, রাজু আহম্মেদ এর ছেলে রাফি ইসলাম, রমজান আলী খাঁনের ছেলে রেজাউল ইসলাম খান, রফিকুল ইসলাম খাঁনের ছেলে নাজিম খাঁন, ইমান আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন, নিহত সুমাইয়ার ভাসুরের ছেলে হাফিজুল ইসলাম সরদারের ছেলে তৌফিক হোসেন ও নওয়াপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১২ জন।

অভিযোগ, লতিফ শেখ হত্যাকারিদের নাম উল্লেখ করে রবিবার আদালতে মামলা করবেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় আসামীদের বাঁচাতে নিহত সুমাইয়ার জামাতা আমিরুলের উপর প্রভাব বিস্তার করে প্রকৃত ঘটনা উহ্য রেখে কারো নাম উল্লেখ না করে যেনতেন প্রকারে শনিবার রাতেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন একটি প্রভাবশালীমহল।

ঘটনার বিবরণ ও লতিফ শেখের দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, একই গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা স্থানীয় কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। ফারজানার পরিবারের সাথে তার মেয়ে সুমাইয়ার পরিবারের সুসম্পর্ক ছিলো। প্রতিদিনের ন্যয় গত ২০ জুলাই সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে যায় ফারজানা। দুপুর একটার পর টিফিনের সময় প্রতিদিনের ন্যয় সে বাড়িতে না আসায় তার অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে যাইয়া সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করে মাইকিং করা হয়। বিকেল তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এ সময় পুলিশ ও ফারজানার স্বজনরা মুঠোফোনে সুমাইয়াকে অবহিত করলেও তাকে বাড়ি ফিরতে বলে। দাওয়াত থেকে ভূমিহীন জনপদ চিংড়িখালি শ^শুরবাড়িতে অবস্থান করা সুমাইয়া তার শ^াশুড়ি তৌফিকা ও মা নাছিমাকে নিয়ে বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে চলে আসে।

 

খবর পেয়ে বাবা লতিফ শেখকে অবহিত করে তাকে নিয়ে বোনের বাড়িতে আসে আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ফারাজানা সম্পর্কে কোন তথ্য জানেনা মর্মে অবহিত করলে তাকে চড় থাপ্পড় মারা হয়। পুলিশ তাকে নিজ জিম্মায় নেয়। উক্ত সময় আসামীগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থিত শতশত জনগণকে উত্তেজিত করিয়ে জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে উঠানে থাকা ইট নিয়ে সুমাইয়ার দুইটি বসতঘরে ঢুকে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও ইট দিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ঘরে থাকা দুটি খাট, দুটি আলমারি, একটি ফ্রিজ, ঘরের চাল, দেওয়াল, দরজা ভাংচুর করে পরে পশ্চিম পাশের ঘরের বিছানাপত্রে আগুণ লাগিয়ে ৩০ হাজার টাকার মালামাল ক্ষতি করে। পরে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর আসামীরা বাড়িল বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে দিয়ে সুমাইয়ার কাছ থেকে চাবি না নিয়ে পশ্চিম পাশের্^র ঘরের তালা ভাঙে। ঘরের মধ্যে তখন ফারাজানার সন্ধান মেলেনি।

 

রাত সোয়া সাতটার দিকে আবারো বাড়ির আলো বন্ধ করে ওই ঘরের আলো নিভিয়ে আবারো তল্লাশি চালায় আসামীরা। এ সময় কোন প্রকারে কাঠের জানালার পাল্লা লাগিয়ে রাখা ওই ঘরের দেয়াল আলমারির ড্রয়ারে রাখা হাত-পা বাঁধা সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে আসামীরা। এরপর বারান্দায় অবস্থানকারি পুলিশের কাছ থেকে সুমাইয়াকে আসামীরা ছিনিয়ে নিয়ে চড় ও থাপ্পড় মারতে মারতে উঠানে চিৎ করে ফেলে দিয়ে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে মুখম-ল, মাথা ও গলাসহ বিভিন্নস্থান থেঁতেলে দেয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে ইন্দ্রনগর মোড়ে যেয়ে অবস্থান করে। পাশবিক নির্যাতনে সুমাইয়ার কয়েকটি দাঁত ছাড়িয়ে পড়ে যায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে।

 

পুলিশ সুমাইয়ার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরদিন সুমাইয়ার লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সুমাইয়ার লাশ এলাকায় দাফন করতে দেওয়া হবে না মর্মে প্রভাবশালীরা হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ২২ জুলাই রাত ১১টার দিকে মর্গ থেকে সুমাইয়ার লাশ নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার পর কলুইমেদে খালপারে দাফন করা হয়। মর্গ থেকে লাশ নেওয়ার সময় মৃত্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে থানা ও প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে নিতে হবে বলে তাদেরকে জানানো হয়।

 

প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য হামিদ মোড়লসহ কয়েকজনকে সুমাইয়া হত্যার দায় থেকে বাঁচাতে তাদেরকে ফারজানা হত্যা মামলার সাক্ষী বানিয়ে সুমাইয়ার ভাই আল মামুনকে আসামী করা হয়। যাতে সুমাইয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা না করা হয় সেজন্য লতিফ শেখ, তার ভাই রবিউল শেখকে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। মামলা করলেও ওই প্রভাবশালি জনপ্রতিনিধির কথার বাইরে কারো নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা যাবে না মর্মে জানতে পেরে আব্দুল লতিফ রবিবার আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আব্দুল লতিফকে নিজ অফিসে ডেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে থানায় গেলে অজ্ঞাতনামা আসামীদের মামলা হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দেন ওই জনপ্রতিনিধি।

