কোর্ট ফি জালিয়াতি মামলার পুন:তদন্তভার সিআইডিতে
সংবাদদাতা: কোটি কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূল হোতা সাতক্ষীরার তালা সহকারী জজ আদালতের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. সিরাজুল ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা, অপরাধ ও তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েও পরবর্তীতে বিচারক বিলাস ম-লের খাসকামরায় গিয়ে অস্বীকৃতি জানান। গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় বসবাস করছেন।
২০২১ সালের ১ জুলাই সদর থানায় কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তাদার মমতাজ বেগমের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই বছরের ২৯ এপ্রিল একটি মামলায় দুটি ক্রমিকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকার জাল কোর্ট ফি দাখিল করা হয়। ট্রেজারি অফিসের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই ফি ট্রেজারি থেকে উত্তোলন করা হয়নি।
মামলাটির পর পুলিশ আইনজীবী সহকারী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানান, স্ট্যাম্প ভেন্ডর রাজীবুল্লাহর কাছ থেকে ওই ফি কেনা হয়, যা রাজীবুল্লাহ তার দুলাভাই পিয়ন সিরাজুলের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সিরাজুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দিলেও তদন্ত কর্মকর্তা তাকে খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পরোয়ানা জারির পর গত ২০ মে সিরাজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৭ আগস্ট আদালত মামলাটি পুনরায় ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করার জন্য সিআইডি সাতক্ষীরাকে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করেন।
এদিকে ২০০৪ সালে নৈশপ্রহরী হিসেবে ১,৫০০ টাকা বেতনে যোগ দেওয়া সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে অফিস সহায়ক হিসেবে ১৯,৩২০ টাকা বেতন পান। তবে গত কয়েক বছরে তিনি ৪৫ লাখ টাকায় জমি কিনে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ, ২৫ কাঠা জমি ক্রয়সহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর এমন অস্বাভাবিক আয়ের উৎস নিয়ে শহরজুড়ে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









