বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের তিন মাস পরই দেশে এক ধরনের অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্তে পুশ-ইন ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সরকারবিরোধী ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় সরকারকেও ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে’’— সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের পরই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি আসলে কোনও বিপদের ইঙ্গিত দিলেন? আসলে ভেতরের খবর কী? সামনে কী হচ্ছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সামনে আসছে।

জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কোনদিক থেকে এমনটি বলেছেন জানি না। তবে দেশের সামগ্রিক অবস্থা কিছুটা জটিলই বলা যায়। অর্থনীতি ভালো নেই, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা, আইএমএফ’র ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না, ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টিও সরকারকে চাপে ফেলেছে।

অপরদিকে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা নিয়েও এক ধরনের উদ্বিগ্নতা কাজ করছে প্রশাসনে। এসব বিষয় হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে ভাবাচ্ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিতে পারেন।’’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ১০০ দিনের মাথায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মূল্যায়ন করেছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন শঙ্কাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’’

গত ৩১ মে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা

সামনে দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস সরকারের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার-প্রধান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রসাধন করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসি না চালানো, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে মিতব্যয়িতা, বিপণিবিতান খোলা রাখার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে সামনের আরও কঠিন সংকট মুহূর্তের শঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতও টালমাটাল। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি নেই। জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে গ্রাহক-শেয়ার হোল্ডারদের আন্দোলন। এমনকি সংঘর্ষ-গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংকটেরও সমাধান সহসা হবে কিনা বলা কঠিন। ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মার্চে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এপ্রিলে আবার ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়। এ নিয়েও শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে চরম আর্থিক সংকট সরকারকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয় গত ২৭ মে। তবে এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

সারা দেশে হত্যা, চাঁদাবাজি, গণপিটুনি, চুরি-ছিনতাই ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা খুব একটা কমেনি। এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা নতুন করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অপরাধবিরোধী অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসছে। এর বাইরে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। মাজারে হামলা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি মিরপুরে শাহ আলী মাজারে উগ্রবাদী হামলায় মারধরের শিকার হন ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সংস্কার এবং বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন চাপ

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

আলোচনা আছে, সেই সময়ে চুক্তির আয়োজন ও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা—এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। গত ৪ মার্চ এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই চুক্তিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতি ছিল।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।’’ যদিও তা অস্বীকার করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে তার দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেও এই সরকারের অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

এই চুক্তি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এমন অবস্থানের মধ্যেই সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই আইন বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি তাদের। বিশেষ করে সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের তেমন উচ্চবাচ্য না থাকা, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাম দলগুলোও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতকে দায়ী করে আসছে। তারা অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে তারা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ চুক্তির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।’’ ‘‘এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।’’ তিনি এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সংসদের বাইরে থাকা ধর্মীয় দলগুলোও এ চুক্তি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সব মিলিয়ে সামনে বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক ময়দান।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পথে বাজার পরিস্থিতি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার এ নিয়ে বাজার মনিটরিংসহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় এর প্রভাব বাজারের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট দমনে কোনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাতে পারে হাম

গত দুই মাসেরও বেশি সময়ে চলা হামে শিশুমৃত্যু অব্যাহত আছে। এটি পুরোপুরি কবে শেষ হবে এ নিয়ে কোনও সুখবর নেই। সরকার নানা পদক্ষেপের কথা জানালেও থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন আরও ৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৮৮ জন।

সম্প্রতি ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা বারবার অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে সম্ভাব্য টিকা সংকট এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে সেই সতর্কবার্তাগুলো মূলত উপেক্ষিতই ছিল।

যদিও সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে শিশুমৃত্যু থামছে না। অনেকের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব না থামাতে পারলে সরকারকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হতে পারে।

পুশ-ইন নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়লাভের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সামীন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিএসএফ-এর গুলিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ১ ‍জুন যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, এ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত ১ জুন ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। অনেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আর পরদিন ২ জুন তার নিজ জেলা ভোলাতেও ঘটেছে এমন ঘটনা।

অপরদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতও সরকারকে চাপে রাখতে নানা কর্মসূচি দিচ্ছে। দুই শক্তিকে সরকার কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে তা দেখার বিষয়।

কীভাবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা?

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। হত্যা, ধর্ষণ ও মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশেও নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। জুনের মধ্যেই সরকার পড়তে পারে আর্থিক সংকটে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তথাকথিত বিরোধী দল জামায়াত যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সেটাও এক ধরনের অশনি সংকেত। এর বাইরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাও সরকারকে এক ধরনের চিন্তায় ফেলেছে। তারাও হয়তো ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আগামী দিনে এসব বিষয় মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমনটি হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন সরকার-প্রধান।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘‘সরকার কোনও কিছুই সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আর ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির খবর সামনে আসছে। তাই সরকার-প্রধানের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। আশা করি তার যোগ্য নেতৃত্বে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’’