মামলায় (সিআর-৬২১/২৬ নং কালিঃ) আরো উল্লেখ করা হয়, ফারজানার মৃত্যু সংক্রান্ত সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে তার কোন প্রকার সম্পৃক্ততার সত্যতা না পাওয়া স্বত্বেও উল্লেখিত আসামীগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিকটিম সুমাইয়ার বসতঘরসহ বসতঘরে রক্ষিত উল্লেখিত জিনিসনপত্রাদি ভাংচুর করে এবং একপর্যায়ে আগুণ দিয়া জ¦ালাইয়া দেয়। ফারজানার মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনায় সুমাইয়ার সম্পৃক্ততার সুষ্ঠু বিচারের জন্য আইনে সোপর্দ না করে আসামীরা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে আইনতঃ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। মেয়ের উপর সহিংসতার বর্ণনা দেওয়ার একপর্যায়ে সুমাইয়া ও ফারজানা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন লতিফ শেখ।

অপরদিকে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি জানতে পারেন যে, লতিফ শেখ আদালতে রবিবারে মামলা করবেন জানতে পেরে ও কালিগঞ্জ থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তড়িঘড়ি করে নিহত সুমাইয়ার স্বামী আমিরুল ইসলামকে শনিবার সন্ধ্যায় থানায় পাঠান। লাশ দাফন নিয়ে বিপাকে পড়া, ঘরপোড়ানা ও খুনের সহিংসতার কথা না লিখে প্রকৃত ঘটনার তথ্য গোপন করে সাক্ষী ও আসামীর নাম উল্লেখ না করে রাতেই একটি হত্যা মামলা (জিআর-১৬৮/২৬ কালিঃ) দায়ের করানো হয়। মামলায় আমিরুল উল্লেখ করেছে, গত ২৯ জুন থেকে মাদারীপুরে রং মিস্ত্রীর কাজ করে সে। ২০ জুলাই সকালে স্ত্রী তাকে কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য ফোন করে জানায়। টাকা না দিলে তাকে হেনস্তা করা হতে পারে। সে এক হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে। একই দিনে ফেইসবুকের মাধ্যমে স্ত্রীকে হত্যা করার খবর পান। স্ত্রীকে অজ্ঞাতনামা লোকজন মারপিট করে হত্যা করেছে। ভাংচুর করা হয়েছে চার লাখ টাকার মালামাল।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোসলেমউদ্দিন বলেন, ফারজানার হত্যার বিপরীতে সুমাইয়াকে মব সৃষ্টি করে হত্যা ন্যয় বিচার ও আইনের পরিপন্থি।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, মোঃ আব্দুল লতিফ শেখকে থানায় এসে মামলা করার ব্যাপারে নির্ভয় দেওয়া হয়। এরপরও এ ধরণের স্পর্শকাতর হত্যাকা-ে নিহতের পিতাকে না পেয়ে নিহতের স্বামী আমিরুল ইসলাম বাদি হয়ে শনিবার থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামানের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। দুটি হত্যাকা-ে পুলিশ তদন্ত করছে। ফারজানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল আমিনের রিমা- শুনানী আগামি মঙ্গলবার।

 

Ads small one

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান। মঙ্গলবার দুপুরে এ সাক্ষাৎ হয় বলে বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতাও কামনা করেন তারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিন বাহিনীর প্রধানকে আশ্বস্ত করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।

 

 

 

প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম প্রকাশ্যে শোনা গেলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কণ্ঠ। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিরল ও তারিখহীন ভিডিওতে ৫৬ বছর বয়সী এই নেতাকে একটি ধর্মীয় অ্যাকাডেমিক সেশনে সভাপতিত্ব করতে এবং এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।

 

ভিডিওতে মোজতবা খামেনি ইরানি শাসনব্যবস্থার ইসলামি নিরাপত্তা মডেল নিয়ে আলোচনা করেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে ২০-এর মধ্যে ১৯.৫ নম্বর দিয়ে তার গবেষণাপত্রকে ‘ত্রুটিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান সংঘাতের প্রথম দিনে হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতির কারণে তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে খবর প্রকাশের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এপ্রিলে সূত্রের বরাতে জানায়, তিনি মুখের আকৃতি পরিবর্তন এবং পায়ের গুরুতর ট্রমা থেকে সেরে উঠছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে বলেছিলেন যে তিনি ‘আহত এবং সম্ভবত বিকৃত চেহারার’ শিকার হয়েছেন। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আঘাত পেলেও তা তার নেতৃত্ব প্রদানে বাধা তৈরি করেনি।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, মোজতবা মানসিকভাবে সজাগ রয়েছেন এবং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

নতুন প্রকাশিত ভিডিওটি কবে রেকর্ড করা হয়েছে বা বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি ইরানি সর্বোচ্চ নেতার একটি বিরল প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ভিডিও এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সম্পর্কের জটিলতার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, কিংবা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে আটকে না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিচারপূর্ব আটক রাখা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আগে কখনো হয়নি। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির নেতাকর্মীরা। সুতরাং আমরা কখনোই চাইবো না, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমল ফিরে আসুক। আমরা চাই, সবার ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, আইনমন্ত্রীও বলেছেন-জুলাই-আগস্টে যে ঘটনা ঘটেছে এবং যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তারপর অনেক মামলা হয়েছে। যেসব মামলা আইনগতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং যারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।’

আবার অনেক মামলা ‘অতি উৎসাহী’ হয়েও অনেকে দায়ের করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেসব মামলাও আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো সত্যতা না পাওয়া যায় বা কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে পর্যালোচনার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সরকারের অবস্থান হলো-আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ আছি। কোনো বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক বা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে বা আটক না থাকে, তা বর্তমান সরকার অবশ্যই নিশ্চিত করবে।’