বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের তিন মাস পরই দেশে এক ধরনের অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্তে পুশ-ইন ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সরকারবিরোধী ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় সরকারকেও ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে’’— সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের পরই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি আসলে কোনও বিপদের ইঙ্গিত দিলেন? আসলে ভেতরের খবর কী? সামনে কী হচ্ছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সামনে আসছে।

জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কোনদিক থেকে এমনটি বলেছেন জানি না। তবে দেশের সামগ্রিক অবস্থা কিছুটা জটিলই বলা যায়। অর্থনীতি ভালো নেই, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা, আইএমএফ’র ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না, ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টিও সরকারকে চাপে ফেলেছে।

অপরদিকে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা নিয়েও এক ধরনের উদ্বিগ্নতা কাজ করছে প্রশাসনে। এসব বিষয় হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে ভাবাচ্ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিতে পারেন।’’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ১০০ দিনের মাথায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মূল্যায়ন করেছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন শঙ্কাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’’

গত ৩১ মে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা

সামনে দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস সরকারের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার-প্রধান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রসাধন করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসি না চালানো, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে মিতব্যয়িতা, বিপণিবিতান খোলা রাখার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে সামনের আরও কঠিন সংকট মুহূর্তের শঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতও টালমাটাল। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি নেই। জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে গ্রাহক-শেয়ার হোল্ডারদের আন্দোলন। এমনকি সংঘর্ষ-গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংকটেরও সমাধান সহসা হবে কিনা বলা কঠিন। ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মার্চে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এপ্রিলে আবার ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়। এ নিয়েও শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে চরম আর্থিক সংকট সরকারকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয় গত ২৭ মে। তবে এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

সারা দেশে হত্যা, চাঁদাবাজি, গণপিটুনি, চুরি-ছিনতাই ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা খুব একটা কমেনি। এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা নতুন করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অপরাধবিরোধী অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসছে। এর বাইরে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। মাজারে হামলা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি মিরপুরে শাহ আলী মাজারে উগ্রবাদী হামলায় মারধরের শিকার হন ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সংস্কার এবং বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন চাপ

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

আলোচনা আছে, সেই সময়ে চুক্তির আয়োজন ও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা—এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। গত ৪ মার্চ এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই চুক্তিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতি ছিল।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।’’ যদিও তা অস্বীকার করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে তার দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেও এই সরকারের অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

এই চুক্তি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এমন অবস্থানের মধ্যেই সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই আইন বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি তাদের। বিশেষ করে সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের তেমন উচ্চবাচ্য না থাকা, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাম দলগুলোও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতকে দায়ী করে আসছে। তারা অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে তারা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ চুক্তির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।’’ ‘‘এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।’’ তিনি এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সংসদের বাইরে থাকা ধর্মীয় দলগুলোও এ চুক্তি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সব মিলিয়ে সামনে বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক ময়দান।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পথে বাজার পরিস্থিতি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার এ নিয়ে বাজার মনিটরিংসহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় এর প্রভাব বাজারের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট দমনে কোনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাতে পারে হাম

গত দুই মাসেরও বেশি সময়ে চলা হামে শিশুমৃত্যু অব্যাহত আছে। এটি পুরোপুরি কবে শেষ হবে এ নিয়ে কোনও সুখবর নেই। সরকার নানা পদক্ষেপের কথা জানালেও থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন আরও ৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৮৮ জন।

সম্প্রতি ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা বারবার অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে সম্ভাব্য টিকা সংকট এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে সেই সতর্কবার্তাগুলো মূলত উপেক্ষিতই ছিল।

যদিও সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে শিশুমৃত্যু থামছে না। অনেকের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব না থামাতে পারলে সরকারকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হতে পারে।

পুশ-ইন নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়লাভের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সামীন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিএসএফ-এর গুলিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ১ ‍জুন যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, এ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত ১ জুন ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। অনেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আর পরদিন ২ জুন তার নিজ জেলা ভোলাতেও ঘটেছে এমন ঘটনা।

অপরদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতও সরকারকে চাপে রাখতে নানা কর্মসূচি দিচ্ছে। দুই শক্তিকে সরকার কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে তা দেখার বিষয়।

কীভাবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা?