Ads small one

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইতিপূর্বে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই জোটকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকার পক্ষ থেকে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের যে স্বাধীন ও সুষম পররাষ্ট্রনীতি, তার আলোকেই এই জোটে অংশগ্রহণের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত লাভ-ক্ষতি গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ হলো “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। একটি বহুজাতিক সামরিক বা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই নীতিনির্ধারণী ভিত্তিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

‎এ ধরনের চুক্তিতে সরাসরি যোগ দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে ধারণা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, যেখানে মক্কা চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো ‘একজনের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংঘাতের জটিলতায় জড়িয়ে বাংলাদেশের সৈন্যদের অন্য দেশের যুদ্ধে নিয়োজিত করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সাথে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স এবং বিভিন্ন প্রধান শক্তির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক। কোনো সামরিক ব্লকে জড়ানোর ফলে যদি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

আঞ্চলিক পরাশক্তি, সামরিক বাজার ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ
‎দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান এবং শক্তিশালী সামরিক প্রবিধিসম্পন্ন তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের যেকোনো সামরিক সম্পৃক্ততা প্রতিবেশীদের দৃষ্টিতে একটি নতুন কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের সীমানা সংলগ্ন অঞ্চলে কৌশলগত চাপ বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে ঢাকার পথ জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উদীয়মান প্রসার ও বাণিজ্যিক স্বার্থও এখানে স্পষ্ট। তুরস্কের সামরিক আধুনিকায়ন প্রকল্প ‘ঋড়ৎপবং এড়ধষ ২০৩০’-এর আওতায় তাদের আধুনিক ড্রোন, প্রযুক্তিসম্পন্ন নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার হতে পারে।

‎বৈশ্বিক মঞ্চে ইতিবাচক কূটনীতি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবকেই পুনর্ব্যক্ত করে। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বর্ধিত দরকষাকষির ক্ষমতাকে সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সুষম কূটনীতির কাজে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪টি দেশের ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ওই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি বাণিজ্যিক নিরাপত্তা দেওয়া, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে, সরাসরি কোনো বহুজাতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়া ভিন্ন হিসাব-নিকাশের বিষয়।

‎বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা
‎১. অর্থনৈতিক রূপরেখা: মক্কা চুক্তির মতো জোটে যোগ দিলে স্বল্পমেয়াদে সৌদি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললেও, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে জ্বালানি আমদানির খরচ ও শিপিং বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণœ রাখা।

‎২. ত্রিমুখী কৌশলগত ভারসাম্য (ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র): বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সফলভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঢাকার এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
‎৩. জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ভূমিকা: সরাসরি কোনো সামরিক বলয়ে না গিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের মধ্যস্থতাকারী ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী ভাবমূর্তিকে জোরদার করা প্রয়োজন। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা।

 

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

সংবাদদাতা: চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে ফেসবুকে সরব হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত ২৪ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে শ্যামনগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট দেন। চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্যামনগরবাসীকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ‘দুবারের সফল চেয়ারম্যান’ হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মুখরোচক অপপ্রচার’ প্রতিপক্ষের ‘কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল’। তিনি ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

তবে যে মামলায় হাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন, সেই মামলার এজাহারে চাঁদা দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ রয়েছে। হাজী নজরুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর এবং তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডল ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে গত ১০ আগস্ট তাঁরা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই হাজী নজরুলের পক্ষে ফেসবুকে সরব হন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তার বক্তব্যে চেয়ারম্যানের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফলে চাঁদাবাজির মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে যাওয়ার পর এবার তার দায়িত্বে প্রশাসক বসানোর মধ্য দিয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার নতুন ব্যবস্থা করা হলো।

 

 

শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার জসনে জুলুস এর আয়োজনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে শ্যামনগরে উপজেলা জসনে জুলুস এর র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন মাস্টার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (হেলাল)। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা বেলাল হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভাপতি বক্তব্য শুরুতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নবী প্রেমিক মুসল্লীদেরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জসনে জুলুস এর উপর গুরুত্বারোব করে এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বলেন, অত্র সংগঠনটি একটি অ-রাজনৈতিক সংগঠন।

 

হুজুর পাক (সাঃ) এর আবির্ভাবের মূহুর্তে সমগ্র সৃষ্টিকুলের মধ্যে যে জাগরণ, শিহরণ ও উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছিল সেই দিনের অনুসরণে নবী প্রেমিকদের নিয়ে র‌্যালি, যাহা জসনে জুলুস র‌্যালী নামে আখ্যায়িত।

 

এই র‌্যালী অনন্তকাল ব্যাপী জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ। সভায় হায়বাতপুর শেখ পাড়া জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও খায়রিয়া আজিজিয়া ফাউন্ডেশনের সুজগ্য সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোস্তাক আহম্মাদ জসনে জুুলুস উদযাপন সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করার জন্য উপস্থিত সকলকে পরামর্শ পদান করেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলা ব্যাপী বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন থেকে র‌্যালী সহকারে উপজেলা ঈদগাহ ময়দানে আলোচন সভায় মিলিত হয়।