মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

জলবায়ু সংকটে সুন্দরবন, ব্রিটিশ অর্থছাঁটাইয়ে মাঝপথেই থামছে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে সুন্দরবন, ব্রিটিশ অর্থছাঁটাইয়ে মাঝপথেই থামছে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

যুক্তরাজ্য সরকারের বৈদেশিক সহযোগিতা বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মেয়াদের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে সুন্দরবন অঞ্চলের হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ সহায়তা বঞ্চিত হওয়ার মুখে পড়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) তাদের বৈদেশিক সহযোগিতা বাজেট মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন-এর পরিচালিত প্রকল্পটি নির্ধারিত ২০২৮ সালের পরিবর্তে ২০২৬ সালের জুন মাসেই গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত সময়সীমা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা তার চেয়ে অনেক কম পেয়েছে, যার ফলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ হাজার থেকে কমে ৩৭ হাজারে নেমে এসেছে।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স লিড তামান্না রহমান জানান, হঠাৎ এই অর্থ ছাঁটাইয়ের কারণে আড়াই বছরে ধরে স্থানীয়দের সঙ্গে গড়ে ওঠা আমাদের বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সঠিকভাবে প্রকল্প হস্তান্তরের সুযোগও কমে গেছে।

এই প্রকল্পটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান সুন্দরবনের নিকটবর্তী কালবোগীর মতো নদীভাঙন ও লবণাক্ততায় আক্রান্ত এলাকার মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও প্রাথমিক সতর্কবার্তা প্রদানে সহায়তা করে আসছিল। প্রকল্পের সহায়তায় সোলার রাইস-হাস্কিং মেশিন ও সৌরবিদ্যুৎ পেয়ে বহু প্রান্তিক পরিবার প্রতিদিনের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ার ও লেবার পার্টির এমপি সারাহ চ্যাম্পিয়ন এ বিষয়ে বলেন, যদি এ ধরনের প্রকল্প নোটিশ ছাড়াই দুই বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে তা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তায় যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এর ফলে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে।

একইভাবে ব্রিটিশ এনজিও নেটওয়ার্ক বন্ড-এর প্রধান নির্বাহী রোমিলি গ্রিনহিল এটিকে একটি জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ হারিয়ে যাওয়া হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাজ্য সরকারকে সাহায্য বাজেট পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

তবে সমালোচনা সত্ত্বেও এফসিডিও-এর এক মুখপাত্র জানান, সাহায্য হিসেবে সরাসরি অনুদান দেওয়ার নীতি থেকে ব্রিটেন সরে আসছে। এখন থেকে সরাসরি বিদেশি সরকারগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো ও ব্যবস্থা জোরদার করার দিকেই তারা বেশি নজর দেবে।

Ads small one

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান। মঙ্গলবার দুপুরে এ সাক্ষাৎ হয় বলে বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতাও কামনা করেন তারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিন বাহিনীর প্রধানকে আশ্বস্ত করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।

 

 

 

প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম প্রকাশ্যে শোনা গেলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কণ্ঠ। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিরল ও তারিখহীন ভিডিওতে ৫৬ বছর বয়সী এই নেতাকে একটি ধর্মীয় অ্যাকাডেমিক সেশনে সভাপতিত্ব করতে এবং এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।

 

ভিডিওতে মোজতবা খামেনি ইরানি শাসনব্যবস্থার ইসলামি নিরাপত্তা মডেল নিয়ে আলোচনা করেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে ২০-এর মধ্যে ১৯.৫ নম্বর দিয়ে তার গবেষণাপত্রকে ‘ত্রুটিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান সংঘাতের প্রথম দিনে হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতির কারণে তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে খবর প্রকাশের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এপ্রিলে সূত্রের বরাতে জানায়, তিনি মুখের আকৃতি পরিবর্তন এবং পায়ের গুরুতর ট্রমা থেকে সেরে উঠছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে বলেছিলেন যে তিনি ‘আহত এবং সম্ভবত বিকৃত চেহারার’ শিকার হয়েছেন। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আঘাত পেলেও তা তার নেতৃত্ব প্রদানে বাধা তৈরি করেনি।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, মোজতবা মানসিকভাবে সজাগ রয়েছেন এবং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

নতুন প্রকাশিত ভিডিওটি কবে রেকর্ড করা হয়েছে বা বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি ইরানি সর্বোচ্চ নেতার একটি বিরল প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ভিডিও এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সম্পর্কের জটিলতার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, কিংবা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে আটকে না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিচারপূর্ব আটক রাখা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আগে কখনো হয়নি। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির নেতাকর্মীরা। সুতরাং আমরা কখনোই চাইবো না, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমল ফিরে আসুক। আমরা চাই, সবার ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, আইনমন্ত্রীও বলেছেন-জুলাই-আগস্টে যে ঘটনা ঘটেছে এবং যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তারপর অনেক মামলা হয়েছে। যেসব মামলা আইনগতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং যারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।’

আবার অনেক মামলা ‘অতি উৎসাহী’ হয়েও অনেকে দায়ের করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেসব মামলাও আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো সত্যতা না পাওয়া যায় বা কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে পর্যালোচনার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সরকারের অবস্থান হলো-আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ আছি। কোনো বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক বা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে বা আটক না থাকে, তা বর্তমান সরকার অবশ্যই নিশ্চিত করবে।’