শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

কালিগঞ্জে সাড়ে তিন হাজার কেজি আম আটক, পরে বিনষ্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে সাড়ে তিন হাজার কেজি আম আটক, পরে বিনষ্ট

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তিন হাজার ৩৬০ কেজি অপরিপক্ক আম জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর এলাকা থেকে এসব আম জব্দ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অপরিপক্ব আম ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী একটি পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করে ১৬৮ ক্যারেটে রাখা তিন হাজার ৩৬০ কেজি আম জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত আম শুইলপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন ভেড়িবাঁধ সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে বিনষ্ট করা হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান জানান, ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত আম পরিবহনের দায়ে পিকআপ চালক শাহিন হোসেনকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

Ads small one

দেবহাটায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলায় চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা চলাকালীন এবং দিন রাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। অনেক এলাকায় দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আলো সংকটের পাশাপাশি তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।

পরীক্ষার্থীরা জানায়, “পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ থাকে না। গরমের মধ্যে অন্ধকারে পড়তে খুব কষ্ট হয়, অনেক সময় পড়াই সম্ভব হয় না।”

অভিভাবকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ধরনের লোডশেডিং পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম ও দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ রেজাউল করিম বাপ্পা জানান, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “অন্তত সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা দরকার, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

শ্যামনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বহিস্কৃত যুবদল কর্মীদের তান্ডব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বহিস্কৃত যুবদল কর্মীদের তান্ডব

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘জামান ট্রেডিং ব্রিকস’ নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যুবদলের নেতাকর্মীরা তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বড়কুপোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৮)কে মারপিটসহ হামলায় জড়িতরা প্রায় তিন লাখ টাকা মুল্যের ইট, খোয়া, বালু লুট করে বলে অভিযোগ।

 

এর আগে তারা ঐ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সিসি ক্যামেরাসহ মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে তারা। খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক মোরসালিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মালিক মোঃ কামরুজ্জামানের ভাষ্য বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব (বহিস্কৃত) আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবক তার প্রতিষ্ঠানে যায়। এসময় নিজেদের বালুভর্তি ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য তারা জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মুল ফটকের তালাগুলো খুলে দিতে বলে।

 

তবে ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের নির্দেশ না মানায় কিছুক্ষণ পরে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান, আলমগীর, রোকনুজ্জামান, বিল্লাল ও মহসীনসহ অপরিচিত সাত/আটজন সেখানে পৌছে গালিগালাজ শুরু করে।

 

একপর্যায়ে তারা হুইল রেন্স ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে এবং ইঞ্জিন ভ্যানযোগে ইট, বালু, খোয়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এসময় বেশকিছু গাছ-গাছালি কাটার পাশাপাশি তারা বাধা দিতে যাওয়া ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বেপরোয়া মারপিট করে। এঘটনায় শুক্রবার দুপুরে তিনি পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন/চারজনকে আসামী করে এজাহার জমা দিয়েছেন।

কামরুজ্জামানের অভিযোগ, গত ৫ আগষ্টের দুই সপ্তাহ পর মিজান ও আলমগীরের নেতৃত্বে তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়। সে ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাইরে সরবরাহ করায় পরবর্তীতে পুনরায় তারা হামলা চালিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো ভাংচুর করে হুমকি দিয়েছিল।

 

পরবর্তীতে ২১ জুন ২০২৫ তারিখে দলবল নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বদখলীয় প্রায় ১৭ শতক জায়গা দখল করে নিয়েছে। সে ঘটনায় আদালতে মামলা (১০৯৫/২৫) চলমান থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পুনরায় একই দুবৃর্ত্তরা তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এর আগে একই গ্রুপের সদস্যরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা চাঁদা গ্রহনের পাশাপাশি তার ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদলের (বহিস্কৃত) সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান কল রিসিভ করেননি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক এসআই মোরছালিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান মালিক মোঃ কামরুজ্জামান কয়েকজনকে আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষ এক সম্ভবনাময় ফসল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষ এক সম্ভবনাময় ফসল

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): উপকূলের সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষের অপার সম্ভবনা রয়েছে। এটি নতুন করে লবনাক্ত শ্যামনগরে নতুন সম্ভবনাময় এক কৃষি ফসল। উপজেলার ভূরুলিয়া ইউপিসহ অন্যান্য ইউপিতে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছেন। এটাতে একদিকে কৃষকের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অন্যদিকে এলাকায় হলুদ ফুলের চমৎকার সমারোহ এবং এটি দর্শনার্থীদের জন্য এক দর্শনীয় স্থান হয়ে দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে প্রকাশ, শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফসলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ভূরুলিয়া ইউপিতে। বারটি ইউপির মধ্যে এখানে ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কমসময়ে উৎপাপদনযোগ্য ও লাভজনক ফসল হিসাবে চাষ করছেন কৃষকরা সূর্যমুখী। বিশেষ করে লবন সহিষ্ণু হাইসান-৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষের ভালো ফলন ও বাজার মূল্যে পাওয়ার আশায় তারা আগ্রহী। উপকূলীয় শ্যামনগরে লবনাক্ত হওয়ায় কৃষি ফসল চাষে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মধ্যেও সূর্যমুখী স্থান করে নিয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায় সূর্যমুখী লবনসহনশীল কৃষি ফসল।

উপজেলার ভূরুলিয়া ইউপির কৃষক শমন মন্ডল ও ধানখালী গ্রামের কৃষক রমেশ সরকার বলেন, আগে জমি ধান কাটার পর ফেলে রাখা হত বা অন্য ফসলের চাষ কোন কোন সময় করা হত। বর্তমানে সূর্যমুখী চাষ করে ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। খরচ তেমন বেশি না উল্লেখ করে বলেন সামান্য খরচ ও পরিশ্রমে লাভবান হওয়া যায়। কারণ সূর্যমুখী তেলের মূল্য অনেক বেশি। দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সূর্যমুখীর বীজ তেল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে অনেক স্থানীয় কৃষকের সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল বের করার প্রক্রিয়া ও বাজারজাত করণ বিষয়ে ধারণা কম রয়েছে। কৃষকদের দাবী সহজ প্রক্রিয়ায় বীজ থেকে তেল বের করা ও শোধন করার প্রক্রিয়া সহজলভ্য হলে মাঠে মাঠে সূর্যমুখীর চাষ আরও দ্বিগুন ভাবে হবে।

উপজেলার বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করে দর্শনার্থীরা হলুদ ফুলের সমারোহের মধ্যে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে। এর ফলে স্থানীয়রা মত প্রকাশ করে অনেকে বলছেন শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে অপার সম্ভবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল ,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন সূর্যমুখী চাষ শ্যামনগরে এক সম্ভবনাময় ফসল। তারা বলেন ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কৃষকদের সহায়তায় বড় ধরনের প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। এখানে প্রণোদনার মাধ্যমে সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল বের করা ও শোধনের জন্য একটি মেশিন প্রদান করা হয়েছে। যার মাধ্যমে কৃষকরা এই সুবিধা গুলি পাবেন।

অভিজ্ঞরা মনে করেন শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারী সহায়তা প্রদান করা হলে উপকূলীয় এলাকায় কৃষি ফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনসহ দেশের অর্থনৈতিক খাত সমৃদ্ধি হবে।