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। হত্যা, ধর্ষণ ও মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশেও নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। জুনের মধ্যেই সরকার পড়তে পারে আর্থিক সংকটে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তথাকথিত বিরোধী দল জামায়াত যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সেটাও এক ধরনের অশনি সংকেত। এর বাইরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাও সরকারকে এক ধরনের চিন্তায় ফেলেছে। তারাও হয়তো ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আগামী দিনে এসব বিষয় মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমনটি হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন সরকার-প্রধান।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘‘সরকার কোনও কিছুই সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আর ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির খবর সামনে আসছে। তাই সরকার-প্রধানের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। আশা করি তার যোগ্য নেতৃত্বে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’’

Ads small one

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে

পত্রদূত রিপোর্ট: বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণ করে দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।
সাতক্ষীরায়ও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আজ সংবাদপত্রের প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাওহিদ, ন্যায়, সত্য, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ইসলামের শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী মানবসমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনা (রা.)-কেও হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর চরিত্রে সততা, আমানতদারি, সংযম ও উত্তম নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। এ কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে অভিহিত করেন।

মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় সংঘাত, হিংসা, অন্যায় ও বৈষম্য তখন সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন।

চল্লিশ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, অন্যায় ও বৈষম্য পরিহার করে ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেন।

মক্কার জীবনে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মদিনার সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সহাবস্থান, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রায় ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা রয়েছে। তাঁল আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে আজকের দিনেও।
মহানবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর ঘটনা। তাঁর সাহাবিদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর পার্থিব জীবনের অবসান তাঁদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকে নফল রোজাও রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ-মাহফিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার রইচপুরে জশনে জুলুস র‌্যালি
সাতক্ষীরার রইচপুরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে জশনে জুলুস র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৬ শে আগস্ট বুধবার সকাল ৬টায় রইচপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাতক্ষীরার রইচপুর আব্দুর রাজ্জাকের মোড় থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি সাতক্ষীরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে রইচপুর রাজ্জাকের মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আশেকে রসূল মাহবুব আলম, আলিপুর বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. আজগার আলী এবং সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বাইতুল মামুর জামে মসজিদ (রইচপুর পশ্চিম পাড়া)-এর ইমাম ও খতিব হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ।

দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশন
সাতক্ষীরার দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মদনমোহন পাল সভাপতিত্ব করেন।
বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক মৌলভী শিক্ষক মোঃ সিরাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ছিদ্দিক আহম্মেদ, মোঃ আব্দুল্লাহ, আশরাফুজ্জামান, তাছলিমা পারভীন, রোজী সুলতানা, ফজলুল হক, বৈদ্যনাথ মন্ডল, চিরঞ্জিব ঘোষ, আলমগীর রহমান, জাকির হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়
সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবতার শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সেলিমুল ইসলাম, শিক্ষক নাজমুল লায়লা, তৈবুর রহমান, কবীর আহমেদ, এম এম নওরোজ, শামীম পারভেজ, মো. সিরাজুল ইসলাম, বেগম রোজিনা বুলু, লিপিকা রানী মন্ডল, আমিনা খাতুন, বিপাশা রানী, পূর্ণ্যদেব পাল, তন্দ্রা মল্লিক প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মো. আকারুজ্জামান। আলোচনা শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে হাম-নাত প্রতিযোগিতা, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনের উপরে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯ টায় কলেজের হলরুমে এ আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ফেরদৌস আরেফীন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চীপ ইন্সট্রাক্টর রঞ্জন কুমার সরকার, চীপ ইন্সট্রাক্টর মো. আনিসুর রহমান, ইনসট্রাক্ট মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তফা বাকি বিল্লাহ, মো. শরিফুল ইসলাম, মুস্তাকিন ইজাজ রসুল, আসাদুজ্জামান, আসমাতুল্লাহ, রেজওয়ানা সুলতানা, মিফতাহুল জান্নাত, স্বপ্না রানী ঘোষ, ধর্ম শিক্ষক মাওলা রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ।

 

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ১৪৪৮ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও কর্মে রয়েছে মানবতা, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য শিক্ষা।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও চরিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

সংবাদদাতা: ঢাকার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার কৃতী ক্রীড়াবিদ তৌফিকুজ্জামান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এম আব্দুর রউফের ছেলে।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন সহনশীলতাভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় এমটিভি ক্যাটাগরিতে সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তৌফিকুজ্জামান।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন, শারীরিক সক্ষমতা, আত্মনিবেদন ও দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তৌফিকুজ্জামান এ সাফল্য অর্জন করেন।
এর আগে একই প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৫ সালে প্রথম রানারআপ হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। ধারাবাহিক এই সাফল্যে সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৌফিকুজ্জামানের এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তৌফিকুজ্জামান বলেন, এই অর্জন শুধু আমার নয়; এটি আমার পরিবার, কোচ ও সকল শুভাকাঙ্খীর। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আমি নিরলস পরিশ্রম করে যাব।