সম্পাদকীয়
সাতক্ষীরায় শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিপজ্জনক আসক্তিতে পথ হারাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছে কিভাবে এই ভয়াল নেটওয়ার্ক জেলাজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং অবৈধ মাদকের অবাধ প্রবাহের সুযোগে কেবল প্রাপ্তবয়স্করাই নন, কিশোরেরা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া ও মাদকের নীল চক্রে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনজীবনে; আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ।
মাদক ও অনলাইন জুয়া কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে না, তা একটি পুরো পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করে সামাজিক কাঠামো ভেঙে দিচ্ছে। এসব অনৈতিক অভ্যাসের টাকা জোগাড় করতেই অপরাধের পথে নামছে আসক্ত যুবকেরা, যার ফলে সাধারণ মানুষকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। জেলাজুড়ে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অপরাধপ্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখনই কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
এই সংকট নিরসনে সামাজিক ও প্রশাসনিক উভয় স্তরেই জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদক সরবরাহকারী ও অনলাইন জুয়ার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকায় শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গড়ে তোলা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করবে।
তবে কেবল আইন প্রয়োগ করেই এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তরুণদের মেধা ও শক্তিকে সুস্থ ধারার শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকা-ে যুক্ত করতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে বা ডিজিটাল মাধ্যমে কী করছেÑসে বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার হাত থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।